নদীর বয়ে চলার স্রোতের মাঝে একগুচ্ছ ফুল যেমন ভাসতে ভাসতে এগিয়ে চলে, জীবনের গতিও তেমন। কখন কোনদিকে মোড় নেবে বোঝা দায়! তাই আমার মতে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা বেশি না করাই ভালো। জীবনের প্রথম ভাগে ছিলাম গিরিশ মুখার্জি রোডের বাড়িতে। তখন মনে হয়েছিল এটাই আমার স্থায়ী ঠিকানা। বিয়ের পর টালিগঞ্জের রাজেন্দ্র প্রসাদ কলোনীর বাড়িটাকে মনে হয়েছিল এটাই আমার স্থায়ী ঠিকানা। গৌতমের চাকরির জন্য চলে আসতে হলো কোচবিহারে, দীর্ঘ ত্রিশ বছর বিভিন্ন সরকারি হাউজিংয়ে ঘুরে ঘুরে থাকতে থাকতে এর শেষ পর্বে একটি ফ্ল্যাট হয়েছে আপাততঃ স্থায়ী ঠিকানা। এটাও কতদিন স্থায়ী বলতে পারবো না। নিজেকে গঙ্গা বক্ষে ভেসে চলা একগুচ্ছ ফুলের মতো মনেহয়। ভাসতে ভাসতে আবার কোথায় যাবো জানিনা। স্বামীর কর্মসূত্রে কোচবিহার ঠিকানা হলো। এবার আবার ছেলের লেখাপড়া শেষ করে কোথায় তার কর্মজীবন শুরু হবে জানিনা। সেটাও আর একটা ঠিকানা হবে আশাকরি। তবে এই বয়ে চলা জীবন আমার বেশ ভালো লাগে। অসংখ্য মানুষের সান্নিধ্যে আসতে পারাটাও একরকম সৌভাগ্য বলা যায়।
কত মানুষের সঙ্গে আলাপ পরিচয় হলো আবার কত মানুষ বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে গেল! প্রতিটা দিনকে নতুন করে পাবার আশায় পরের দিনের ভোরের অপেক্ষায় থাকি। ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার অবকাশ পেলাম না! তাই মাঝে মাঝে মনেহয়,
----- এ বিশ্ব লয়ে খেলিছেন যিনি, তাঁর হস্তে নিবেদন করিয়াছি মোর ভাগ্য খানি ------
স্রোতের প্রতিটি ঢেউ যেন এঁকে দেয় নতুন ছবি, নতুন করে পাবো বলেই আশায় আশায় রয়েছি। আশেপাশে পচাগলা আবর্জনাও ভাসতে ভাসতে চলেছে একগুচ্ছ ফুলের পাশে পাশে। তাতে খুব একটা মন্দ লাগেনা। উজানের টানে কখন কে কোনদিকে ভেসে যাবে কে বলতে পারে!!