৩০ সেপ্টেম্বর ঘুরে এলাম "বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল" থেকে। বিশ্ব ট্যুরিজম দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের আয়োজনে ৪ দিন ব্যাপী ফেস্টিভ্যালের আজই ছিলো শেষ দিন।
কিন্তু যেই উৎসাহ নিয়ে ফেস্টিভ্যাল দেখতে গিয়েছিলাম অনেকটাই হতাশ হয়েছি! কিছুদিন থেকেই ট্যুরিজম বোর্ডের প্রচারণা দেখছিলাম, আর সেদিন টিভিতে ম্যানেজমেন্ট কমিটির কর্তাব্যক্তিদের এক আলোচনা অনুষ্ঠান দেখে উৎসাহ দ্বিগুণ বেড়ে গিয়েছিলো। পুরো বাংলাদেশকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসা হয়েছে এমনটাই বলা হয়েছে। অর্থাৎ ট্যুরিজমের যে প্রধান তিনটা আকর্ষণ - ট্যুরিস্ট স্পট, খাবার, আর কারু পণ্য। অনেক ঝামেলাকে পাশ কাটিয়ে শেষ বেলায় ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে গিয়েছিলাম, যেমনটা সব কারু পণ্য মেলায়ই যাই।
বাংলাদেশের ৬৪ জেলাকে নিয়ে আসা হলেও আমার কাছে সব জগাখিচুড়ি মনে হয়েছে! অর্থাৎ কোন স্টলেরই এলাকাভিত্তিক তেমন আলাদা আইডেন্টিটি চোখে পড়েনি। মনে হয়েছে সবাই সবকিছু বেঁচে।
আর মনে হয়েছে খাবারের ষ্টলের আধিক্য, প্রায় অর্ধেকটা জায়গা দখল করে আছে খাবারের ষ্টল! আসলে বাঙালি তো খেতেই ভালোবাসে! আর বলাই বাহুল্য সেখানে লোকসমাগম বেশি।
আর ছিলো কিছু ট্যুর অপারেটরদের স্টল।
আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে, যেই থিমকে সামনে রেখে আয়োজনটা করা হোল, একটু গুরুত্ব দিয়ে যত্ন করে এই ফেস্টিভ্যালকে ঢেলে সাজানো যেত! যেই অবস্থায় দেখলাম এতে করে কোন বিদেশী পর্যটক বাংলাদেশী পর্যটন শিল্পে আকৃষ্ট হবে বলে আমার মনে হয়নি! আমার কেবল মনে হয়েছে এস এম ই মেলা বা যে কোন কারুপণ্য মেলায় ঘুরছি!
কি জানি, হয়তো দিনেদুপুরে গিয়েছি তাই বোধহয়। রাতে হয়তো আরেকটু জমজমাট হয়!
যেহেতু আমি নিজে কারুশিল্পী, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কারুশিল্প দেখার টানেই গিয়েছিলাম তাই যতটুকু খুঁজে পেতে পেয়েছি বিচ্ছিন্নভাবে সেটুকুরই ছবি তুলে ধরার চেষ্টা করলাম বরাবরের মতো। কিন্তু আমার এক্সপেকটেশন ছিলো আরও বেশি কিছু! যেমন আমার বরিশাল বিভাগেরই তেমন কিছু পাইনি! আসলে লোকশিল্প বা কারুপণ্যের অনেক উৎস ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে, অনেক কারিগরই নানা কারনে নিজ পেশা ছেড়ে দিচ্ছে, এর জন্যে অনেকটা আমরাই দায়ী!
আমি আমার কয়েকজন বন্ধুবান্ধবকে ইনভাইট করে গিয়েছিলাম, যদিও তাঁরা প্রায় কেউই যায়নি নানা কারণে। আজ যেহেতু শেষদিন ছিলো তাই কাউকে আর যেতে বলতে পারছিনা ....