মঙ্গলবার, জুন ৩০, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঔষুধের দামে দিশেহারা মানুষ,মানহীণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও ক্ষতি করছে রোগিদের

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৬-০৬-২৯ ১৯:২৯:১৯

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ওষুষের মূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের নাভি:শ^াস অবস্থা, দিশেহারা সাধারণ মানুষ। রোগি,ওষুধ বিক্রেতা, ফার্মেসি স্বত্বাধিকারি, চিকিৎসক সহ সকলেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মানুষকে অন্য প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় কমিয়ে, নিজ ও পরিবারের আনন্দ বিনোদন উপেক্ষা করে ওষুধের বর্ধিত মূল্য সমন্বয় করতে হচ্ছে।ক্রমাগত বাড়ছে জীবন রক্ষাকারী ওষুধের মূল্য। বাজারে মেয়াদ ও মানহীণ ওষুধের দৌরাত্মও রয়েছে।
শহরের বড় ওষুধের দোকান প্রিয়া ফামের্সি স্বত্বাধিকারী  খাদেমুল ইসলাম বলেন, বিগত সরকারের একবারে শেষ সময়ে (প্রায় ৪ মাস আগে) ওষুষের দাম বৃদ্ধির একটি ঝড় গেছে। এন্টিবায়োটিক (সেফুরক্সিম, সেফিক্সিম, এজিথ্রোমাইসিন), ডায়াবেটিসের সিটাগ্লিপটিন, কার্ডিয়াক ট্রাইমেটাজিন, লোসারটন পাটাশিয়াম, নাইটোগ্লিসারিন, কিডনি রোগের হাইপোফস জাতীয় (ওষুধের নামগুলি জেনেরিক,বিভিন্ন কোম্পানীর ব্রান্ডনেম ভিন্ন) ওষুধের দাম বিভিন্ন পরিমানে বেড়েছে। কার্ডিয়াক ট্রয়োমটিরিন ওষুধটির দাম আচমকা ১ টাকা থেকে বেড়ে ৫টাকা হয়েছে।  এধরণের মূল্য বৃদ্ধি অস্বাভাবিক। তবে বিপরীতে একটি কোম্পানীর ইনসুলিন সহ  মাত্র ২/১টি ওষুধের দাম  সামাণ্য  কমেছে। ওষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা ওষুধ বিক্রেতাদের জানিয়েছেন, কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি, ডলারের দামের ওঠানামা, আমদানী খরচ,কোম্পানীর অপারেটিং  ব্যয় বৃদ্ধি  এবং কর-ভ্যাট ওষুধের দাম বৃদ্ধির কারণ।
রোগিদের বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করে সরকারি হাসপাতালগুলো। ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. জমির মো.হাসিবুস সাত্তার বলেন, ধারণ ক্ষমতার প্রায় ৩গুন রোগি ভর্তি থাকে হাসপাতালে। বরাদ্দ ২৫০ রোগির। এরপরও যতটুকু সম্ভব ওষুধ ভর্তি রোগিদের দেয়া হচ্ছে। সরকারি এসনসিয়াল ড্রাগ কোম্পানী থেকে ৬৫ শতাংশ ও নিজস্ব টেন্ডারে ৩৫ শতাংশ ওষুধ ক্রয় করা হচ্ছে। ভর্তি রোগিদের তুলনায় বর্হি:বিভাগের (আউটডোর)  রোগিরা ওষুধ পায় কম। তবে বেশিরভাগ রোগিকেই রোগিকেই সম্পূর্ণ ওষুধ দেয়া সম্ভব হয় না। সাপে কাটা রোগিদের এন্টিভেনম, কুকুর কামড়ের র‌্যাবিস ইত্যাদি জাতীয় কিছু মূল্যবান দূস্প্রাপ্য ওষুধ বিনামূল্যে দেয়া হয়।
এদিকে বাজারে ভেজাল বা মানহীণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের সমস্যাও রয়েছে। যা ক্ষতি করছে রোগিদের। ওষুধ প্রশাসনের জেলা  তত্ববধায়ক রাহুল কৃষ্ণ রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওষুধ প্রশাসনের তত্ববধায়ক বলেন, প্রতিমাসে জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে (র‌্যানডমলি) বিভিন্ন ওষুধের নমুণা সংগ্রহ করে ল্যাব টেষ্টে পাঠানো হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিগত তিন মাসের মধ্যে কয়েকটি কোম্পানীর  (বেশিরভাগই ছোট ও অখ্যাত) তৈরী  কিছু ওষুধ (ব্যাচ ওয়াইজ) ভেজাল বা যথেষ্ট মানস্পন্ন নয় (সাব স্ট্যান্ডার্ড) বলে রিপোর্ট  এসেছে। এ ব্যাপারে উর্ধতণ কতৃপক্ষকে  জানানো হয়েছে। কৃর্তপক্ষ এ ব্যাপারে ব্যবস্থাও নিয়েছে (ওয়েবসাইটে প্রকাশিত)। তিনি বলেন ওষুধ বাজার নিয়মিত মনিটরিং করা হয়। গত মে মাসে দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। দ্রতই আবার পরিচালনা করা হবে। এছাড়া ওষুধ প্রশাসন নিয়মিত মেয়াদোত্তীর্ণ ও চিকিৎসকের জন্য তৈরী(ফিজিশিয়ান স্যাম্পল) ওষুধ জব্দ করে।
সিভিল সার্জন ডা. এ.কে.এম সাহাবুদ্দীন বলেন, উপজেলার হাসপাতালগুলো নিজেরাই নীতিমালা অনুযায়ী ওষুধ কিনে।  কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যতদুর সম্ভব ওষুধ দেয়া হচ্ছে। তবে চাহিদার তুলনায় বাজেট ও সরবরাহ কম হওয়ায় ইচ্ছে থাকলেও অনেক ওষুধ দেয়া যাচ্ছে না।
জেলা হাসপাতালে গত ২৭ জুন ভর্তি ডায়ারিয়া রোগি সদর উপজেলার  বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম(৫৩) বলেন, দুদিনে স্যালাইন সহ ১টি ওষুধ হাসপাতাল থেকে দেয়া হয়েছে। একটি কিনতে হয়েছে বাইরে থেকে। গত ২৫ জুন ভর্তি হওয়া রামজীবনপুর গ্রামের অটোরাইসমিল মেকানিক ও শ^াসকষ্টের রোগি ফাররুক আহমে(৫১) বলেন,ইনহেলার নিজের  লেগেছে। একটি ওষুধও কিনতে হয়েছে। অক্সিজেন সহ অন্য ওষুধ হাসপাতাল থেকে দিয়েছে। 


এ জাতীয় আরো খবর