সোমবার, জুন ২৯, ২০২৬

মাতারবাড়িতে ১২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন হলেও অন্ধকারে মহেশখালী,২৫ মেগাওয়াট সংরক্ষণের দাবি

  • গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের,
  • ২০২৬-০৬-২৯ ১৫:১২:৪৪

মহেশখালী (কক্সবাজার) 
দেশের  অন্যতম  বৃহৎ  বিদ্যুৎ  উৎপাদন কেন্দ্র  দ্বীপ উপজেলা  মহেশখালীর  মাতারবাড়ি  কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলেও বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে পুরো মহেশখালী উপজেলা। 
স্থানীয়দের অভিযোগ, যেই  এলাকার জমি অধিগ্রহণ করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ  এই বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করা হয়েছে,সেই এলাকার মানুষ আজও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
জানা গেছে, মহেশখালী উপজেলায় বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৫ মেগাওয়াট। কিন্তু  জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১২ মেগাওয়াট। 
ফলে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় লোডশেডিং, ভোল্টেজ ওঠানামা  ও  হঠাৎ  বিদ্যুৎ  বিভ্রাটে চরম দুর্ভোগ
পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয়  ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, হাসপাতাল  ও  পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান,বিদ্যুতের এমন সংকটের কারণে উপজেলার   ব্যবসা-বাণিজ্য,    শিক্ষা     কার্যক্রম,
স্বাস্থ্যসেবা এবং ক্ষুদ্র শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অনেক   এলাকায়   দিনে   একাধিকবার  বিদ্যুৎ  চলে যাচ্ছে। আবার সামান্য বৃষ্টি বা বাতাস হলেই ৩৩ কেভি ফিডারে  ত্রুটি  দেখা দেয়,  যা  মেরামত করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগে। এতে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে আসে।
স্থানীয়  সচেতন মহল বলছে, মহেশখালী এখন দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি  পেলেও   স্থানীয়  জনগণ   উন্নয়নের  প্রকৃত সুফল পাচ্ছে না। 
মাতারবাড়ি   গভীর   সমুদ্রবন্দর, কয়লা  বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি ও বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে এই অঞ্চলের মানুষ ভূমি হারিয়েছে, পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলা  করছে  এবং  নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কিন্তু বিনিময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধাও নিশ্চিত করা হয়নি।
স্থানীয়  বাসিন্দাদের  দাবি,মাতারবাড়ি  কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ থেকে অন্তত ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মহেশখালী উপজেলার জন্য সংরক্ষণ করতে হবে।
তাদের ভাষ্য, এটি কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং স্থানীয় জনগণের ন্যায্য অধিকার।
মহেশখালীর বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের নেতারা বলেন, “যে  জমির  ওপর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হয়েছে, সেই এলাকার মানুষ কেন অন্ধকারে থাকবে? 
জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার আগে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।”
তারা  আরও  বলেন,শুধু  বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেই হবে না, স্থানীয়  অবকাঠামো  উন্নয়ন, নতুন  ফিডার স্থাপন, বিকল্প সংযোগ ব্যবস্থা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।  অন্যথায়  উন্নয়নের  নামে স্থানীয় মানুষ বঞ্চনার শিকার হয়েই থাকবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন   মহেশখালীবাসী।  স্থানীয়দের   প্রত্যাশা, মাতারবাড়িতে  উৎপাদিত  বিদ্যুতের  ন্যায্য  অংশ  মহেশখালীর জন্য বরাদ্দ দিয়ে অন্তত ২৫ মেগাওয়াট নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।


এ জাতীয় আরো খবর