মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি শান্তি সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় শেহবাজ শরিফ বলেন, দীর্ঘ ও নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনার পর দুই দেশ সমঝোতায় উপনীত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উভয় পক্ষ লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট সব সংঘাতপূর্ণ ক্ষেত্রে সামরিক তৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আর কোনো টোল বা বাধা থাকবে না। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানান, সুইজারল্যান্ডে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে। ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে এ সমঝোতাকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
চুক্তির খবরে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জাতিসংঘসহ ইউরোপের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ইতালি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে সংঘাত শুরু হয়। পরবর্তীতে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পাল্টা উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যায় এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর চারপাশে নৌ অবরোধ জোরদার করে।
বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, জেনেভায় সম্ভাব্য স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উপস্থিত থাকতে পারেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।
ঘারিবাবাদি জানান, কাতারের মধ্যস্থতায় তেহরানে দীর্ঘ বৈঠকের মাধ্যমে একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রায় ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় ইরানের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সংশোধনী প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয় এবং সেগুলো গ্রহণের পর খসড়া প্রস্তুত হয়।
তার মতে, চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে আলোচনা আরও ৬০ দিন চলতে পারে। এই সময়ে ইরানের প্রধান অগ্রাধিকার থাকবে দেশটির ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত খসড়া তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য সমঝোতায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে-সব ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ না করার অঙ্গীকার, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা, ইরানের জ্বালানি খাতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা।
এছাড়া ইরানের পুনর্গঠন সহায়তায় কয়েকশ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা, জব্দ হওয়া অর্থের একটি অংশ মুক্ত করা এবং ভবিষ্যতে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে বলে খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব শর্তের কোনোটি এখনো যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আগে আরও কয়েক দফা কারিগরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
কী-ওয়ার্ডস: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান,শান্তি সমঝোতা,হরমুজ প্রণালি,জেনেভা চুক্তি,মধ্যপ্রাচ্য সংকট