সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬

ইনানীতে রিসোর্টে আগুন: ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ৬;

  • মোহাম্মদ হোসাইন:
  • ২০২৬-১০-১৭ ২৩:২৯:৩৯
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের সন্ধানে উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এদিকে, ঘটনার পর রিসোর্টের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মোহাম্মদ সুমনকে থানায় নেওয়া হচ্ছে। সেখানে তাঁকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত জানানো হবে। এর আগে, একই দিন বিকেল ৩টার দিকে রিসোর্টটিতে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। এরপরই রিসোর্টের ম্যানেজারকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার খবর জানা যায়। শনিবার সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবস্থিত অনুমোদনহীন টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহান জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, আহত অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাতজনের নাম ও পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন—ঢাকা মহানগরীর পশ্চিম রামপুরার শিহাব সাদি (৩১) ও তাঁর স্ত্রী নাফিজা (২৯), মিরপুর-১ নম্বর সড়কের শিয়ালপাড়ার আবদুল মান্নান (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী ফাহমিদা (৩২), উত্তরার মুহাম্মদ মাসুদ (৩৩) ও তাঁর স্ত্রী মেহেরুন্নেসা রোমি (৩০) এবং আশিক (২৮)। এডিএমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ছয়জন হলেন—ফারিয়া কবির (৩৩), নাফিস ইবতে হামিদ (২৪), ফাইজান (৫), মিথিলা মেহজাবিন (২৩), লাইলা জাহান নাবিলা (২৪) ও মালিহা (২৮)। তাঁদের সন্ধানে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এর আগে দুপুরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজার স্টেশনের ইনচার্জ দোলন আচার্য্য জানান, ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আগুনের সূত্রপাত, নিহতদের পরিচয় ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি বলেন, নিহত ব্যক্তিরা সবাই পর্যটক কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিসোর্টটিতে রেস্তোরাঁর কর্মচারীরাও অবস্থান করছিলেন। ফলে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে কর্মচারীও থাকতে পারেন। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টটিতে ১৭ থেকে ১৮ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। এ ছাড়া রেস্তোরাঁ ও রিসোর্ট মিলিয়ে ১২ থেকে ১৪ জন কর্মচারী সেখানে কাজ করতেন এবং তাঁদের অনেকে সেখানেই অবস্থান করতেন। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং নিখোঁজদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

এ জাতীয় আরো খবর