পবিত্র মক্কা নগরীসহ সৌদি আরবের কয়েকটি এলাকায় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় স্বল্প সময়ের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জাতীয় আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাসিন্দাদের কাছে এসব বার্তা পাঠায়। তবে সতর্কতা জারির কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা প্রত্যাহার করা হয়।
সতর্কতার আওতায় মক্কা ছাড়াও লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু গভর্নরেট, তায়েফ, জেদ্দা ও তাবুক অঞ্চল ছিল। সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করতেই এসব বার্তা পাঠানো হয়।
সৌদি আরবে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার আশঙ্কা দেখা দিলে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা উদ্বেগও বেড়েছে। এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর মক্কা, জেদ্দা ও তায়েফ এলাকায় একই ধরনের স্বল্পস্থায়ী সতর্কতা জারি করে দ্রুত প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হুথিদের ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। এর মধ্যে তায়েফ ও ইয়ানবুকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার প্রচেষ্টা নস্যাৎ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতায় সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ শহর ও স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব লোহিত সাগরের নৌপথ এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। অন্যদিকে ইয়েমেনের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষের সংঘাত আবারও তীব্র হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পাশাপাশি সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর বিরুদ্ধে অগ্রসর হয়েছে।
ইয়েমেনকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম প্রধান অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক হওয়ায় দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে তার প্রভাব পড়তে পারে।
মক্কা, সৌদি আরব, হুথি