চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে উজান থেকে নেমে আসা ভারতীয় ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়েছে। পানি কমতে শুরু করেছে পদ্মা,মহানন্দা,পূণর্ভবা,পাগলা সহ সকল নদ-নদীর। তবে এখনও পানিবন্দি নদীতীরের কয়েক হ্জাার পরিবার। তাঁদের দূর্ভোগ এখনও কাটেনি। গবাদিপশু নিয়ে বিপদে পড়েছেন অনেকেই। ঝুঁকি বেড়েছে বন্যা পরবর্তী রোগ-বালাইয়ের। এখনও নৌকা নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে পানি উঠে যাওয়া হচ্ছে নি¤œাঞ্চলে। এদিকে জেলায় অব্যহত বৃষ্টিপাত পানিবন্দি মানুষের দূর্ভোগ বাড়িয়েছে। এছাড়া নদীর পানি একবার নিচু এলাকায় প্রবেশ করলে নেমে যেতে সময় লাগে।
এ অবস্থায় সরকারি ত্রাণ হিসেবে প্রথম দফার চাল বিতরণ অব্যহত রয়েছে। মঙ্গলবার(১৬ সেপ্টেম্বর) থেকে সেই সাথে শুকনো খাবার দেয়া শুরু হয়েছে। প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়,পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধিতে সবথেকে ক্ষতিগ্রস্থ ইউনিয়নগুলো হচ্ছে সদরের নারায়নপুর ও আলাতুলি, শিবগঞ্জের পাঁকা, দূর্লভপুর,উজিরপুর ও মনাকষা।
এদিকে এখনও পদ্মা তীরবর্তী সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার ৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনও পানিবন্দি থাকায় সেগেুলোতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার(১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল মতিন বলেন,দুই উপজেলার ১১টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা পানিবন্দি থাকায় সেগেুলোতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৩টি ও শিবগঞ্জ উপজেলার ৮টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অপরদিকে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দুই উপজেলায় ২৮ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখনও বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১২টি ও শিবগঞ্জ উপজেলায় ১৮টি বিদ্যালয় রয়েছে। কবে এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠদান শুরু করা যাবে তা পানি নেমে পরিবেশ উপযোগি হবার উপর নির্ভও করছে বলেও জানান ওই দুই কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসক আবু ছলেহ মো.মুসা জঙ্গী সদর উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নে দূর্গত এলাকা পরিদর্শণ করেন। তিনি বানভাসিদেও মাঝে শুকনো খাবার, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও স্যালাইন বিতরণ করেন। এ সময় তিনি দূর্গত জনগণের পাশে থাকার কথা জানান।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড(পাউবো) সূত্র জানায়, মঙ্গলবার(১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পদ্মা বিপদসীমার ৫০ সে.মি নীচে ২১.৫৫ মিটারে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছিল। এর আগে শনিবার(১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত পদ্মা বিপৎসীমার ২৬ সে.মি নীচ দিয়ে প্রবাহিত হবার পর ২৪ ঘন্টা স্থির থেকে রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে কমতে শুরু করে । অপরদিকে মহানন্দা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ১৯.৪১ মিটারে ও পূণর্ভবা ১৯.৫১ মিটারে বিপৎসীমার নীচে প্রবাহিত হচ্ছিল। জেলা পাউবো উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আতিকুল ইসলাম বলেন, বন্যা পূর্বাভাষ ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আগামী ৪দিন পদ্মার পানি হ্রাসের পূর্বাভাষ দিয়েছে। আপাতত: নতুন করে পানি বৃদ্ধির শংকা নেই।
শিবগঞ্জের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(পিআইও) মিজানুর রহমান বলেন, এ পর্যন্ত ২৬ টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
পাঁকা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন, পানি নামার সময় দূর্ভোগ বাড়ে। এখনও বহু পরিবার পানিবন্দি ও কিছু বাড়িতে পানি উঠে আছে। দূর্লভপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম আজম এখনও অনেক পরিবার পানিবন্দি থাকা সহ কিছু বাড়িঘরে পানি উঠে আছে জানিয়ে বলেন,তবে কিছু বাড়িঘর থেকে পানি নামতে শুরু করেছে।
সদরের পিআইও শাহীনুর রহমান বলেন, নারায়নপুর ও আলাতুলী ইউনিয়নে প্রায় ২ সহস্রাাধিক পরিবারকে ত্রাণ দেয়া হয়েছে। পানি নেমে যাবার সময় গবাদিপশু ও মানুষজনের রোগবালাই বাড়ে জানিয়ে তিনি বলেন,এমন সমস্যা প্রকট হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। শুকনো খবার দেয়ার জন্য ২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। নারায়নপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাজির হোসেন মানুষ ও গবাদিপশুর রোগবালাইয়ের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানান।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক আতিকুর রহমান জেলাব্যাপী এখন ১ হাজার ৬০০ বিঘা জমির ফসল নদীর পানি বৃদ্ধিতে আক্রান্ত রয়েছে বলে জানান।