চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশে কৃষকের পরিমাণ এখন অনেক কমে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে কর্পোরেট খামার। কৃষকের সমস্যার শেষ নাই। কৃষক পরিণত হয়েছে ভূমিহীন ক্ষেতমজুরে। এমন প্রেক্ষাপটে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার সাম্প্রতিক আন্দোলন কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছে। কিন্তু কৃষি ও কৃষককে বাঁচাতে বাস্তব পদক্ষেপ দরকার। শোষণ ও বৈষম্যহীন সমাজ না হলে এ অবস্থা থেকে কৃষক বের হতে পারবে না।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির কৃষক সমাবেশে বক্তরা এসব কথা বলেন। রবিবার(৫জানুয়ারী) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর পার্কে সংগঠনের জেলা কমিটি আয়োজিত কৃষক সমাবেশে বক্তরা এ সব কথা বলেন। কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবিদ হোসেন, সাবেক রাকসু ভিপি ও বরেন্দ্র আন্দোলন কমিটি সদস্য রাগীব আহসান মুন্না, জেলা কমিটি সহ-সভাপতি আবু হাসিব, হাসান আলী শেখ, ক্ষেত মজুর সমিতি নেতা মফিজুল হক, জেলা সিপিবি সভাপতি ইসলাইল সেন্টু, কৃষক তৌফিকুল ইসলাম,শরিফুলাহ গেদু প্রমুখ। সমাবেশ শুরুর আগে লাল পতাকা হাতে কৃষকদের একটি মিছিল নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মোড় থেকে বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে সমাবেশে অংশ নেয় ও সমাবেশ শেষে পূনরায় একই স্থানে মিছিল কওে ফিরে যায়।
সংগঠনের জেলা কমিটির সম্পাদক মিলন পালের সঞ্চালনায় বক্তরা বলেন, স্বৈরাচারের বিদায়ের পর এই সরকারের কাছে চাওয়ার আছে অনেক কিছুই। সবার আগে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নাগালের মধ্যে আনতে হবে। সমিতি কৃষকের সমস্যা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে সরকারের নিকট সমাধানের দাবি জানিয়ে যাচ্ছে। আমুল ভূমি সংস্কারসহ দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে ফসলের নায্যমূল্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা। প্রকৃত কৃষককে কৃষিকার্ড দেয়া। ইউনিয়ন পর্যায়ে ফসলের সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে চালু করা,পল্লী রেশন, কৃষি বীমার প্রসার, কৃষক সমবায় বাজার চালু এখন সময়ের দাবি।
বক্তরা আরও দাবি জানিয়ে বলেন,হাট-বাজার ইজরারা দেয়া যাবে না। হাওর ও উপকুলে টেকসই বাঁধ নির্মাণ,প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে বনায়ন, প্রকৃত মৎসজীবীদের জলাশয়ে অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। সার,বীজ,সেচ,কীটনাশকসহ কৃষি উপকরনের দাম কমাতে হবে। নির্ধারিত দামেই সারের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। বরেন্দ্রাঞ্চলে সেচ অপারেটর নিয়োগে অনয়িম,দূর্নীতি বন্ধ করতে হবে। সেচের পানি বিতরণে অপারেটরদের দ্যেরাত্ম থামাতে হবে। নদী,খাল, জলাশয় সংস্কার করে কৃষকদের পানির অবাধ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বরেন্দ্রাঞ্চলে বিদ্যৎ চাহিদা পূলণ করতে হবে প্রভৃতি।