মহেশখালী (কক্সবাজার)
মহেশখালীতে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ফের পুলিশেরহেফাজত থেকেছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগের কয়েক মাসের মাথায় আবারও গ্রেপ্তার হয়েছেন মো. আবুল কাশেম।
১৮ অক্টোবর,রোববার ভোরে কুতুবজোম ইউনিয়নের নয়াপাড়া চিংড়ি প্রজেক্ট থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে মহেশখালী থানা-পুলিশ। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ ইকবাল হায়দার একই পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া এবং পরে পুলিশের হেফাজত থেকে তাঁকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলা হওয়ার ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
মহেশখালী থানা সূত্রে জানা যায়, কাশেমের বিরুদ্ধে মানবপাচার ও হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।
আগের গ্রেপ্তার ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের অভিযোগ
চলতিবছরের ১১জুলাই রাতে মহেশখালীর উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের বটতলী বাজার এলাকায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তারে এস আই ইকবাল হায়দারের নেতৃত্বে থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। এমন সময় কাশেম' কে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশের অভিযোগ ছিল, এ সময় একদল লোক পুলিশের কাজে বাধা দেন এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালান। এ ঘটনায় ১২ জুলাই মহেশখালী থানার পিএসআই মোহাম্মদ ইকবাল বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মৌলভী শফিউল আলমসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়।পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী ওই ঘটনায় কনস্টেবল তানভীর হোসেন আহত হন।
সাবেক চেয়ারম্যানকে ঘিরে মামলাও আলোচনায়
আবুল কাশেমকে পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলাটি পরবর্তী সময়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দেয়। গত ০৬ অক্টোবর উক্ত মামলার আসামি সাবেক চেয়ারম্যান মৌলভী শফিউল আলমসহ ৬ জন আসামী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত তাঁদের মধ্যে ৪ জন আসামীকে জামিন আবেদন মঞ্জুর করে।
মৌলভী শফিউল আলমসহ দুই জন আসামীকে জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় পুলিশের বক্তব্য ও মামলার এজাহারে যে অভিযোগ এসেছে, তা অভিযোগ হিসেবেই বিবেচ্য।
এবার নয়াপাড়া চিংড়ি প্রজেক্ট থেকে গ্রেপ্তার এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ অক্টোবর ভোরে কুতুবজোমের নয়াপাড়া চিংড়ি প্রজেক্টে অভিযান চালিয়ে কাশেমকে পুনরায় গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গেছে। আগের ঘটনার সঙ্গে একই পুলিশ কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা থাকায় বিষয়টি স্থানীয়ভাবে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়াই এখন গুরুত্বপূর্ণঃ-
মানবপাচারসহ একাধিক মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে তা কার্যকর করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। একইভাবে, গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের কাজে বাধা বা আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠলে সেসব অভিযোগও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।
মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)মোঃ আব্দুস সোলতান জানান- মহেশখালী থানার এস আই ইকবাল হায়দারের নেতৃত্বে ১৮ অক্টোবর পুলিশের অভিযানে কুতুবজোমের আলোচিত যুবলীগ নেতা কাশেম গ্রেপ্তার
করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হবে।