রবিবার, জুন ২৮, ২০২৬

কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার রেকর্ড ১৫ কোটি ৯০ লক্ষ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা

  • ফারুকুজ্জামান, কিশোরগঞ্জ
  • ২০২৬-০৬-২৭ ২২:৫৩:২৭

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে ৬মাস  পর এবার রেকর্ড ১৫ কোটি ৯০লক্ষ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে। এছাড়া পাওয়া গেছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার।
শনিবার (২৭ জুন ) সকাল ৭টায় মসজিদটির ১৩টি দানবাক্স খোলার মধ্য দিয়ে ৪৩ বস্তা টাকা গণনার কাজ শেষ করে এ টাকা পাওয়া গেছে। 
পাগলা মসজিদ মাদরাসা ও আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়ার ছাত্র এবং রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে মোট ৫৪০ জন টাকা গণনার কাজ করছেন। পুলিশ ও আনসার সদস্যরা ছাড়াও মসজিদ-মাদরাসার ৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের সহায়তা করছেন। 
এর আগে সর্বশেষ গত ২৭ ডিসেম্বর  মসজিদের ১৩ দানবাক্সে ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া গিয়েছিল। পরে টাকা গণনা করে  সর্বোচ্চ ১২ কোটি ৯লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। এছাড়া পাওয়া যায় বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা, রূপা ও হীরার গয়না।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন  ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের উপস্থিতিতে দানবাক্স খোলা হয়। এ সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহবায়ক মো. এরশাদুল আহমেদ , অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মারুফ, রূপালী ব্যাংকের ম্যানেজার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণসহ মসজিদ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা শহরের নরসুন্দা নদী তীরের ঐতিহাসিক এই মসজিদটিতে নয়টি লোহার দানবক্স আছে। প্রতি তিন থেকে চার মাস পর পর এই বাক্সগুলো খোলা হয়। প্রথমে টাকাগুলো লোহার সিন্দুক থেকে বস্তায় ভরা হয়। পরে মসজিদের দোতলায় নিয়ে মেঝেতে ঢালা হয়। এরপর শুরু হয় টাকা গণনার কাজ।
জানা যায়, প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এসে এই মসজিদে দান করছেন। যারা দান করতে আসেন তারা বলে থাকেন, এখানে দান করার পরে নাকি তাদের মনের আশা পূরণ হয়েছে। আর এ কারণেই দিন দিন দানের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জেলা প্রশাসক ও মসজিদ কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন  বলেন,  কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদকেন্দ্রিক একটি ইসলামি কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে। ভবনটি হবে ১০ তলাবিশিষ্ট এবং এখানে বহুমুখী কাজ করা হবে। এখানে অনাথ–এতিমদের জন্য লেখাপড়ার ব্যবস্থা, ধর্মীয় শিক্ষা, মাদরাসাশিক্ষা, একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার, ক্যাফেটেরিয়া ও আইটি সেকশনও থাকবে।এই মসজিদের বর্তমান আয়তন পাঁচ দশমিক পাঁচ একর। ১০ তলাবিশিষ্ট আধুনিক ভবনের জন্য আরো কিছু জায়গা কেনা হবে। এই মুহূর্তে পাগলা মসজিদের অ্যাকাউন্টে মানুষের দানের ১১৪ কোটি টাকা জমা আছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, দানবাক্স খোলা থেকে শুরু করে বস্তায় ভরা এবং গণনা শেষে ব্যাংক পর্যন্ত সব টাকা নিরাপদে পৌঁছে দেয়া পর্যন্ত সার্বিক নিরাপত্তার কাজে তিনিসহ তার পুলিশ সদস্যরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করেন।
কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে পাগলা মসজিদ অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান। শহরের পশ্চিমে হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে মাত্র ১০ শতাংশ ভূমির ওপর এই মসজিদটি গড়ে উঠেছিল। সময়ের বিবর্তনে আজ এ মসজিদের পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে এর খ্যাতি ও ঐতিহাসিক মূল্যও। বর্তমানে ৫.৫ একর ভূমির উপর সম্প্রসারিত পাগলা মসজিদ এলাকায় মসজিদকে কেন্দ্র করে একটি অত্যাধুনিক ধর্মীয় কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

 


এ জাতীয় আরো খবর