শুক্রবার, জুলাই ৩, ২০২৬

নজরুল কেবল অতীতের নন,ভবিষ্যৎ প্রজন্মেরও আলোকবর্তিকা: প্রধানমন্ত্রী

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৭-০২ ১৭:৪১:১৪
ছবি: সংগৃহীত।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে কেবল ইতিহাসের গণ্ডিতে আবদ্ধ করে দেখার সুযোগ নেই; তিনি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার অক্ষয় উৎস বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর ভাষায়, নজরুল আমাদের জাতীয় চেতনা, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের এমন এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যার প্রাসঙ্গিকতা কখনো শেষ হওয়ার নয়।
বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আয়োজিত ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকার ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে কবির স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ হিসেবে ঘোষণার সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি জাতির ইতিহাসে এমন কিছু বিরল ব্যক্তিত্বের আবির্ভাব ঘটে, যারা সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি, সমাজচিন্তা ও মানুষের মননকে দীর্ঘকাল প্রভাবিত করেন। কাজী নজরুল ইসলাম তেমনই এক অনন্য ব্যক্তিত্ব, যিনি শৈশব থেকে পরিণত বয়স পর্যন্ত বাঙালির জীবনবোধে গভীর ছাপ রেখে গেছেন।
তিনি বলেন, বিদ্রোহ, সাম্য, প্রেম, মানবতা, ধর্মীয় সম্প্রীতি, প্রকৃতি কিংবা তারুণ্যের উচ্ছ্বাস—নজরুল তাঁর সৃষ্টিতে জীবনের প্রতিটি দিককে অসাধারণ শক্তি ও সৌন্দর্যে তুলে ধরেছেন। অন্যায়, বৈষম্য, শোষণ ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তাঁর কলম ছিল প্রতিবাদের শক্তিশালী অস্ত্র।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন গণআন্দোলনে নজরুলের কবিতা ও গান মানুষকে সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছে। সেই কারণে নতুন প্রজন্মের মধ্যেও কবির জীবন ও সাহিত্যকে আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে দিতে সরকার বছরব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্বে তরুণদের নৈতিক বিকাশে নজরুলের সাহিত্য বিশেষভাবে প্রয়োজন। ‘আমি হবো সকাল বেলার পাখী’ কিংবা ‘থাকবো নাকো বদ্ধ ঘর’-এর মতো রচনাগুলো নতুন প্রজন্মকে ইতিবাচক জীবনবোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী নিজের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির কথা উল্লেখ করে বলেন, তাঁর কাছে নজরুল মানে ‘বাংলাদেশের মন’। সাম্য, মানবতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতির যে দর্শন কবি আজীবন লালন করেছেন, বর্তমান সরকারও বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে সেই আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করছে।
তিনি ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের বিভিন্ন আয়োজনে গবেষক, শিল্পী ও নজরুল অনুরাগীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সাহিত্য সম্মেলন, গবেষণা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক উৎসব, নজরুল সংগীতের আসর, নাট্যোৎসব ও চিত্রপ্রদর্শনীর মাধ্যমে জাতীয় কবির ভাবধারা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এ সময় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট ও লোগোও উন্মোচন করা হয়।
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, গবেষক ও শিল্পীরা ভার্চুয়ালি অংশ নেন।

নজরুল বর্ষ, তারেক রহমান, জাতীয় কবি


এ জাতীয় আরো খবর