যুক্তরাষ্ট্রের তারকা ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনকে দেখানো সরাসরি লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা বলেছিলেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি দাবি করেন, শাস্তি বাতিল বা প্রত্যাহারের জন্য তিনি কোনো অনুরোধ করেননি।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, তাঁর দৃষ্টিতে ঘটনাটি ফাউল ছিল না। তাই তিনি শুধু সিদ্ধান্তটি পুনরায় পর্যালোচনার অনুরোধ করেছিলেন, কোনো নির্দিষ্ট ফল নিশ্চিত করার চেষ্টা করেননি।
ট্রাম্পের ভাষ্য, দুই খেলোয়াড়ই সর্বোচ্চ গতিতে দৌড়াচ্ছিলেন এবং ঘটনাক্রমে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তিনি এটিকে স্বাভাবিক খেলার অংশ বলেই মনে করেন। একই সঙ্গে নিজের ক্রীড়া-জ্ঞান প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, খেলাধুলা সম্পর্কে তাঁর ভালো ধারণা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রথমদিকে তিনি জানতেন না যে সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ার ফলে বালোগুনকে পরবর্তী ম্যাচে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষিদ্ধ থাকতে হবে। পরে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি এ নিয়মকে অন্যায্য বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে ম্যাচের রেফারি রাফায়েল ক্লাউসের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, রেফারির অতীত রেকর্ড পর্যালোচনা করলে কিছু বিষয় সন্দেহের জন্ম দিতে পারে।
শেষ ৩২-এর ম্যাচে বসনিয়ার বিপক্ষে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের পায়ের ওপর পা পড়ার ঘটনায় ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনার পর বালোগুনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়। যদিও সেই ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র ২-০ গোলে জয় পায়, তবু নিয়ম অনুযায়ী বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে তাঁর খেলার সুযোগ থাকার কথা ছিল না।
ফিফার প্রচলিত বিধান অনুযায়ী, সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হলে খেলোয়াড়কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ভোগ করতে হয় এবং সাধারণভাবে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দলের আপিলের সুযোগ থাকে না।
তবে ফিফা রোববার জানায়, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ফোনকলের পর ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি বালোগুনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তাঁর খেলার পথ খুলে যায়।
এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, এখন দুই দলই পূর্ণ শক্তির স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামতে পারবে। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতিতে জয়ী দলই প্রকৃত কৃতিত্বের দাবিদার হবে।
একই বক্তব্যে ট্রাম্প আরও বলেন, ভিন্ন পরিস্থিতিতে ফল এলে তিনি সেটিকে কারচুপি বলতে পারেন। এ সময় তিনি ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে নিজের আগের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করেন। তবে উল্লেখ্য, সে নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
অন্যদিকে বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে বেলজিয়ামের ফুটবল কর্তৃপক্ষ। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, এ সিদ্ধান্তে তারা বিস্মিত এবং এটি ফিফার নিজস্ব নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে তাদের অভিমত।
চলতি বিশ্বকাপে তিন গোল করে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গোলদাতা বালোগুন দলের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা। তাই বেলজিয়ামের বিপক্ষে তাঁর অনুপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারত।
ট্রাম্প, বালোগুন, ফিফা