পেসার নাহিদ রানার দুর্দান্ত বোলিংয়ে নতুন রেকর্ড গড়লেও ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতায় সিরিজের প্রথম একদিনের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ২৫ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। হারারের স্পোর্টস ক্লাব মাঠে স্বাগতিকদের ১৪১ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১১৬ রানেই অলআউট হয়ে যায় টাইগাররা। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল জিম্বাবুয়ে।
টসে জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। শুরুতে জিম্বাবুয়ে কিছুটা স্বচ্ছন্দে খেললেও সপ্তম ওভারে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ। ওই ওভারে রানআউটের মাধ্যমে বেন কারানের বিদায়ের পর ব্রায়ান বেনেটকেও ফেরান তিনি। এরপর নবম ওভারের প্রথম বলেই ক্রেইগ আরভিনকে বোল্ড করে স্বাগতিকদের চাপে ফেলে দেন এই পেসার।
৩৮ রানে তিন উইকেট হারানোর পর জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান নাহিদ রানা। দুরন্ত গতির বোলিংয়ে তিনি সিকান্দার রাজা, ওয়েসলি মাধভেরে, ক্লাইভ মাদান্দে, ইনোসেন্ট কাইয়া ও ব্র্যাড ইভান্সকে ফিরিয়ে দেন। মাত্র ২৫ রান যোগ করতেই আরও পাঁচ উইকেট হারিয়ে ৭০ রানে অষ্টম ব্যাটারকে হারায় জিম্বাবুয়ে।
এটি ছিল নাহিদ রানার একদিনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো পাঁচ বা তার বেশি উইকেট শিকার। এর আগে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও তিনি এমন কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন।
তবে নবম উইকেটে অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভা ও নিউম্যান ন্যামহুরির ৬৩ রানের জুটি জিম্বাবুয়েকে বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা করে। দুজনের দৃঢ় প্রতিরোধে দলীয় সংগ্রহ একশ পার হয়। শেষ পর্যন্ত ৩৪তম ওভারে এনগারাভাকে বোল্ড করে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো এক ইনিংসে ছয় উইকেট পূর্ণ করেন রানা। এনগারাভা ২৭ ও ন্যামহুরি ৩৩ রান করেন।
এরপর শেষ উইকেট তুলে নিয়ে ৩৬.৪ ওভারে জিম্বাবুয়েকে ১৪১ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। ১০ ওভারে মাত্র ২১ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং করেন নাহিদ রানা। একই সঙ্গে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিংয়ের নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি। পেছনে ফেলেন সাবেক দুই পেসার মাশরাফি বিন মুর্তজা ও রুবেল হোসেনকে। তাসকিন নেন দুটি এবং মেহেদী হাসান মিরাজ একটি উইকেট।
সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ১৭ রান তুলতেই ফিরে যান তিন ব্যাটার। তানজিদ হাসান ৮, নাজমুল হোসেন শান্ত ৩ ও সৌম্য সরকার ৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন।
চতুর্থ উইকেটে তাওহীদ হৃদয় ও নুরুল হাসান সোহান ৪৯ রানের জুটি গড়ে আশা জাগালেও সেই জুটি ভাঙতেই আবারও ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং। হৃদয় ২৫ রান করে আউট হওয়ার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সফরকারীরা।
শেষ পর্যন্ত ৫০ রানের মধ্যে শেষ সাত উইকেট হারিয়ে ৩৩.১ ওভারে ১১৬ রানেই থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। নুরুল হাসান সোহান ৪৪ বলে তিন চার ও এক ছক্কায় সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন। মেহেদী হাসান মিরাজ ১০, মোসাদ্দেক হোসেন ৩, রিশাদ হোসেন ৩, তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান ৫ রান করে আউট হন। নাহিদ রানা ৫ রানে অপরাজিত থাকেন।
জিম্বাবুয়ের হয়ে রিচার্ড এনগারাভা ও ব্র্যাড ইভান্স তিনটি করে উইকেট নেন। ব্লেসিং মুজারাবানি ও নিউম্যান ন্যামহুরি শিকার করেন দুটি করে উইকেট। ব্যাট হাতে ৩৩ রান এবং বল হাতে দুটি উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন ন্যামহুরি।
সিরিজে পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ আগামী ৯ জুলাই দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে।
নাহিদ রানা, বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়ে