শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬

অস্ত্র নয়,ভাত চাই; যুদ্ধ নয়,কাজ চাই; ধ্বংস নয়,শান্তি চাই

  • বজলুর রহমান বাবলু
  • ২০২৬-১০-২৩ ১৫:২৪:৩০

চলমান যুদ্ধ, সংঘাত ও সামরিক আগ্রাসনের ভয়াবহ পরিণতি থেকে শিশু, নারী, শ্রমিক, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রমিক নেতা, রাজনৈতিক কর্মী ও মানবাধিকার সংগঠক মোহাম্মদ বজলুর রহমান বাবুল।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধ ও সংঘাতের সবচেয়ে ভয়াবহ শিকার হচ্ছে শিশুরা। প্রতিদিন গোলাবর্ষণ, বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে শিশুরা নিহত ও আহত হচ্ছে। তাদের জীবনে নেমে আসছে আতঙ্ক, বাস্তুচ্যুতি, কান্না ও অনিশ্চয়তা। খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে অসংখ্য মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। সাম্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাদ, অস্ত্রবাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক ও ক্ষমতার লড়াইয়ের বলি হয়ে সাধারণ মানুষ আজ নিরাপত্তাহীন ও অসহায়।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের ভয়াবহতায় নারীরাও চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে নারী, গর্ভবতী মা, শিশুদের নিয়ে থাকা মা এবং বয়স্ক নারীরা সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়ছেন। অনেক স্থানে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের ন্যূনতম ব্যবস্থাটুকুও নেই।
বিবৃতিতে তিনি সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে বিশ্ব অর্থনীতি মারাত্মক সংকটে পড়তে পারে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে জ্বালানি তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হবে, পণ্যের দাম বেড়ে যাবে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ উদ্বাস্তু হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে শিক্ষার্থীরা হারাবে শিক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ, যুবসমাজ হারাবে কাজের সুযোগ, শ্রমিক হারাবে কারখানা ও কর্মসংস্থান এবং দিনমজুরেরা হারাবেন জীবিকার অবলম্বন। অন্যদিকে, মেহনতি মানুষ খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সামর্থ্য হারিয়ে আরও দুর্বিষহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন। তাই এই যুদ্ধ শুধু কোনো একটি দেশ বা জনগোষ্ঠীর সমস্যা নয়; এটি ছাত্র, যুব, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
মোহাম্মদ বজলুর রহমান বাবুল দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, ছাত্রসমাজ, যুবসমাজ, শ্রমিক, মেহনতি জনতা ও সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের মাধ্যমেই যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন জোরদার করা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করা সম্ভব। জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ ও শান্তির পক্ষে সম্মিলিত কণ্ঠই পারে যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধের দাবিকে শক্তিশালী করতে।
তিনি বিশ্বের ছাত্র-যুব-শ্রমিক ও মেহনতি জনতাকে যুদ্ধের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন
“অস্ত্র নয়, ভাত চাই। যুদ্ধ নয়, কাজ চাই। ধ্বংস নয়, শান্তি চাই।”
বিবৃতির শেষাংশে তিনি বলেন, বিশ্বের ছাত্র-যুব-শ্রমিক ও মেহনতি জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ বন্ধের আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে এবং শান্তিপূর্ণ পৃথিবী প্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার হতে হবে।
তার আহ্বান:
“দুনিয়ার ছাত্র-যুব-শ্রমিক-মেহনতি জনতা এক হও-যুদ্ধ বন্ধ করো, শান্তির পৃথিবী উপহার দাও।”

 


এ জাতীয় আরো খবর