শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণই শিক্ষাক্ষেত্রে সকল সমস্যা সমাধানের উপায় বলে মত প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস)। আর তাই প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই খুদা কমিশন রিপোর্টের আলোকে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালিতি করে আসছে সংগঠনটি। সঙ্গত কারণেই মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষকদের কর্মসূচির প্রতি শুরু থেকেই নৈতিক সমর্থন দিয়ে আসছে বাকবিশিস। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিবৃতিতে এ মত প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের দাবীকে যৌক্তিক উল্লেখ করে বাকবিশিস নেতারা বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মণি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাতীয়করণের দাবীতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবিকে শিক্ষকদের একটি ক্ষুদ্র অংশের দাবি বলে মন্তব্য করেছেন, যা যথার্থ নয়। মূলত শিক্ষা জাতীয়করণের এ দাবী-মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক, বিজ্ঞানমনস্ক ও সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক সংগঠন বাকবিশিসসহ বাংলাদেশের প্রায় সকল শিক্ষক সংগঠনের প্রাণের দাবী। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় মূলধারার শিক্ষক সংগঠনের সাথে কিছু ভূঁইফোড় শিক্ষক সংগঠনকে নিয়ে মতবিনিময় সভায় বসে শিক্ষক লেতৃবৃন্দকে কোন আলোচনা করার সুযোগ না দিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে একপাক্ষিক বক্তব্য উপস্থাপন করায় দায়িত্বশীল মহলের কাছে জাতীয়করণ সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা দেওয়া সম্ভব হয়নি। সাংবাদিকদের সাথে আলোচনায় শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষক আন্দোলন ও এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের যোগ্যতা সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য উপস্থাপন করেছেন যা দুর্ভাগ্যজনক । শিক্ষা পরিবারের অভিভাবক হিসেবে তাঁর এধরণের বক্তব্য সমীচীন হয়নি বলে নেতৃবৃন্দ মনে করেন এবং এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
বাকবিশিস নেতৃবৃন্দ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর দল ক্ষমতায় থাকার ফলেই শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধিসহ শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব বলে আমরা বিশ্বাস করি। তারা এমপিওভূক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পাঁচ শতাংশ বিশেষ আর্থিক প্রণোদনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্ভূক্ত করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিক্ষা জাতীয়করণের লক্ষ্যে যে দুইটি কমিটি গঠন করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ঘোষণার মধ্যদিয়ে শিক্ষা জাতীয়করণের দাবীকে যেন হিমাগারে প্রেরণ করা না হয় সে জন্য কমিটি দুটিতে দেশের প্রতিনিধিত্বশীল শিক্ষক সংগঠনের প্রতিনিধি যুক্ত করার আহবান জানান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাব্যবস্থাকে জাতীয়করণের মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রে চলমান আন্দোলনসহ সকল অচলাবস্থা নিরসনের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।