'পাশের বাড়ি'র সেই মিষ্টি মেয়ের কথা মনে পড়ে? পর্দায় যাঁর লাজনম্র উপস্থিতি কাঁপন ধরিয়েছিল সে সময়ের তরুণদের হৃদয়ে। করেছিল ক্ষত বিক্ষত রক্তাক্ত! দিয়েছিল তছনছ করে বৈশাখী ঝড়ের মতো স্বপ্নময় মুহূর্তগুলো। জ্বি, সাবুদি'র কথা বলছি!
বাঙালকন্যা অভিনেত্রি সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৭ সালে কুমিল্লার কামালপুরে।
তবে তাঁর শৈশব কেটেছে ঢাকার কমলাপুরে। পিতা শশধর চট্টোপাধ্যায় ছিলেন তৎকালীন ফুলবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার। দশ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। কোনো ভাই ছিলনা তাঁর।
১৯৪৭ এর দেশভাগের পর কপর্দকশূন্য অবস্থায় পাড়ি জমান কলকাতায়। আশ্রয় পান আরেক বিখ্যাত বাঙাল অভিনেতা ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে।
ছিল না ভালো একটা পরনের শাড়ি। ছিলনা ভদ্র সমাজে চলার মতো একজোড়া পাদুকা। আদরের ছোট বোনের মতো ভালোবেসে সবকিছুরই যোগান দেন ভানু বন্দোপাধ্যায়। দেশি বলে কথা!
কলকাতার বাংলা ছবির রূপালি ভুবনে ভানু বাবুই হাত ধরে তাঁকে নিয়ে আসেন। পরিচয় করিয়ে দেন বিভিন্ন পরিচালক প্রযোজকদের সাথে।
১৯৫২ থেকে ২০২৩
সুদীর্ঘ সাত দশকের বেশি সময় ধরে কন্টকাকীর্ণ পথপরিক্রমায় সুনিপুণ অভিনয় দক্ষতা দিয়ে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় যে বাংলা ছবিকে বহুলাংশে সুসমৃদ্ধ করেছেন তা দ্বিধাহীন চিত্তেই বলা যায়। তিনি অনেক দিয়েছেন বাংলা ছবিকে। পেয়েছেনও বিস্তর।
উত্তম-সাবিত্রীর পর্দা রসায়ন ছিল দেখবার মতো। যা আজও বাংলা ছবির দর্শকদের এক নস্টালজিয়ায় মোহাবিষ্ট করে রাখে। 'শেষ অঙ্ক' কিম্বা 'মরুতীর্থ হিংলাজ' এর কথা কি ভুলবার মতো?
২০১৪ সালে ভারত সরকার তাঁকে 'পদ্মশ্রী' উপাধিতে ভূষিত করেন।
অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র সমুহ - হেমলক সোসাইটি, পদক্ষেপ, তপস্যা, হারজিত, বাহাদুর, আনন্দলোক, মামণি, ব্রজবুলি, ফুলশয্যা, হীরে মাণিক, সেই চোখ, মৌচাক, শেষ পর্ব, ধন্যি মেয়ে, মাল্যদান, প্রথম প্রতিশ্রুতি, নিশিপদ্ম, অন্তরাল, কলঙ্কিত নায়ক, মঞ্জরী অপেরা, পথে হল দেখা, গৃহদাহ, কাল তুমি আলেয়া, জয়া, মোমের আলো, শেষ অঙ্ক, উত্তরায়ণ, নব দিগন্ত, দুই ভাই, কুহক, রাজসজ্জা, হাত বাড়ালেই বন্ধু, ডাক্তারবাবু, গলি থেকে রাজপথ, পূণর্মিলন, মরুতীর্থ হিংলাজ, ডাকহরকরা, দানের মর্যাদা, নবজন্ম, পরাধীন, রাত ভোরে, রাইকমল, গোধূলি, পরেশ, উপহার, অন্নপূর্ণার মন্দির, অনুপমা, বিধিলিপি, ব্রতচারিণী, কাজরী, চাঁপাডাঙ্গার বৌ, কল্যাণী, সুভদ্রা, লাখ টাকা, নতুন বৌদি, বসু পরিবার, পাশের বাড়ি প্রভৃতি।
ফেসবুক পরিবারের পক্ষে চিরকুমারী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের জন্য রইল শুভ কামনা আজকের এই বিশেষ দিনটিতে।