বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৬, ২০২৬

শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনায় বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত

  • গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের,
  • ২০২৬-০৮-০৫ ১৮:৫৮:০৩

মহেশখালী (কক্সবাজার)
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এই দিনকে স্মরণ করে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন, আহতদের অবদানের স্বীকৃতি এবং গণ-অভ্যুত্থানের আদর্শ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) '৩৬ জুলাই' স্মরণে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, এমপি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবায়েত আহমেদ এবং মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস সোলতান।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের যোদ্ধাবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। এই আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদদের আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। একই সঙ্গে আহত ও সংগ্রামী মানুষের অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ বলেন, দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত সম্মান হবে একটি মানবিক, বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদদের স্মৃতি অম্লান রাখা এবং নাগরিকদের মধ্যে দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ের আন্দোলনের স্মারক নয়; এটি ন্যায়, সাম্য, মানবিকতা এবং নাগরিক অধিকারের প্রতীক। এ চেতনাকে ধারণ করেই উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি আধুনিক ও কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সকল শহীদের আত্মার শান্তি কামনা, আহতদের সুস্থতা এবং দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত সবাই শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের আদর্শ বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
মহেশখালী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়। অংশগ্রহণকারীদের মতে, এ ধরনের আয়োজন জাতীয় ইতিহাস ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 


এ জাতীয় আরো খবর