শুক্রবার, মে ৩১, ২০২৪

ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন চালু হল

  • অমিত গোস্বামী
  • ২০২৪-০৩-২৬ ২৩:০০:২৬

ভারতে চালু হল নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন। জানি পশ্চিমবঙ্গ্বের শাসক দল বিরোধিতা করছে। কিন্তু আগে সবাই জেনে নিন এই আইনটি কী। 
এই আইনটি ১৯৫৫ সালে প্রণীত এবং ২০০৩ সালে সংশোধিত, তারপরে এবারে ফের সংশোধন। আগে দেখা যাক এতদিন অবধি চালু নাগরিকত্ব বিল কী ছিল ? এতদিন অবধি  নাগরিকত্ব আইনে চারভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার কথা বলা্ধিছিল, সেগুলি হল-
১) জন্ম-হেতু নাগরিকত্ব- ১৯৮৭ সালের ১লা জুলাইয়ের আগে এদেশে যাঁরা জন্মেছেন তাঁরা এদেশের নাগরিক। তার পরে জন্মালে ২০০৩-এর সংশোধনী লাগু হওয়ার আগে যাঁরা জন্মেছেন, তাঁদের বাবা-মায়ের একজন এদেশের নাগরিক হলে তবেই তিনি এদেশের নাগরিক। ২০০৩-এর সংশোধনীর পরে জন্মালে বাবা-মায়ের দুজনকেই নাগরিক হতে হবে।
২) বংশপরিচয়ে নাগরিকত্ব- যেসব ভারতীয়রা দেশের বাইরে যাচ্ছেন, তাঁদের সন্তানরা যাঁরা দেশের বাইরে জন্মাচ্ছেন জন্যেই মূলতঃ এই ধারাটি।
৩) নথিভুক্ত করণের দ্বারা নাগরিকত্ব- যাঁরা উপরের দুই ধারায় নাগরিকত্ব পেলেন না, তাঁরা একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ভারতে কাটানোর পর নিজেদের নাগরিক হিসেবে নথিভুক্ত করতে আবেদন জানাতে পারেন। এই ধারায় ভারতবাসীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া বিদেশি বা ভারতীয় বংশের বিদেশিরা কয়েকবছর দেশে থাকার পর নাগরিকত্ব পেতে পারেন।
৪) ন্যাচারাইজেশন- প্রাপ্তবয়স্ক, বৈধভাবে দেশে আসা বিদেশিরা ন্যাচারালাইজেশনের জন্য আবেদন করতে পারেন, যেই আবেদনের ভিত্তিতে সরকার তাঁকে ন্যাচারাইজেশনের সার্টিফিকেট দেবেন। সেই ন্যাচারাইজেশনের ভিত্তিতে তিনি নাগরিকত্ব পেতে পারে।
এইবার দেখি বর্তমানে প্রবর্তিত নাগরিকত্ব সংশোধনীর আইনটি। এই আইনবলে ২০১৪র ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে (এটা হয়ত ২০১৯ হতে চলেছে) বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টধর্মালম্বী যাঁরা ভারতে এসেছেন, তাঁদের আর অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গণ্য করা হবে না। এবং তাঁরা মূল নাগরিকত্ব আইনের ধারা মেনে নথিভুক্তিকরণ বা ন্যাচারেলাইজেশনের মাধ্যমে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। 
এই আইন প্রসঙ্গে তিনটি জিনিস লক্ষ্যণীয়।
১) ভারতের সীমানায় থাকা তিনটি মুসলিম দেশ থেকে অমুসলিম শরণার্থীদের এই অধিকার দেওয়া হল
২) এতদিন অবধি এঁদের 'অবৈধ অনুপ্রবেশকারী' গণ‍্য করা হচ্ছিল, যা এখন থেকে রদ করা হল
৩) এঁদেরকে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে হবে। আসাম সংশোধনীতে উল্লেখিত ১৯৬৫-র ডিসেম্বরের  মতন কোনও একটি ভিত্তিবর্ষ থেকে এঁদের নাগরিকত্ব স্বতঃসিদ্ধ বলে ধরা হবে না।
১৯৫০ থেকে পাকিস্তান সরকারের বাঙালি বিরোধী নীতির ফলে এবং শেষে ১৯৭১-এ গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বাংলাদেশ থেকে অসংখ্য শরণার্থী ভারতে ঢুকতে থাকেন। ১৯৫১ সালের সেনসাস অনুযায়ী ২৫ লক্ষ ছিল পূর্ব পাকিস্তান থেকে উদ্বাস্তু ভারতে আসেন। আরও ৫০ লক্ষের মতন ১৯৫১-১৯৭১ পর্যায়ে। অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে শরণার্থী আসা এক অব্যাহত প্রক্রিয়া থেকেছে। এটা চরম দুর্ভাগ্যের বিষয়, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আইনে এঁদের সুরাহা এতদিন করা হয় নি। এবার কীভাবে হবে?
১) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী এদের যে কোন একটি প্রমাণপত্র – ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, রেশন কার্ড, জন্মের প্রমাণপত্র থাকলেই হবে। যদি কিছুই না থাকে তিনজন নাগরিকের শংসাপত্র যারা লিখবেন যে এই ব্যক্তি ৫ বছরের বেশি এই দেশে আছেন। এটুকু থাকলেই তিনি নাগরিক।
২) বিরোধীরা বলছেন যে নাগরিকত্বের বিষয়টি যে সব তথ্যের ওপর নির্ভর করছে, তার অনেক কিছুই সাধারণ গরিব মানুষের পক্ষে জোগাড় করা সহজ হবে না যা সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রচার। 
৩) এবারে আসি ধর্মীয় বিভাজনের প্রশ্নে। এই আইনের সাথে ভারতীয় কোন নাগরিকের ধর্মপরিচয়ের সাথে কোন যোগাযোগ নেই। কোন ভারতীয় মুসলমান নাগরিকের নাগরিকত্ব কোনভাবেই এই আইনের ফলে প্রভাবিত হবে না। 
কাজেই এই আইন অবশ্যই নাগরিকত্ব পাওয়ার আইন, কোন ভাবেই নাগরিকত্ব কাড়ার নয়।


এ জাতীয় আরো খবর