চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল ও শিবগঞ্জ থানায় জঙ্গি সম্পৃক্ততায় ২০০৯ সালের সন্ত্রাস বিরোধী আইনে দায়ের দু’টি মামলায় ২০১৭ সালের ১০মে থেকে অদ্যবধি কারাভোগকারী হারুন অর রশিদ(৩৩) নামে এক ব্যাক্তির উভয় মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন হলেও তাঁকে মুক্তি দিচ্ছে না চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগার কর্তপক্ষ বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর পরিবার। অপরদিকে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,হারুনের জামিন আদেশ স্থগিত (স্টে) প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় তাঁকে মুক্তি দেয়া সম্ভব হয় নি।এ অবস্থায় হারুনের স্বজন ও বন্ধুরা রবিবার(২২ ডিসেম্বর) দুপুরে কারা ফটকে হরুনের মুক্তির দাবিতে উচ্চ স্বরে ¤েøাগান দেয়। তাঁরা মুক্তি না দেবার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ করেন। অন্যদিকে হারুনের দুই মামলার কাগজপত্র ঘেঁটে জানা যায়, তাঁকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াত উল মুজাহেদিন বাংলাদেশ-জেএমবি’র সক্রিয় সদস্য চিহ্নিত করে জঙ্গি সম্পৃক্ততায় গ্রেপ্তার করা হয়। শিবগঞ্জের মামলাটি পুলিশের সিসিটিসি ও বিশেষ বাহিনী সোয়াট পরিচালিত আলোচিত অপারশেন ঈগল হান্ট সংক্রান্ত মামলা যা ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল দায়ের করা হয়। এই মামলার এজাহারে হারুনের নাম না থাকলেও তাঁকে পরে সম্পৃক্ত করা হয়। অপরদিকে নাচোলের মামলায়(১২মে ২০১৭ সালে দায়ের) তিনি এজাহারনামীয় প্রধান আসামী। হারুন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল পৌর গুঠইল মহল্লার মৃত তাইফুর রহমানের ছেলে।
হারুনের স্বজনরা দাবি করেছেন,গত বৃহস্পতিবার(১৯ ডিসেম্বর) হারুনের জামিন সংক্রান্ত সকল কাগজ জেলা কারাগারে পৌঁছায়। কিন্তু তাঁকে সেইদিন মুক্তি দেয় নি কারা কর্তৃপক্ষ। পরিবারকে কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি গোয়েন্দা সংস্থার ক্লিয়ারেন্স না থাকায় তাঁকে মুক্তি দেয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় আবারও রবিবার(২২ ডিসেম্বর) সকাল থেকে দিনব্যাপী হারুনের স্বজন ও বন্ধুরা জেলা কারাগারের সামনে অবস্থান নেন। তাঁরা বিকালে কারা ফঠকের সামনের সড়কে নামাজ আদায় করেন ও পরবর্তী কর্মসূচী দেয়া হবে বলে সন্ধ্যায় কারাগার ত্যাগ করেন। হারুনের বড় বোন সাকিনা বেগম(৪০) ও তাঁর ছেলে (হারুনের ভাগিনা) জাকির হোসেন (১৮) দাবি করেন, হারুন নির্দোষ। তিনি সাধারণ কাপড় ব্যবসায়ী। তাঁকে এতদিন অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে। এখন জামিন হলেও ছাড়া হচ্ছে না। অপরদিকে হারুনের ছোট বোন রুমা খাতুন(২৫) বলেন, হারুনের দুই মামলার জামিনে মুক্তির সকল কাগজ কারগারে জমা দেয়া হয়েছে। বারবার জেল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেও জামিনের ৪ দিন অতিবাহিত হলেও হারুনের জামিন মিলে নি। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের সাথেও কথা বলা হয়েছে। তিনিও জামিন স্থগিতের বিষয়টি জানিয়েছেন। কিন্তু কেউ কোন কাগজ দেখান নি। রুমা হারুনের মুক্তির জন্য মূল ভূমিকা রাখছেন। এ ব্যাপাওে পরবর্তীতে কি করা যায় তা জানানো হবে বলেও জানান রুমা।
জেলা কারাগারের সুপার শরিফুল ইসলাম রবিবার সন্ধ্যায় বলেন, উচ্চ আদালতে হারুনের জামিন স্থগিত সম্পর্কিত প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় হারুনকে মুক্তি দেয়া যায় নি। এ ব্যাপারে যথাযথ উর্ধতণ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা রয়েছে। নতুবা উচ্চ আদালতের জামিন থাকায় তাঁকে মুক্তি না দেবার প্রশ্নই ওঠেনা। এদিকে এ ঘটনা নিয়ে দিনব্যাপী কারাগারে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও কারা কর্তপক্ষের কড়া নিরাপত্তা ছিল।