মহেশখালী কক্সবাজার
ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশব্যাপী শুরু হয়েছে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬’। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি। জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতেও পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে মহেশখালী পৌরসভা, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিষয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংসে গুরুত্ব
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং জমে থাকা পানি অপসারণে। বাড়ির ছাদ, আঙিনা, ড্রেন-নালা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ারসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তাই এসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার ও পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদিত লার্ভিসাইড বা কীটনাশক ব্যবহারের পাশাপাশি মশার কামড় থেকে সুরক্ষায় মশারি ও অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে পরিবারে পৌঁছাবে বার্তা
অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ডেঙ্গুর কারণ, এডিস মশার প্রজননস্থল এবং প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে।
সচেতন শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা পৌঁছে দিলে তা তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনতা তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
একদিনের অভিযান নয়, চাই ধারাবাহিকতা
সংশ্লিষ্টদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধ কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের পরিচ্ছন্নতা অভিযান নয়; এটি ধারাবাহিক সামাজিক ও নাগরিক দায়িত্ব। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর করা কঠিন।
মহেশখালীতে উপজেলা প্রশাসন,পৌরসভা,ইউনিয়ন পরিষদ,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত অংশগ্রহণে এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যেক পরিবারকে নিজ নিজ বসতবাড়ি ও আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সচেতন নাগরিক ও সম্মিলিত উদ্যোগ ডেঙ্গু প্রতিরোধে এই তিনের সমন্বয়ই হতে পারে কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা।