বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২৬

বিদ্যুৎ উৎপাদন করেও অন্ধকারে মহেশখালী-কক্সবাজার জাতীয় সংসদে ক্ষোভ ঝাড়লেন এমপি ফরিদ

  • গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের
  • ২০২৬-০৬-২৪ ২২:৫৪:৩৭

মহেশখালী, কক্সবাজার
“বিদ্যুৎ আমরা উৎপাদন করি, সমগ্র ন্যাশনাল গ্রিডে আমাদের বিদ্যুৎ যাচ্ছে, অথচ কক্সবাজারসহ আমাদের মহেশখালীর অন্ধকারে থাকতে হয়। এটা কেমন নীতি? মাননীয় স্পিকার...”
জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে এভাবেই মহেশখালী ও কক্সবাজারের চলমান বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ।
বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, দেশের অন্যতম জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত মহেশখালী আজও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে এমপি ফরিদ বলেন, মহেশখালীতে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র,এলএনজি টার্মিনাল এবং জ্বালানি সংশ্লিষ্ট বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। 
এসব প্রকল্প থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হলেও স্থানীয় জনগণকে থাকতে হচ্ছে সীমাহীন ভোগান্তিতে।
তিনি অভিযোগ করেন, সামান্য বৃষ্টি কিংবা হালকা বাতাস হলেই মহেশখালী ও কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। বিশেষ করে মহেশখালী পল্লী বিদ্যুতের ৩৩ কেভি ফিডারে ঘনঘন ত্রুটি দেখা দেওয়ায় পুরো উপজেলায় বারবার বিদ্যুৎ বিপর্যয় তৈরি হচ্ছে।
বিকল্প কোনো ফিডার ব্যবস্থা না থাকায় একটি লাইনে সমস্যা দেখা দিলেই পুরো এলাকায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।
সংসদ সদস্য ফরিদ আরও বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা তৈরি হচ্ছে এবং হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রমও বিঘ্নিত হচ্ছে। পর্যটননির্ভর কক্সবাজার অঞ্চলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মহেশখালী-কক্সবাজারে বিকল্প ৩৩ কেভি ফিডার স্থাপন, পুরোনো লাইন সংস্কার এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে জরুরি উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।
লবণের মূল্য বৃদ্ধি পারমণ ছয়শত টাকা এবং মহেশখালীর মিষ্টি পানকে জিআই পণ্য ঘোষণার দাবী করেন -কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ।
জাতীয় সংসদে এমপি ফরিদের এ বক্তব্যের পর স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই তার বক্তব্যকে মহেশখালী ও কক্সবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও ক্ষোভের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা মহেশখালীর জনগণের জন্য টেকসই ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

 


এ জাতীয় আরো খবর