ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি ঃ খুলনার ব্যস্ততম বাইপাস সড়কের ফুলতলার আফিলগেট ওয়াসা ভবনের বিপরীতে মহাসড়কের ওপর প্রতিদিন গড়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। জাতীয় মহাসড়কের মতো একটি দ্রæতগতির সড়কে স্থায়ীভাবে যানজট সৃষ্টি করে ও পানি ছিটিয়ে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে চালিয়ে যাচ্ছে এ কর্মকাÐ। এতে একদিকে যেমন যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার শঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে বিঘিœত হচ্ছে সাধারণ পরিবহন চলাচলের গতি।
সোমবার সকালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আফিলগেট এলাকায় সিএন্ডবি (সড়ক ও জনপথ) বিভাগ এবং ব্যক্তিগত জমি অবৈধভাবে দখল করে ঘর বেঁধে অবস্থান নিয়েছে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী। তারা সেলো মেশিন বসিয়ে মাছ পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাকে পানি সরবরাহের বাণিজ্য শুরু করেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সারি সারি মাছের ট্রাক রাস্তার একটি বড় অংশ জুড়ে দাঁড় করিয়ে রাখে। ফলে দূরপাল্লার দ্রæতগামী যানবাহন চলাচলে চরম বাধা সৃষ্টি হয়। শুধু তাই নয়, পাইপ ও সেলো মেশিনের পানি ছিটানোর কারণে পিচ ঢালা ব্যস্ততম রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মহাসড়কে চলাচলকারী দূরপাল্লার একাধিক ড্রাইভার আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, জাতীয় মহাসড়ক কোনো নির্দিষ্ট ব্যবসার কেন্দ্র কিংবা ট্রাক টার্মিনাল হতে পারে না। আফিলগেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দূর-দূরান্ত থেকে আসা দ্রæতগতির গাড়িগুলোকে হুট করেই গতি কমাতে হয় কিংবা ব্রেক কষতে হয়, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরণের সড়ক দুর্ঘটনার রূপ নিতে পারে। ছোট-বড় দুর্ঘটনা প্রতিদিনের নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল এবং সাধারণ চালকদের দাবি, অবিলম্বে এই ব্যবসা মহাসড়ক থেকে অপসারণ করে নিরাপদ কোনো সুবিধাজনক স্থানে স্থানান্তর করা হোক। একই সাথে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে সড়কটিকে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত করার জোর দাবি জানান তারা।
মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং সম্ভাব্য বড় কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানি এড়াতে রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে (সড়ক ও জনপথ) বিভাগ, হাইওয়ে পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রæত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ ও সচেতন মহল।