চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মোহাম্মদ আলীম আখতার খান বলেছেন, বিভিন্ন ধরণের দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত উর্ধগতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সময় লাগবে। এর জন্য ধৈর্য্য ধরতে হবে। সরকার এ জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু রাতারাতি দ্রব্যমূল্য কমানো সম্ভব নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাড়া কিছু দ্রব্যের মূল্য কমতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণে আসবে। ডিজি আরও বলেন, সকল দ্রব্য মূল্য আচমকাই বেড়ে যায় নি। দীর্ঘদিন যাবৎ এর প্রবণতা তৈরী হয়েছে। বিশেষ করে বিগত ১৬ বছরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানারকম সম্যসা তৈরি হয়েছে। বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে আসা এই সরকার সেগুলো দূর করতে কাজ করছে। তবে এসব দূর করতে কিছু সময় লাগবে। মনে রাখতে হবে,পরিবর্তনের ভাল ও মন্দ উভয় দিকই রয়েছে।
রবিবার (৩অক্টোবর) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলার আমদানী ও রপ্তানীকারক ব্যবসায়ী, স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, পরিবহন নেতৃবৃন্দ,ক্যাব ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় এ সব কথা বলেন ডিজি। তিনি বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি স্থলবন্দর সোনামসজিদ থাকায় ও সে পথে পেঁয়াজ,আলু,কাঁচা মরিচের মত পচনশীল নিত্যপণ্য নিয়মিত আমদানীর কারণে সেই বন্দর পরিদর্শন করা হয়েছে। ডিজি দেশের ও জেলার বাজার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন।
ডিজি বলেন,গত শনিবার(২ অক্টোবর) রাতে বন্দর সরেজমিনে পরিদর্শনকালে সংশ্লিস্টদের সাথে কথা হয়েছে যে আমদানীতে ও বন্দরে কি কি সমস্যা রয়েছে এবং কিভাবে কোনটির সমাধান করলে ভোক্তা পর্যায়ে ওইসব পণ্যের দাম আরও কমবে। রপ্তানী,পরিবহন ও বিপনণ ব্যবস্থার সমস্যা সম্পর্কেও খোঁজ নেয়া হয়েছে। আমদানীকৃত পেঁয়াজের মান, পেঁয়াজ পচে যাওয়া, পরিবহনে মধ্যস্বত্বভোগীদের হস্তক্ষেপ, সংরক্ষণাগার না থাকা, আমাদানীতে ডলার সংকট, বন্দরের অবকাঠামো সহ কিছু সমস্যা নিয়ে কথা হয়েছে। এখন এসব সমস্যা সমাধানে যতটুকু সম্ভব পদক্ষেপ নেয়া হবে। সাম্প্রতিক সময়ে ডিম ও চালের মূল্য বেড়ে যাওয়া এবং কৃষিপণ্যের আভ্যন্তরীন উৎপাদন ও মজুদ নিয়েও সভায় কথা বলেন ডিজি। আমদানীতে ব্যবসায়ীদের অনমতি নেয়া পদ্ধতির মাধ্যমে সৃষ্ট জটিলতার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। তিনি প্রয়োজনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন,বিশেষ ক্ষমতা আইন, কৃষিপণ্য মজুত আইন, অপরিহার্য পণ্য আইন প্রয়োগের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারেও কথা বলেন। তিনি জেলার রহনপুর রেলবন্দর আমাদনীর ক্ষেত্রে আরও কার্যকরের কথাও বলেন।
জেলা প্রশাসক আব্দুস সামাদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন ভোক্তা অধিকার পরিচালক ফকির মনোয়ার হোসেন, পুলিশ সুপার রেজাউল করিম,জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ডিডি পলাশ সরকার, সোনামসজিদ আমদানী রপ্তানীকারক গ্রæপ সভাপতি কাজী সাহাবুদ্দীন, সম্পাদক মামনুর রশিদ, সোনামসজিদ কাস্টমস সুপার মো. ইব্রাহীম, জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি সাইদুর রহমান,জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি সভাপতি আমিনুল ইসলাম সেন্টু, জেলা ক্যাব সভাপতি আব্দুর রহিম, চেম্বার পরিচালক শহিদুল ইসলাম, মুরগি ব্যবসায়ী মালিক সমিতি সভাপতি তরিকুল ইসলাম প্রমুখ।