মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬

বছর শেষে অর্ধসহস্র ডেঙ্গু রোগি হাসপাতালে,২৫ লক্ষ মানুষের জেলায় নেই আইসিইউ সাপোর্ট

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৪-১২-১০ ২০:৫০:২০

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
ঢাকা সহ দেশের অনেক স্থানের ন্যয় চাঁপাইনবাবগঞ্জেও ডিসেম্বরের শীতেও থেমে নেই ডেঙ্গুর প্রকোপ।তবে চিকুনগুনিয়া বা জিকা ভ্ইারাসের কোন খবর কোন সূত্রেই জানা যায় নি। এদিকে শুধু সরকারিভাবে বছরব্যাপী ডেঙ্গু রোগি শনাক্ত হয়ে ডিসেম্বরের শুরুতেই অর্ধসহস্র পার হয়েছে।  জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, বছরের প্রথম ৭ মাস  মোটামুটি ভাল কাটলেও গত মধ্য আগষ্ট থেকে জেলায়  সরকারিভাবে বেশি শনাক্ত হতে শুরু করে রোগি। ভর্তি হওয়া  শুরু  হয় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে। এছাড়াও বছররব্যাপী বর্হি:বিভাগে শনাক্ত হয়ে বাড়িতে বা অন্যত্র চিকিৎসা নিয়েছেন অনেকে। এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে শনাক্তদের মধ্যে শুধু জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিন শতাধিক। অন্যরা জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।  তবে জেলায় এখনও কেউ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যায় নি।
এদিকে ২৫ লক্ষ মানুষের জন্য জেলা হাসপাতাল বা জেলার কোন হাসপাতালেই এখনও নেই আইসিইউ সাপোর্ট। নেই সেল সেপারেটর মেশিন। রোগিকে প্রয়োজনে দেয়া যায় না প্লাটিলেট। ফলে হেমোরেজিক বা শক সিনড্রোমে আক্রান্ত্র কোন ডেঙ্গু রোগিকে জেলায় চিকিৎসা দেয়া সম্ভব নয়। রেফার্ড করতে হয়  রাজশাহী বা ঢাকায়।  শুধু ক্লাসিকাল ডেঙ্গু রোগির চিকিৎসা  জেলায় সম্ভব।
অপরদিকে জেলার বেসরকারি কয়েকটি হাসপাতালেও ডেঙ্গু শনাক্ত ও চিকিৎসার সুযোগ থাকলেও তাদের রোগি সংখ্যার পরিসংখ্যান পাওয়া যায় নি। তবে তারা যেন রোগি সংখ্যার হিসাব রাখে সেজন্য তাদের সমিতিকে বলা হয়েছে। এর বাইরে রয়েছে প্রাইভেট  চেম্বারে ডাক্তারের নিকট শনাক্ত হয়ে চিকিৎসা নেয়া রোগিরা। এদের সংখ্যা নির্ণয় অসম্ভব প্রায়। অনেকে সরাসরি রাজশাহী বা ঢাকা চলে যায়। জেলায় এডিসের লার্ভা বা মশা সংক্রান্ত কিছু তথ্য চলতি অক্টোবর মাসে প্রথম পাওয়া যায়। তখন থেকে স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হওয়া শুরু হয়। তবে হাসপাতালে  ভর্তি বেশিরভাগ রোগির তথ্য বিশ্লেষন করে জানা গেছে, বেশিরভাগেরই মূলত: ঢাকা বা দেশের অনান্য  অঞ্চল ভ্রমণের  ইতিহাস রয়েছে।
সিভিল সার্জন ডা.মাহমুদুর রশিদ বলেন, ডেঙ্গু ছোঁয়াচে রোগ নয়। তবে আক্রান্ত  ব্যাক্তিকে কামড়ানো মশা অন্য ব্যাক্তিকে কামড়ালে ডেঙ্গু হতে পারে। জেলা হাসপাতাল ছাড়াও জেলার  ৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু শনাক্ত ও চিকিৎসার ব্যবস্থাা রয়েছে।  জেলা হাসপাতালে ১৫ শয্যার ডেঙ্গু কর্ণার চালু রয়েছে। অনান্য সরকারি হাসপাতালে নির্ধারিত শয্যায়  মশারি টাঙ্গিয়ে রোগি রাখা হয়। পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে ডেঙ্গু চিকিৎসার মূল হাতিয়ার আইভি স্যালাইনের (ফ্লুইড)। প্রতিটি ৫০ টাকা  করে ফিস দিয়ে সরকারি সকল হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্তের ৩ প্রকার টেষ্টের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সকলের  ৩ ধরণের টেষ্টের দরকার হয় না। প্রতিটি হাসপাতালে টেস্ট কীটের  পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। প্লাটিলেট কাউন্ট রক্তের রুটিন সিবিসি টেষ্টেই করা যায়। তবে উপজেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে সেল কাউন্টার মেশিন  নেই। ফলে প্লাটিলেট কাউন্ট বাইরে থেকে করাতে হয়। মূলত: মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা  ডেঙ্গু রোগির চিকিৎসা দেন। জেলা হাসপাতাল ও জেলার ৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ধরণের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন। শুধু ভোলাহাট উপজেলায় নেই।
ডা.রশিদ আরও বলেন, জেলায় এখনও ডেঙ্গু  নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ডিসেম্বওে শনাক্ত সংখ্যা কমে আসছে বলে মনে হচ্ছে। যারা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন তাঁরাও অধিকাংশই ক্লাসিকাল ধরণের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। হেমোরেজিক বা শক সিনড্রোমে আক্রান্ত রোগি কম। জেলা থেকে হেমোরেজিক বা শক সিনড্রোমে আক্রান্ত কিছু রোগিকে এখন পর্যন্ত বাইরে রেফার্ড করতে হয়েছে মূলত: আইসিইউ সাপোর্ট না থাকার কারণে।
জেলা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা.মাসুদ পারভেজ বলেন,হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ,১০ শয়্যার নেফ্রোলজি  ও ২০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ডের (হাই ডিপেনডেন্সি  ইউনিট-এইচডিইউ) ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ প্রায় শেষ। এসব চালু হলে জেলায় চিকিৎসা ব্যবস্থার বড় উন্নতি হবে। তবে  এসব ইউনিট জনবল ও অনান্য লজিষ্টিক সাপোর্টসহ কবে চালু হবে তা  নিশ্চিত নয়। এ সব অবিলম্বে চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এগুলো দ্রæত চালু হওয়া দরকার বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গুর চিকিৎসা নেয়া জেলা শহরের মিস্ত্রীপাড়া মহল্লার ব্যবসায়ী রাায়হানুল ইসলাম লুনা(৫০),আরামবাগ মহল্লার  পোল্ট্রি ব্যাবসায়ী তহুরুল ইসলাম(৫০),সদর উপজেলার রাচন্দ্রপুরহাট এলাকার  উচ্চ মাধ্যধিক ২য় বর্ষের ছাত্র আকাশ(১৯) ও একই এলাকার ভ্যানচালক জিল্øুর রহমান(৭০) এবং তাদের অভিভাবকরা বলেন,তারা হাসপাতালের চিকিৎসা এবং ঔষুধ সেবা ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্ট। বেশিরভাগ টেষ্ট হাসপাতালেই করা হচ্ছে। খরচ সামাণ্য। চিকিৎসক নিয়মিত খোঁজ নেন বলেও তারা জানান। তবে কিছু টেষ্ট বাইরে ক্লিনিক থেকে করার কথা জানান তারা।  তবে রোগিদের সাথে কথা বলে বোঝা যায়, মানুষ সহজে জ¦র, অন্য উপসর্গ বা রোগের প্রাথমিক পর্য়ায়ে চিকিৎসা বা হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে চায় না।
সিভিল সার্জন সতর্ক থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপর জোর দিয়েছেন।  বিশেষ করে জেলা সদরের দিকে নজর দেবার কথা বলেছেন। তথ্য অফিস, ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে দিয়ে  মাইকিং থেকে শুরু করে লিফলেট বিতরণ, মসজিদে পর্যন্ত যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে সে ব্যাপারেও বলেছেন। ভবিষ্যতে আরও প্রতিরোধ প্রচারণার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।


এ জাতীয় আরো খবর