গোরকঘাটা বাজারে বসে আন্তর্জাতিক অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম,জব্দ দামি স্মার্টফোন
- গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের
-
২০২৬-১০-৩১ ১৮:০৮:০৩
- Print
মহেশখালী (কক্সবাজার)
ইন্টারনেটের আড়ালে পরিচালিত আন্তর্জাতিক অনলাইন জুয়ার বিস্তারের ছায়া এবার পড়েছে দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতেও। স্থানীয় বাজারের একটি মার্কেটের নিচতলায় বসে আন্তর্জাতিক অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম 1xBet-এর কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে মিনহাজ উদ্দিন বারেক (২৫)নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে মহেশখালী থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি,তিনি ওই অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মের স্থানীয় এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন।অভিযানে তাঁর কাছ থেকে একটি Samsung Galaxy S24 Ultra মডেলের স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে অনলাইন জুয়ার বিস্তার, এজেন্টভিত্তিক কার্যক্রম এবং এর আর্থিক লেনদেনের ধরন নিয়ে
নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মোঃআব্দুস সুলতানের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পিএসআই মোহাম্মদ ইকবাল সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে মহেশখালী পৌরসভার গোরকঘাটা বাজারের কুদ্দুস মার্কেটের নিচতলায় অভিযান চালান। সেখানে বসে অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে মিনহাজ উদ্দিন বারেককে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার মিনহাজ উদ্দিন বারেক (২৫) মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কেরুনতলী, নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম আতাউল করিম এবং মাতার নাম মাইয়াশা করিম।
পুলিশের দাবি, 1xBet- এর স্থানীয় এজেন্ট,আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিনহাজ উদ্দিন বারেক আন্তর্জাতিক অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম 1xBet-এর স্থানীয় এজেন্ট হিসেবে কাজ করার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি কীভাবে এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন, কত দিন ধরে এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তাঁর মাধ্যমে কতজন অনলাইন জুয়ায় অংশ নিয়েছেন এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি।
জব্দ স্মার্টফোনে মিলতে পারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ-
অভিযানের সময় উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে গ্রেপ্তার ব্যক্তির কাছ থেকে একটি Samsung Galaxy S24 Ultra মডেলের স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। পুলিশ জব্দ করা ফোনটির দুটি আইএমইআই নম্বরও নথিভুক্ত করেছে। অনলাইন জুয়ার অ্যাকাউন্ট, লেনদেনের তথ্য, যোগাযোগের ইতিহাস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তে ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ফোনটি পরীক্ষা করে কী ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
স্থানীয় এজেন্ট নেটওয়ার্ক নিয়ে প্রশ্নঃ-অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মগুলো ইন্টারনেটনির্ভর হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে এজেন্ট বা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ব্যবহারকারী সংগ্রহ, হিসাব পরিচালনা কিংবা অর্থ লেনদেনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। মহেশখালী পৌরশহর গোরকঘাটা বাজারের মতো বাণিজ্যিক এলাকায় এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির বিষয়টিকে সামনে এনেছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তির সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি, স্থানীয় এজেন্ট বা সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্কের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্তের মাধ্যমে তাঁর ব্যবহৃত ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট, আর্থিক লেনদেন এবং যোগাযোগের সূত্র যাচাই করা হলে অনলাইন জুয়ার কার্যক্রমের বিস্তার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
জুয়া প্রতিরোধ আইনে মামলা,এ ঘটনায় ৩১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ মহেশখালী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর ২৭, জিআর নম্বর ৩২৪/২৬। জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর ১৬, ২৫ ও ২৭ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে বিধি অনুযায়ী বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মোঃআব্দুস সুলতান প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গ্রেপ্তার ও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল লেনদেন, আর্থিক মধ্যস্থতাকারী এবং সম্ভাব্য এজেন্ট নেটওয়ার্ক শনাক্তে সমন্বিত নজরদারিতে রয়েছে।