রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে সিলগালা ভেঙে ফের তেল বিক্রি

  • গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের,
  • ২০২৬-০৯-১৯ ২১:১৮:৫২

 নিজস্ব প্রতিবেদক, মহেশখালী (কক্সবাজার)একবার নয় অভিযান,জরিমানা, সিলগালা;এরপরও যদি একই স্থানে আবার তেল  বিক্রি শুরু হয়, তাহলে প্রশাসনের  পদক্ষেপের   কার্যকারিতা   নিয়ে  প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের তাজিয়াকাটা-ঘটিভাঙ্গা সরকারি খাল এলাকায় এমনই অভিযোগ সামনে এসেছে। উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে  সিলগালা করা অনুমোদনহীন তেল বিক্রয়কেন্দ্রের সিল ভেঙে ফের প্রকাশ্যে জ্বালানি তেল  বিক্রির কার্যক্রম  চালানোর অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। বিষয়টি  শুধু  লাইসেন্সবিহীনভাবে জ্বালানি তেল বিক্রির    অভিযোগে সীমাবদ্ধ থাকবে না; প্রশাসনের দেওয়া সিলগালা আদেশ কীভাবে অকার্যকর হলো, সেটিও  তদন্তের  বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। একই সঙ্গে প্রশ্ন ওঠেঅভিযানের পর সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো নিয়মিত তদারকি করা হয়েছিল কি না এবং প্রশাসনের নজরদারি ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না।
গত ১৯ আগস্টের অভিযানে ছয়টি কেন্দ্র সিলগালা উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট কুতুবজোমের তাজিয়াকাটা-ঘটিভাঙ্গা সরকারি খাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে লাইসেন্সবিহীন পাঁচটি ভাসমান তেল বিক্রয়কেন্দ্র ও একটি   তেলের  দোকান  সিলগালা করা হয়। একই অভিযানে  দুটি  প্রতিষ্ঠানকে  মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।
প্রশাসনের  ওই  পদক্ষেপের  পর  সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে জ্বালানি তেল বিক্রির কার্যক্রম বন্ধ থাকার কথা। কিন্তু স্থানীয়দের   অভিযোগ, কিছুদিন  পর  সিলগালা ভেঙে আবারও  তেল  বিক্রি  শুরু  হয়েছে। সিলগালা ভাঙার অভিযোগের   সত্যতা   কী? এই   অভিযোগের সত্যতা যাচাই   করাই   এখন   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়দের দাবি, সিলগালা   করা কেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু হয়েছে এবং সেখানে তেল বিক্রির কার্যক্রম চলছে। 
তাই প্রশ্ন উঠছে,সিলগালা সত্যিই ভাঙা হয়েছে কি না?
ভাঙা হয়ে থাকলে কারা তা করেছে? সিলগালা করার পর   সংশ্লিষ্ট   স্থানে   নিয়মিত নজরদারি ছিল কি না?
পুনরায়   তেল   বিক্রি   শুরু   হয়ে   থাকলে  বিষয়টি প্রশাসনের  নজরে  এসেছে কখন? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে সরেজমিন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরকারি    খালে    তেল    বিক্রি,   নিরাপত্তার  প্রশ্নও
অভিযোগের   আরেকটি   গুরুত্বপূর্ণ   দিক হলো তেল বিক্রয়কেন্দ্রগুলোর  অবস্থান সরকারি খাল এলাকায়। ভাসমান অবস্থানে জ্বালানি তেল মজুত ও বিক্রি করা হলে সেখানে প্রয়োজনীয় অনুমোদন,অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিবেশগত   নিরাপত্তা   ব্যবস্থা   রয়েছে   কি না, তা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।
স্থানীয়দের  মতে, জ্বালানি তেল  দাহ্য  পদার্থ হওয়ায় অননুমোদিতভাবে   মজুত   বা  বিক্রির অভিযোগকে কেবল রাজস্ব বা লাইসেন্সের বিষয় হিসেবে না দেখে জননিরাপত্তার   দিক    থেকেও     দেখা  প্রয়োজন।
অভিযানের  পরও  কার্যক্রম চললে দায় কার? একটি প্রতিষ্ঠানকে   প্রশাসন  অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও সিলগালা করল। এরপর যদি সেটি আবার খুলে যায়, তাহলে  শুধু নতুন করে অভিযান চালানোই যথেষ্ট কি না এ প্রশ্নও তুলছেন স্থানীয়রা।তাদের মতে, অভিযান-
পরবর্তী   তদারকি   জোরদার  না হলে একই ধরনের কার্যক্রম  বারবার  ফিরে  আসার সুযোগ থাকে। এতে প্রশাসনের সময় ও জনবল ব্যয়ের পাশাপাশি আইনের প্রয়োগ নিয়েও জনমনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
প্রশাসনের বক্তব্য কী? অভিযোগের বিষয়ে মহেশখালী উপজেলা   নির্বাহী   কর্মকর্তা   ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, “ঘটিভাঙ্গা ও তাজিয়াকাটা এলাকার তেলবাহী ‘বিসি’তে   বেশ   কিছুদিন আগে অভিযান পরিচালনা করে লাইসেন্সবিহীন পাঁচটি ভাসমান তেল বিক্রয়কেন্দ্র ও একটি   তেলের  দোকান  সিলগালা করা হয়। একই অভিযানে   দুটি   প্রতিষ্ঠানকে  মোট  ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।  তারা যদি  পুনরায় কার্যক্রম চালু করে,তাহলে তাদেরবিরুদ্ধে পুনরায় বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয়   ব্যবস্থা   নেওয়া    হবে।  ”প্রশাসনের এই বক্তব্যে  পুনরায়  কার্যক্রম   চালুর অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। 
এখন স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগটি  দ্রুত সরেজমিনে যাচাই   করে প্রকৃত   ঘটনা   জনসম্মুখে  আনা হোক।
নজরদারি  বাড়ানোর দাবি,  স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুধু তাজিয়াকাটা-ঘটিভাঙ্গা নয়, কুতুবজোমের বিভিন্ন এলাকায়  অনুমোদনহীনভাবে জ্বালানি তেল বিক্রি বা মজুত হচ্ছে কি না,তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট  প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স  ও অনুমোদন, তেল   সংরক্ষণের   নিরাপত্তাব্যবস্থা    এবং   সরকারি জায়গা ব্যবহারের বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।   এখন মূল   প্রশ্ন গত  ১৯  আগস্টের অভিযানে সিলগালা   করা    কেন্দ্রগুলো    প্রশাসনকে  বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে  যদি  সত্যিই  আবার  চালু হয়ে থাকে, তাহলে প্রশাসনের   সিলগালা   ভাঙল কে  এবং এতদিন ধরে কীভাবে কার্যক্রম চলল?
সিলগালা  ভেঙে  ফের তেল  বিক্রি করার রহস্য কি? 
কার ইন্ধন ও ইশারায় মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন নিরব   ভূমিকায়? অভিযোগের  সত্যতা  যাচাই করে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


এ জাতীয় আরো খবর