মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। শুক্রবার টানা সপ্তম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন উত্তেজনায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
রয়টার্স, আল জাজিরা ও আনাদোলুর খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করে ইরানের নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক রসদ সরবরাহ অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভাণ্ডার এবং নৌ সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য, প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোকে ঘিরে নৌ অবরোধ আরও জোরদার করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনাকেও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলে মাইনযুক্ত এলাকায় প্রবেশের সময় দুটি তেলের ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া গত কয়েক ঘণ্টায় প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা চারটি অনুপ্রবেশকারী জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও তাদের দাবি।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ঘোষণায় বিপ্লবী গার্ড জানায়, যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ না করা পর্যন্ত উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল, গ্যাস ও রাসায়নিক সার রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না। এ ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে শনিবার ভোরে ইরানের হরমুজগান প্রদেশে নতুন করে মার্কিন হামলার খবর দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এতে অন্তত তিনজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। হামলায় দুটি সেতু ও একটি টানেলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ বেড়েছে। এতে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের মত।
সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারেও পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় তিন শতাংশ বেড়েছে। টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো মূল্যবৃদ্ধিতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা এবং বিপ্লবী গার্ডের সাবেক শীর্ষ কমান্ডার মোহসেন রেজাই সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আরও কয়েক দিন হামলা চালায়, তাহলে ইরান পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানে যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান এই সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাই নয়, বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, হরমুজ