ঢাকায় ১০০ পয়েন্টে সীমিত লাভে ডিম মুরগি ও কৃষিজাত পণ্য ন্যায্য মূল্যে বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
,আজ ০৪ জানুয়ারি ২০২৫, রোজ: শনিবার, সকাল ১১ ঘটিকায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, নসরুল হামিদ মিলনায়তন, হলে বাংলাদেশ পোল্ট্রি এসোসিয়েশন (বিপিএ ) এর উদ্দেগে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। আসছে আগামী রমজান মাসে ডিম মুরগির বাজারে স্বস্তি রাখতে, বিপিএ এর সার্বিক সহযোগিতায় ভোক্তা ও উৎপাদকের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে, ঢাকায় ১০০ পয়েন্টে সীমিত লাভে ডিম মুরগি ও কৃষিজাত পণ্য ন্যায্য মূল্যে বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এ কার্যক্রমে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।
কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর ফিড ও মুরগির বাচ্চার সিন্ডিকেটের কারণে ডিম এবং মুরগির বাজারে মাঝে মাঝে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়,। বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পে কর্পোরেট গ্রুপ ও প্রান্তিক খামারিদের মধ্যে উৎপাদন খরচের বড় ধরনের বৈষম্য একটি অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।
প্রান্তিক খামারিরা যেখানে ডিম ও মুরগির ৮০% উৎপাদন নিশ্চিত করে, সেখানে কর্পোরেট গ্রুপের অবদান মাত্র ২০%। তবুও কর্পোরেট গ্রুপগুলোর কৌশলগত বাজার নিয়ন্ত্রণের কারণে প্রান্তিক খামারিদের টিকে থাকা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। প্রান্তিক খামারিদের উৎপাদন খরচ:,ডিম: ১০.৫০-১১ টাকা/পিস,ব্রয়লার মুরগি: ১৫৫-১৭০ টাকা/কেজিসোনালি মুরগি: ২৪০-২৬০ টাকা/কেজি কর্পোরেট গ্রুপের উৎপাদন খরচ: ডিম: ৮-৯ টাকা/পিস ,ব্রয়লার মুরগি: ১৩০-১৪০ টাকা/কেজিসোনালি মুরগি: ২০০-২২০ টাকা/কেজি ।
এই বৈষম্যের কারণে কর্পোরেট গ্রুপগুলো কৌশলগতভাবে দাম কমিয়ে বাজার দখল করে প্রান্তিক খামারিদের দুর্বল করে দিচ্ছে।
প্রান্তিক খামারিরা উচ্চ উৎপাদন খরচের কারণে লাভ করতে পারে না, ফলে তাদের অনেকেই ব্যবসা বন্ধ করে দিচ্ছে।সরকার ঘোষিত ডিম ও মুরগির উৎপাদক পর্যায়ের দাম যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে ভোক্তা পর্যায়ে যৌক্তিক দাম হবে: ডিম: ১৩ টাকা/পিসব্রয়লার মুরগি: ২০০-২১০ টাকা/কেজিসোনালি মুরগি: ৩০০-৩২০ টাকা/কেজিকিন্তু বর্তমান বৈষম্যের কারণে প্রান্তিক খামারিরা এই দামও পায় না, এবং কর্পোরেট গ্রুপগুলো কম দামে বিক্রি করে বাজার দখল করছে। প্রান্তিক খামারিরা দেশের পোল্ট্রি শিল্পের মেরুদণ্ড। যদি তাদের সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে কর্পোরেট গ্রুপ বাজারের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে।
যখন ডিম বা মুরগির দাম বৃদ্ধি পায়, তখন সারা দেশে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত হস্তক্ষেপও দেখা যায়। কিন্তু ফিড বা মুরগির বাচ্চার দাম বাড়লে কেন সরকার কোন ব্যবস্থা নেয় না? কেন তার প্রতিক্রিয়া থাকে না? ফিড ও বাচ্চার দাম বাড়লে এর সরাসরি প্রভাব প্রান্তিক খামারির উপর পড়ে তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পায় না এবং তাদের উৎপাদন খরচ বাড়তে থাকে। এই অস্থিরতার কারণে, খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হন, এবং তাদের জন্য টিকে থাকা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
ফলে, যখন খামারিদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায় এবং তারা এই খরচ তুলতে না পারলে, বাজারে আস্থাহীনতা এবং অস্থিরতা তৈরি হয়। এর ফলে, একদিকে যেমন পোল্ট্রি শিল্পের সংকট সৃষ্টি হয়, অন্যদিকে ছোট খামারিরা ব্যবসা থেকে সরে যায় এবং কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর আধিপত্য আরও বাড়ে। এই কর্পোরেট কোম্পানিগুলো তাদের বাণিজ্যিক লাভের জন্য বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করে, যার ফলে ডিম, মুরগি, ফিড এবং মুরগির বাচ্চার মূল্য অনেক বেশি হয়। যার ফলে ভোক্তারা বিপদে পড়েন এবং উৎপাদকদেরও ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। তাই বাজার থেকে সিন্ডিকেট মুক্ত করার লক্ষ্যে ভোক্তা এবং উৎপাদকের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে, প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার ঘোষিত ডিম মুরগি ন্যায্য দাম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ।
আসন্ন রমজান মাস উপলক্ষে ডিম এবং মুরগির বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে এবং বাজারে সঠিক দাম নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) উদ্যোগে স্মার্ট বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আগামী ১২ জানুয়ারি রবিবার থেকে ঢাকা শহরের ২০ পয়েন্টে এবং পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে ১০০পয়েন্টে সীমিত লাভে ডিম, ফ্রোজেন মুরগি এবং অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য ন্যায্য মূল্যে বিক্রয়ের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এছাড়া, বিপিএ এর সাপ্লাই চেইনে যুক্ত হবে দক্ষ ব্যক্তি ও উদ্যোক্তা যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া কিছু সংখ্যক স্মার্ট ছাত্র যারা কৃষি খাত এবং ভোক্তা-উৎপাদকের স্বার্থ নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। তাদের দক্ষতা এবং উদ্যমের মাধ্যমে এই উদ্যোগটি আরও কার্যকরী হবে, যা দেশের কৃষি খাতের উন্নতি এবং বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। আমরা সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি, যেন এই উদ্যোগটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে এবং ডিম-মুরগির বাজারে স্বস্তি নিশ্চিত করা যায়, পাশাপাশি দেশের কৃষক ও ভোক্তাদের জন্য সঠিক দাম নিশ্চিত করা যায়।
বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পে বর্তমানে একটি মারাত্মক সংকট চলছে, যার মূল কারণ হলো ফিড এবং মুরগির বাচ্চার বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব এবং কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া আধিপত্য। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোম্পানিগুলো প্রান্তিক খামারিদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে,।
ফিড মুরগির বাচ্চা উৎপাদনকারীদের এসোসিয়েশনগুলোর দিকনির্দেশনায় বাড়ে ফিড ও মুরগির বাচ্চার দাম সরকারকে তারা যা বলে তাই সরকার শুনে তাদেরকে সরকার সকল ধরনের সহযোগিতা করেন প্রান্তিক খামারিদের টিকিয়ে রাখার স্বার্থে অন্যদিকে সরকারের সহযোগিতা ভোগ করার পরেও প্রান্তিক খামারীদের জিম্বি করে ফিড ও মুরগির বাচ্চার কোম্পানিগুলো হাজার হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত মুনাফা করছে প্রান্তিক খামারীদেরকে উৎপাদন থেকে সরিয়ে পুরো শিল্পকে তাদের কব্জায় নিতে চাচ্ছে
ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন ও ব্রিডার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ এই দুই অ্যাসোসিয়েশন এবং ৮ থেকে ১০ টি শীর্ষ ফিড ও মুরগির বাচ্চা উৎপাদনকারী কোম্পানিকে কে সরকার ঠিকঠাক ভাবে তদারকি করলে ফিড ও মুরগির বাচ্চার বাজার এবং ডিম মুরগির বাজার আর কখনো অস্থির হবে না প্রান্তিক খামারিরা উৎপাদন থেকে সরে যাবে না সরকারকে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি প্রান্তিক খামারিদের টিকিয়ে রাখার স্বার্থে সকল সিন্ডিকেট ভেঙে দিন ডিম মুরগির বাজারে স্বস্তি আনুন ভোক্তাদের স্বস্তি দিন প্রান্তিক খামারীদের স্বার্থ রক্ষা করুন
কর্পোরেট কোম্পানি আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে ফিডের দাম বৃদ্ধি করেছে, কিন্তু এখন আন্তর্জাতিক বাজারে ফিডের দাম কমে আসলেও দেশের বাজারে তার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। যখন মুরগির বাচ্চা আমদানি করা হত, তখন দেশের বাজারে মুরগির বাচ্চার দাম ছিল কম, কিন্তু দেশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার পরেই কোম্পানিগুলো সিন্ডিকেট গঠন করে এবং দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।এই সিন্ডিকেটের কারণে দেশের প্রান্তিক খামারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, এবং একচেটিয়া কর্পোরেট গ্রুপগুলোর হাতে পুরো পোল্ট্রি বাজার চলে যাচ্ছে।
কোম্পানিগুলোর সিন্ডিকেটের হিসাব অনুসারে, দেশে বছরে ৮০ লক্ষ টন ফিড উৎপাদিত হয়। প্রতি কেজি ফিডে যদি ৫ টাকা অতিরিক্ত নেয়া হয়, তবে ১ টন ফিডে ৪,০০০ টাকা অতিরিক্ত মুনাফা হয়। এই হিসাব অনুযায়ী, ৮০ লক্ষ টন ফিডে কোম্পানিগুলো বছরে প্রায় ৪০০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত মুনাফা করছে। এছাড়াও, দেশে বছরে প্রায় ১০৪ কোটি মুরগির বাচ্চা উৎপাদিত হয়। প্রতিটি বাচ্চায় যদি ২০ টাকা অতিরিক্ত নেয়, তবে কোম্পানিগুলো খামারীদের কাছ থেকে বছরে প্রায় ২,০৮০ কোটি টাকা অতিরিক্ত মুনাফা করছে।
এইভাবে, কর্পোরেট কোম্পানিগুলো ফিড ও মুরগির বাচ্চায় বছরে প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত মুনাফা করছে।
এত বড় পরিমাণ অতিরিক্ত মুনাফা করার পরেও, কোম্পানিগুলো সরকারকে তাদের মনগড়া ক্ষতির গল্প শোনাচ্ছে। এই ধরনের অবস্থা শিল্পকে আরো বিভ্রান্তিকর এবং শঙ্কিত করে তুলবে। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হচ্ছে, যা দেশের খামারীদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।যেমন তারা উচ্চমূল্যে ফিড ও মুরগির বাচ্চা সরবরাহ করে, ফলে খামারিরা উৎপাদন খরচ পুষিয়ে উঠতে পারছেন না এবং তাদের ব্যবসায়িক টিকতে হুমকি সৃষ্টি হচ্ছে।
এটি শুধুমাত্র খামারিদের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির জন্যও বিপজ্জনক। যদি এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তবে পোল্ট্রি শিল্পের সংকট আরও প্রকট হবে, এবং আমাদের দেশের খাদ্য ব্যবস্থা এবং কৃষি খাতের টেকসই উন্নতি এবং এখাতে জড়িত পরোক্ষ প্রত্যক্ষভাবে ৫০ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে।
সরকারের উচিত, সরকারের নীতি নির্ধারক পর্যায় কর্পোরেট গ্রুপ সহ প্রান্তিক খামারীদের মতামত ও নেয়া প্রয়োজন । এক্ষেত্রে কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর ফিড মুরগির বাচ্চার সিন্ডিকেট ভেঙে প্রান্তিক খামারিদের জন্য একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি করা। ফিড এবং মুরগির বাচ্চার বাজারে দামের অস্থিরতা রোধ করতে সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধুমাত্র ডিম এবং মুরগির দাম বাড়লে নয়, বরং ফিড এবং মুরগির বাচ্চার দামও যদি বাড়ে, তাহলে সেক্ষেত্রে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ জরুরি।
একবার কর্পোরেটদের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে, তখন ডিম ও মুরগির দাম নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে যাবে। প্রান্তিক খামারিদের সুরক্ষায় এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সভাপতিত্ব করবেন সংগঠনের সভাপতি সুমন হাওলাদার , সহ সভাপতি বাপ্পি কুমার দে , সাধারন সম্পাদক ,মোঃ ইলিয়াস খন্দকার, যুগ্নসাধারণ সম্পাদক মোঃ কাউছার আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ইকবাল হোসেন , দপ্তর সম্পাদক মোঃ মেজবাউল হক কেন্দ্রীয় কমিটির সকল সদস্য সহ সকল জেলা উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক ডিম মুরগি উৎপাদন কারী প্রান্তিক খামারিরা উপস্থিত থাকবেন ।