মঙ্গলবার, আগস্ট ১৮, ২০২৬

বালি উত্তোলন বন্ধ হলে পর্যটন শিল্পে ও স্থল বন্দর আদলে দুর্গাপুর হবে উন্নত জনপদ

  • এম.এন আলম
  • ২০২৪-০৩-০৬ ২১:৩১:২৩

নেত্রকোনা জেলার ভারতের মেঘালয় সীমান্তের গাঁ ঘেষে গারো পাহাড়ের পাদদেশে সবুজ বৃক্ষারাজির অপার সৌন্দর্যের লীলাভুমি এই দুর্গাপুর উপজেলা । প্রাকৃতিক বৈচিত্রে ভরপুর এমন নয়নাবিরাম বিরিশিরি, দুর্গাপুর, শিবগঞ্জ - এই তিনটি আদা শহর উপজেলা সদরের পৌরসভার  প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হলেও তিনটি গুরুত্বপুর্ন  বাজার সোমেশ্বরী নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন ও আলাদা। মুসলিম, হিন্দু, খ্রীস্টান, হাজং, হদি ও বানাইসহ বহুজাতি গোষ্ঠীর মেলবন্ধনে এক অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সম্প্রীতির বন্ধনে দীর্ঘকালধরে গড়ে উঠেছে -এক ভালবাসার বশ’তি । উজান থেকে বয়ে আসা সোমেশ্বরী নদী কুল্লাগড়া ইউনিয়নের বিজয়পুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে দুর্গাপুর উপজেলার মাত্র 24 বর্গ কিলোমিটার আয়তনের পৌরশহরকে তিনটি খন্ডে বিভক্ত করেছে । দুর্গাপুর - বিরিশিরি’র সংযোগ স্থলে সেতু নির্মিত হলেও দুর্গাপুর-শিবগঞ্জ ও বিরিশিরি-শিবগঞ্জ সেতু এখনও নির্মিত হয় নাই । এই তিনটি জনপদই অনেক বেশী গুরুত্বপুর্ণ । কুল্লাগড়া ইউনিয়নে আছে নয়নাবিরাম গারো পাহাড়, সাদা মাটির পাহাড়, বিশুদ্ধ পানির লেক, টংক আন্দোলনের রাশিমনির স্মৃতি সৌধ, বিজয়পুর মিশনসহ নানা আকর্শনীয় স্থান । সবগুলি মিলে এই এলাকা পর্যটন নগরীতে পুর্ণ্যতা লাভ করেছে । আর এই নগরীর প্রবেশদ্বার হলো বিরিশিরি । তাছাড়া এখানে আছে  বিরিশিরি ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমী, আন্তজার্তিক মানের ডন বস্কো কলেজ, সেন্ট জেবিয়ার্স স্কুল, বিরিশিরি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দুর্গাপুর সরকারী টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, বিরিশিরি, ওয়াই এম,সিএ, ওয়াই ,ডব্লিও সি,এ ; জিবিসি মিশন হাসপাতাল, বিরিশিরি মিশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,   এম. এন আলম মেডিকেল টেকনোলজি, সামি সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট, বিরিশিরি পিসি নল মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ও 02টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্যাংক, বীমা এবং অর্ক ক্লিনিকসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। সব মিলে যেন এক সভ্য সিভিল নগরীতে পরিপুর্ণ  হয়েছে -এই বিরিশিরি । মিশ্র মানুষের সংস্কৃতি বহন করে বিরিশিরি অনেক বেশী গুরুত্বপুণ্য সকল মানষের কাছে ।। আবার মুল দুর্গাপুর ভূ খন্ড দুর্গাপুর উপজেলা সদর ও পৌরসভার মুল অবস্থান । সোমশ্বরী নদী দ্বারা যেহেতু শিবগঞ্জ বিচ্ছিন্ন তাই ঐ পাশাপাশি এলাকার মানুষের কাছে একটি গুরুত্বপুর্ণ স্থান ও বাজার । প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ কুল্লাগড়া ইউনিয়নের সাদামাটির পাহাড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক নৈশগিক সৌন্দর্য ভোগ করতে আসে । কিন্তু  সাধারণ মানুষের যাতায়ত ও  পথচলা, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া, স্বাস্থ্য-সেবা, পথচারীর নিরাপত্তা, স্বাভাবিক জীবনযাত্রার মান সবকিছুর ছন্ধ পতন ঘটায় সোমেশ্বরীর বালি উত্তোলন ও সরবরাহ। কেননা বালি উত্তোলনের ফলে তা পরিবহনের বিকল্প কোন রাস্থা না থাকায় এখানকার মানুষের ভোগান্তির কোন সীমা নেই । বালি বন্ধ হলে কিছু মানুষ বেকার হবে - সত্য । এখানকার অর্থ নীতিতে কিছুটা চাপ পড়লেও  এখানকার পরিবেশের জীব ও বৈচিত্রে নতুন পরিবর্তন আসবে । নদী রক্ষা পাবে, শিক্ষার প্রসার ঘটবে, স্থানীয় বিদ্যালয় গুলিতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি বাড়বে । গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত হবে । সড়ক দুর্ঘটনা রোধ হবে মানুষের চলাচলে নিরাপত্তা আসবে । যানবাহনে ও রাস্থা চলাচলে জন-দুর্ভোগ কমবে ।
বালি বন্ধ হলে পর্যটনের প্রতি মানুষের জোক-বিলাস বাড়বে । মানুষের আগমন বৃদ্ধিপাবে । তথন এই খাতের প্রতি আশক্ত হয়ে সামাজিক নিরাপত্তাসহ সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা বাডিয়ে পর্যটন কেন্দ্রীক নতুন কাজের সুযোগ তৈরী করলে অবশ্যই বেকারত্ব কমে যাবে । শুধু তাই নয় ভারতের সাথে চুক্তি মোতাবেক স্থল বন্দর চালু করতে পারলে ব্যবসা-বানিজ্যে শিল্প নগরীতে পরিণত হবে নিঃসন্দেহে এই দুর্গাপুর উপজেলা । স্থানীয়রা এই খাতে বিনিয়োগ করবে । নতুন উদ্যেগতা তৈরী হবে । স্থল-বন্দরসহ বডিং পাস চালু হলে মানুষ আনন্দ উপভোগ করতে,কিংবা অবকাশ যাপনে পর্যটকরা আসক্ত হবে মেঘালয়ের পাহাড় বিলাসে । ভ্রমণ পিপাসু মানুষের সেবাকে ঘীরে গড়ে উঠবে হোটেল, রেস্তুরাসহ নানা ধরনের নতুন শিল্প ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ।
আসুন আমরা সবাই দুর্গাপুরের মাটি আর মানুষকে ভালবেসে গড়ে তুলি একটি আদর্শ জনপদ ।


এ জাতীয় আরো খবর