শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬

প্রবহমান নদী-খালকে উন্মুক্ত জলাশয় ঘোষণা ও সংরক্ষণের দাবি

  • বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি
  • ২০২৬-১০-১৫ ১৯:৪৬:৩৭
খুলনার বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলার প্রবহমান নদী-খালকে বদ্ধ জলাশয় দেখিয়ে ইজারা প্রদান বন্ধ, অনিয়ম পাওয়া গেলে ইজারা বাতিল এবং জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত জলাশয় হিসেবে ঘোষণা ও সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছে লোকজ ও মৈত্রী কৃষক ফেডারেশন। বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর ২০২৬, খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মৈত্রী কৃষক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিভাস মণ্ডল। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বটিয়াঘাটা ও দাকোপের কৃষি, মৎস্য আহরণ, জীববৈচিত্র্য ও গ্রামীণ অর্থনীতি নদী-খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু প্রবহমান নদী-খালকে বদ্ধ জলাশয় দেখিয়ে ইজারা দেওয়ার অভিযোগে কৃষক, মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষের পানির ব্যবহার, মাছ আহরণ এবং জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে। পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে কৃষিজমিতে সেচ ও পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা ও ফসলহানির ঝুঁকি বাড়ে। বক্তারা বটিয়াঘাটা উপজেলার আমতলা, খড়িয়া, বটবুনিয়া, বরাখালী, ছোটখড়িয়া, মরাখড়িয়া, গোন্ধামারী ও বটিয়াঘাটা খালসহ সংশ্লিষ্ট জলাশয়ের প্রকৃত অবস্থা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানান। তাঁরা বলেন, গত ১৭ জুলাই খুলনা জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে এসব খালের ইজারা বন্ধ ও উন্মুক্ত জলাশয় ঘোষণার দাবিতে আবেদন করা হয়। পরবর্তী সময়ে নেট-পাটা অপসারণ করা হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে তাঁরা উল্লেখ করেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি জানানো হয়, বটিয়াঘাটা ও দাকোপের প্রবহমান নদী-খালের ইজারা কার্যক্রমের বৈধতা যাচাই, অবৈধ বাঁধ ও নেট-পাটা অপসারণ এবং সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ করে স্বচ্ছ তদন্ত করতে হবে। বক্তারা বলেন, তাঁরা বৈধ মৎস্য ব্যবস্থাপনার বিরোধী নন; বরং কৃষক, মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় নদী-খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ও অবাধ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চান। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে সংবাদ কর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন লোকজ-এর নির্বাহী পরিচালক দেব প্রসাদ সরকার, কৃষক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি দীপ্তি রাণী মল্লিক, আশালতা ঢালী, সহ-সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান লাভলু, ঠাকুরদাস মণ্ডল, শ্যামল সরকার ও লোকজ-এর সমন্বয়কারী পলাশ দাশ প্রমূখ।

এ জাতীয় আরো খবর