শনিবার, অক্টোবর ৩, ২০২৬

রি য়া জ উ দ্দি ন

  • স্বপ্ন না বাস্তব
  • ২০২৩-১০-৩১ ১৪:৪৬:০৩

নীলা! ওর মানসী আজ এই মুহূর্তে ওর সামনেই দাঁড়িয়ে আছে। সেই নীলা, যার জন্য এতকাল অপেক্ষা করেছে সে। নীলা এসেছে, কিন্তু বিশ্বাসই হচ্ছে না রাশেদের। ও কী ভুল দেখছে? মনে হয় স্বর্গের কোন দেবী এই মাত্র ধরায় নেমে এসেছে মর্ত্যের রাণী হয়ে। একি স্বপ্ন না বাস্তব? 
       হকচকিয়ে গেল রাশেদ। অপরাধীর মতো মুখ করে নীলার দিকে তাকালো। বললো, 'আরে নীলা! কখন এলে তুমি? আমি তো কিছু বুঝতেই পারলাম না।'
       কাজল কালো টানা টানা চোখে রাশেদের দিকে গভীর ভাবে তাকালো নীলা। রাঙা ঠোঁটে দুষ্টুমির হাসি হাসলো। অভিমান করে লাস্যময়ী ভঙ্গিতে বললো, 'বুঝবে কী করে? আমাকে ভুলে মনটা তোমার কোথায় পালিয়ে ছিল? আমি তো সেই কখন থেকে তোমাকে খুঁজে ফিরছি।'
       নীলার কথায় বেশ বিব্রতকর একটা অবস্থার মধ্যে পড়লো রাশেদ। লজ্জা পেলো। তারপর আমতা আমতা করে বললো, 'না, ইয়ে মানে! আমিও তো সেই কখন এসেছি। কিন্তু তোমাকে না দেখে ভাবলাম ওদিকটায় থেকে একবার একটু ঘুরে আসি।'
       চোখের পলক ফেললো নীলা। রাশেদের চোখে চোখ রেখে আরো ঘনিষ্ঠভাবে তাকালো। ঢঙ করে অনুযোগের সুরে বললো, 'হুম্! সে না হয় বুঝলাম। কিন্তু এখানে দাঁড়িয়ে থেকে এতক্ষণ ধরে ওদিকে তাকিয়ে তাকিয়ে কী দেখছিলে তুমি? কী ভাবছিলে বলতো?' ওর চোখে মুখে উচ্ছ্বাস আর দুষ্টুমির ছাপ।
       থতমত খেলো রাশেদ। বেশ বেকায়দায় পড়লো। কথার মারপ্যাঁচে নীলা যে ওকে এভাবে জব্দ করবে বুঝতে পারেনি। কী বলবে সেটাই এখন ভেবে পাচ্ছেনা। ঘাবড়ে গিয়ে বললো 'ইয়ে, না মানে!' বলে কথা হারিয়ে ফেললো। নিজেকে খুব অসহায় বোধ করলো।
       ওর অসহায় অবস্থা দেখে খুব মজা পেলো নীলা। কতো সহজেই না ওকে বোকা বানানো যায়! রাশেদের এই সরলতা খুব ভালো লাগলো নীলার। ডাগর ডাগর মায়াবী চোখে মুগ্ধতা নিয়ে তাকিয়ে রইলো রাশেদের মুখের দিকে। ওর ফ্যাকাশে মুখটা দেখে খুব হাসি পাচ্ছে নীলার। হঠাৎ খিলখিল করে হেসে উঠলো। নীলার প্রাণবন্ত হাসিমাখা মুখের দিকে মুগ্ধ হয়ে অপলক তাকিয়ে রইলো রাশেদ। ভাবনার জগতে ডুবে গেল। নীলার মুক্তোঝরা হাসিমাখা মুখটা কতোটা যে আলো ছড়াতে পারে, সেটি না দেখলে বিশ্বাসই হবে না।
       আজ অসাধারণ সুন্দর লাগছে নীলাকে। ওর সৌন্দর্যের দ্যুতি যেন ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে। এমনিতেই যথেষ্ট সুন্দরী ও। তার উপর আজ পরিপাটি করে সাজুগুজু করে এসেছে। নীল রঙের থ্রী পিছের সাথে ম্যাচিং করা অলংকারাদি পরেছে। এমন কী ম্যাচিং করা টিপ, জুতো আর পার্স পর্যন্ত। ডান হাতের মধ্যমায় মূল্যবান নীল কান্তমণি খচিত স্বর্ণের আংটি শোভা পাচ্ছে। এই বেশে অনুপম সুন্দরী লাগছে ওকে। ঠিক যেন স্বর্গের অপ্সরা।
       এতক্ষণ পরে হাসি থামাল নীলা। তারপর বললো, 'মজা করলাম তোমার সাথে। তা-ও বোঝনি?' বলে আবারও ফিক করে হাসলো। হঠাৎ উচ্ছ্বসিত হয়ে রাশেদের হাতটা ধরলো নীলা। বললো, 'চলো।'
       'কোথায়?'
       'এসোই না।' বলে রাশেদের হাতের মুঠিতে হাত রাখল নীলা। আঙুলের ভাঁজে ভাঁজে হাতটা চেপে ধরলো। রাশেদকে টেনে নিয়ে এগিয়ে গেল লেকের ধারে। 
        নীলার নরম কোমল হাতের স্পর্শে ভাললাগার অন্যরকম এক অনুভূতি হলো রাশেদের মনে। বুকের ভেতরে শিহরণ জাগলো। এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ বলে মনে হলো নিজেকে। 
       লেক সামনে রেখে ঘন সবুজ ঘাসের উপর দু'জনে পাশাপাশি বসলো ওরা। লোকালয় থেকে একটু দূরে, নিরিবিলিতে। নীলার শরীর থেকে শিরশিরে মিষ্টি গন্ধ ভেসে আসছে। মাতাল করা গন্ধ। নিশ্চয়ই সুগন্ধি মেখে এসেছে ও। খুব ভালো লাগছে রাশেদের।
      ঘন সবুজ ঘাসের উপরে বসে দুজন দুজনের দিকে ফিরে তাকালো। রাশেদের চোখে চোখ রেখে বললো নীলা, 'আজ তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে রাশেদ। ভীষণ স্মার্ট লাগছে। আগের চেয়েও বেশি স্মার্ট।'
       নীলার সুন্দর মুখশ্রীর দিকে তাকিয়ে একটু লাজুক ভঙ্গিতে মিষ্টি করে হাসলো রাশেদ। বললো, 'ধন্যবাদ। তুমিও তো আগের চেয়েও আরো বেশি সুন্দরী হয়ছো।'
       লজ্জা পেলো নীলা। সে-ও লাজুক ভঙ্গিতে হেসে বললো, 'তোমাকেও ধন্যবাদ।' তারপর প্রসঙ্গ পাল্টে হঠাৎ করে বললো, 'জানো রাশেদ! ক'দিন আগে তোমাকে নিয়ে বেশ একটা মজার স্বপ্ন দেখলাম। কী অদ্ভুত স্বপ্ন!'
       'তাই নাকি? কিন্তু কী স্বপ্ন দেখলে?'
       'স্কুল লাইফের সেই ঘটনা। আবু তাহের স্যারের সেই শাস্তি! তোমার পিঠের যা অবস্থা! হাহাহা.....!'
       লজ্জা পেলো রাশেদ। বললো, 'আমিও কিন্তু তোমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছি। ভারী অদ্ভুত স্বপ্ন। একটু আলাদা ধরনের।'
       'তাই নাকি? কিন্তু কী স্বপ্ন দেখলে?'
       'দেখলাম চাঁদনী পসর রাতে একটা সুন্দর বাগানে তুমি আর আমি দুজন মিলে ঘুরে বেড়াচ্ছি! তারপর একটা বড় কৃষ্ণচূড়া গাছের তলায় দুজনে বসে....। কথা জড়িয়ে গেল রাশেদের। বাকিটুকু আর বলার সাহস পেলো না। পাছে নীলা মাইন্ড করে বসে।
      'হ্যাঁ হ্যাঁ। বলো বলো। দুজনে বসে....! তারপর?'
       মাথা নিচু করে চুপ করে রইলো রাশেদ। 
       এমন সময় কচি কন্ঠে 'ফুল লাগবোনি স্যার, ফুল? ফুলের মালা?' বলে আট-দশ বছরের সেই মেয়েটি ওদের সামনে এসে দাঁড়ালো। 
 

 


এ জাতীয় আরো খবর