বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

ভালো মানুষ

  • লতিফা জাহান
  • ২০২৬-০৯-১৬ ১৩:৫৩:১৮

ভালো মানুষ বলতে আমরা কি বুঝি? আমরা সাধারণতঃ ভালো মানুষ বলতে বুঝি, যার ব্যবহার ভালো, যিনি অমায়িক এবং সদাহাস্যময় সত্যবাদী, যিনি কখনোই মিথ্যার আশ্রয় নেন না। চুরি করা বা কোন অবস্থায়ই অসদুপায় অবলম্বন করেন না। দেখতে হয়তো তেমন নয়, কিন্তু এমন ব্যক্তির সাহচর্যে মানুষ প্রীত হয়।
প্রখ্যাত মনীষী ডাঃ লুৎফর রহমানের একটি উক্তি এখানে মনে পড়ে গেল। তিনি বলেছেন,'মানুষের সুন্দর মুখ দেখে আনন্দিত হয়ো না। দেখতে সুন্দর হলেও স্বভাবে সে সুন্দর নাও হতে পারে। আমি দেখতে চাই, তোমার ভিতর বাহির, তোমার অন্তর।'
মানুষের প্রকারভেদঃ  কিছু মানুষ আছেন, যাঁর সংস্পর্শে সবার মন ভালো হয়ে যায়। তিনি হয়তো বেশি কথা বলেন না। কিন্তু তাঁর উপস্থিতি এক শান্তির আবহ সৃষ্টি করে। লোকজন এমন মানুষের দর্শনে আনন্দিত হন। এহেন মানুষের দুটি সুন্দর বাক্য সকলকে প্রভাবিত করে। এমন মানুষকে আলোকিত মানুষ বলা হয়। 
মন্দ লোকঃ আসলে এই পৃথিবীতে মন্দ লোক বলতে কেউ নেই। সবাইকে আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করেছেন। মানুষের কর্মই মানুষের পরিচয় বহন করে। এমনকি, যারযার ভাগ্যও তার কর্ম নির্ধারণ করে দেয়। কবি বলেছেন, তুমি যা রচিবে তাই ইতিহাস। এ কথার অর্থ কি? এ কথার অর্থ হলো, তুমি ভালো ভালো কাজ করবে। ভালো কাজ করতে করতে একদিন ইতিহাস সৃষ্টি করতে 
পারবে। গুড প্র্যাকটিস অর ব্যাড প্র্যাকটিস।
এক ধরণের মানুষ আছেন, যাঁরা মূহুর্তেই পরিবেশ দূষিত করে ফেলতে সিদ্ধহস্ত। এদের সাহচর্য সবাই এড়িয়ে চলে।
ইংরেজিতে বলে, বয়কট করা। শুধু তাই নয়। এরা হয় বড় ধরণের হিংসুক। কাহারও  ভালো সে করিতে জানেনা, কাহারও ভালো সে দেখিতে পারে না। কাহাকেও সে সহিতে পারে না। সুস্থ পরিবেশের মানুষকে মুহূর্তেই অসুস্থ বানিয়ে ফেলতে পারে। 
কথায় আছে, 'দুর্জন বিদ্বান হইলেও পরিত্যাজ্য। সর্পের মাথায় মণি থাকিলেও কি সে দংশন করিতে সংকুচিত হইবে?'
 অথবা এমন বলা যায় :--
 'দুষ্টলোকের মিষ্টি কথা, 
ঘনায়ে বসে কাছে,
কথা দিয়ে, কথা নিয়ে, 
প্রাণে মারে শেষে।।'

কিছু কিছু লোককে টক্সিক লোক বলা হয়। টক্সিন থেকে টক্সিক কথাটি এসেছে। এর অর্থও আধুনিক। মূলত, অত্যন্ত লোভী ও দুষ্ট প্রকৃতির লোকজন এরা। এমন লোক সমাজ-সংসারে ব্রাত্য। তাদের  
নিঃশ্বাসে বিষ নির্গত হয়। মানুষ অবশ্যই এদের থেকে শতহস্ত দূরে থাকতে চাইবে।
এরপর আসে স্কিটৎসোফ্রেনিয়া। একধরণের মানসিক বিকারগ্রস্ত এরা। সকল  মানুষের সাথে এরা মিলেমিশে থাকে। 'তাহারা কাহাকেও দেখিতে পারে না। 
কাহারও ভালো সহিতে পারে না। অপরের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়। নিজেও কাহারও ভালো কোনদিন করিতে পারে না। অসম্ভব আত্মকেন্দ্রিক ও হিংসুটে স্বভাবের হয়। কাহাকেও শান্তিতে থাকিতে দেয় না।' ফলে সে নিজেও শান্তি পায় না। এইধরণের লোককে উম্মাদ বলা হয়। সুস্থ মানুষেরা এদের থেকে শত হস্ত দূরে থাকবেন। 

লেখকের দায়:  এই লেখা কেউ আশাকরি পার্সোনালি নেবেন না।


এ জাতীয় আরো খবর