রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬

বৃক্ষরোপণের আহ্বানের বিপরীতে সোনাদিয়ায় প্যারাবন নিধ,প্রশ্নের মুখে পরিবেশ সুরক্ষা

  • গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের
  • ২০২৬-০৬-১৩ ১৯:৪২:৪৩

মহেশখালী (কক্সবাজার)
দেশজুড়ে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির  নানা  কর্মসূচি  চললেও মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া  দ্বীপে  প্যারাবন  নিধনের অভিযোগ উদ্বেগ বাড়িয়েছে। 
স্থানীয়দের  দাবি, প্রভাবশালী  ভূমিদস্যু  ও দখলচক্রের সদস্যরা উপকূলীয় এই গুরুত্বপূর্ণ বনভূমি উজাড় করে চিংড়ি  ঘের,  লবণ  মাঠ  এবং  বিভিন্ন  স্থাপনা  নির্মাণে জড়িয়ে পড়েছে। 
ফলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয়  সূত্রে  জানা  গেছে, দীর্ঘদিন  ধরে  সোনাদিয়া দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় প্যারাবন কেটে ভূমি দখলের ঘটনা ঘটছে। বন বিভাগ কয়েকটি ঘটনায় মামলা ও ক্ষতিপূরণ  আদায়ের  উদ্যোগ  নিলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তাদের দাবি, বনভূমি দখল ও প্যারাবন নিধনের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি আইনগত প্রক্রিয়ায় জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
এতে বনভূমি ধ্বংসের প্রবণতা কমার পরিবর্তে আরও বেড়ে যাচ্ছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন,উপকূলীয় প্যারাবন প্রাকৃতিক দুর্যোগ  মোকাবিলায়  অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ঘূর্ণিঝড়,জলোচ্ছ্বাস ও উপকূলীয় ক্ষয়রোধে এই বন প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা দেয়াল হিসেবে কাজ করে।
একই সঙ্গে এটি বিভিন্ন প্রজাতির পাখি,মাছ,কাঁকড়া এবং অন্যান্য বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল।
বিশেষজ্ঞদের  মতে, প্যারাবন  ধ্বংস অব্যাহত থাকলে শুধু জীববৈচিত্র্য নয়,উপকূলীয় এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।এর সরাসরি প্রভাব   পড়বে   স্থানীয়   মানুষের  জীবন-জীবিকা  ও নিরাপত্তার ওপর।
স্থানীয় বাসিন্দাদের  অভিযোগ, প্রকাশ্যে বনভূমি দখল ও   প্যারাবন  উজাড়ের   ঘটনা ঘটলেও অনেক  ক্ষেত্রে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডে জড়িতরা আরও উৎসাহিত হচ্ছে।
এদিকে,প্যারাবন নিধনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি  ও   আইনশৃঙ্খলা   রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা   নিয়েও   প্রশ্ন  উঠেছে।  সচেতন   নাগরিকরা অভিযোগগুলোর   নিরপেক্ষ  তদন্ত  এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা  গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য,মহেশখালী  উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ অভিযানে বিভিন্ন সময় সোনাদিয়া দ্বীপে প্যারাবন কেটে  গড়ে  ওঠা  একাধিক  অবৈধ  চিংড়ি ঘের উচ্ছেদ করা   হয়েছে।  কিন্তু  স্থানীয়দের  অভিযোগ,  অভিযান শেষ  হওয়ার  কিছুদিনের  মধ্যেই দখলদাররা আবারও বনভূমি দখল ও ধ্বংসের কর্মকাণ্ড শুরু করে।
সচেতন মহলের মতে,সোনাদিয়ার   পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্যারাবন নিধনের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা, ক্ষতিগ্রস্ত বনাঞ্চল পুনরুদ্ধার এবং স্থায়ী নজরদারি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় প্রতিবেশব্যবস্থা অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

 


এ জাতীয় আরো খবর