চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন একটি সড়ক সকালে জামায়াত এমপি নুরুল ইসলাম বুলবুল এবং বিকালে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক বিএনপি এমপি হারুনুর রশীদ উদ্ধোধন করে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন। অবশ্য এলজিইডি বলছে,কোনটাই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন নয়। দায়িত্বশীলদের ‘তদারকি’। এদিকে জেলায় দুই দলের শীর্ষ দুই নেতার দুবার উদ্বোধনকে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে তাঁদের একে অপরের প্রতি চলমান অব্যহত বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ঘিরে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে,গত রবিবার(১নভেম্বর) সকালে সীমান্তবর্তী চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাখের আলী বিওপি থেকে ফরিদপুর বিওপি পর্যন্ত প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যর সড়ক উন্নয়ন কাজ ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন সদর এমপি এবং ঢাকা দক্ষিন মহানগর জামায়াত আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এলজিইডির ব্যানার ব্যবহার করা হয়। সেখানে উদ্বোধক হিসেবে বুলবুলের নাম উল্লেখ ছিল।
অনুষ্ঠানে বুলবুল হারুনকে উদ্দেশ্য করে বলেন,উনি জনগনকে নিয়ে খেলা শুরু করেছেন। এখানে জনগনকে নিয়ে খেলা চলবে না। আপনার ক্ষমতা থাকলে অন্যখানে দেখান। আপনি জেলা পরিষদের প্রশাসক। আপনি নিজের যেটুকু দায়িত্ব আছে সেটা নিয়েই থাকেন। অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করবেন না। আপনি সরকারি দলের নেতা। আমি বিরোধি দলের নেতা। কিন্তু জনগণ আমার সাথে রয়েছে। আপনি যদি কোন উদ্বোধনে আমার সাথে থাকতে চান,তবে থাকবেন। জেলা পরিষদের কাজের খোঁজ খবর নেয়ার দায়িত্ব উপদেষ্টা হিসেবে আমার আছে। কিন্তু আমার কাজের দিকে তাকানো আপনার দায়িত্ব না। আপনি আপনার দলের কর্মীদের পাত্তা দেন না। দলকে পাত্তা দেন না।তবে এসব নিয়ে কথা বলার রুচি ও সময় আমার নেই। আমি জনগনের ভোটে নির্বাচিত। আগামী ৫ বছর পর্যন্ত কাজ যা হবে তার দায়িত্ব এমপির। আমার কাজ আমাকে করতে দেন। আপনার থেকে ৬২ হাজার ৬১৯ ভোট বেশি পেয়ে আমি নির্বাচিত হয়েছি। এখানে এলজিইডির কাজ হবে আর আপনি উদ্বোধণ করবেন,আরেক জায়গায় আমার কাজ আপনি উদ্বোধন করবেন,এই অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে? শুনলাম আপনি এই রাস্তা উদ্বোধনে নাকি বিকালে আসবেন। কেন ? কে আপনাকে এ্খতিয়ার দিয়েছে?
এদিকে বিকালে হারুনুর রশীদ ওই এলাকায় গিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিদের নিয়ে ফিতা কেটে কাজের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন,বুলবুল আজকে এখানে বড় বড় কথা বলেছে। খুবই দূ:খজনক। আমরা ভাইসা আসিনি,বুলবুল। এমন ছ্যাচড়া এমপি আমি দেখিনি। একজন মন্ত্রী বা সচিব আসছেন। তাঁদের প্রটোকল হিসেবে যদি ধারণা না থাকে তবে কেন নির্বাচন করেছ? যদি আমন্ত্রণ পত্রে তোমার নাম না থাকে তবে কোন লজ্জায় তুমি সেখানে যাও? এই সড়ক আমি বিকালে উদ্বোধন করব জানতে পেরে জামায়াত নেতারা ফজরের নামাজের পর সকালেই উদ্বোধন করে চলে গেছে। ভোটের আগে আমি এলাকায় এসে বলে গেছিলাম,আমি যদি এমপি হই,আমার সরকার যদি ক্ষমতায় আসে তবে সড়ক করে। এখন আমি এমপি হইনি কিন্তু সরকার তো ক্ষমতায়। এই প্রজেক্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছিল। আমি সময় বাড়াতে সহযোগিতা করেছি। সে কারণে রাস্তার নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। প্রজেক্টে কোথায় লেখা আছে যে স্থানীয় এমপি উদ্বোধন কববে? কাজেই সরকারের বিরুদ্ধে লংমার্চ আর উল্টাপাল্টা বক্তব্য না দিয়ে পরিশ্রম কর। বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে সরকারেকে সহযোগিতা কর। সরকারের বিরোধিতা করবা আর সরকারি কাজ উদ্বোধন করবা এটা হয় না।
এদিকে এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য নুরুল ইসলাম বুলবুলকে ফোনে পাওয়া যায় নি। অপরদিকে হারুনুর রশীদ এ ব্যাপারে আর মন্তব্য করতে রাজী হন নি।
অপরদিকে দু’বার উদ্বোধনেই উপস্থিত চিলেন এলজিইইডি উপজেলা প্রকৌশলী আজহারুল ইসলাম এবং ঠিকাদার সেলিম রেজা। প্রকৌশলী বলেন,কাজ ১৫ দিন আগেই শুরু হয়েছে। এলজিইডির উদ্বোধনের বাজেট নাই। দায়িত্বশীলরা আসলে আমারা কাজের অগ্রগতি ও তদারকি দেখাতে তাঁদের নিয়ে আসি। এ কারণেই সকাল ও বিকালে ঠিকাদারকে নিয়ে উপস্থিত ছিলাম। দু’জন দায়িত্বশীল নিজেদের উদ্যোগেই উদ্বোধন অনুষ্ঠান করেছেন। এর সাথে আমাদের সম্পর্ক নেই।