ঈদুল আজহা মানে আনন্দের যাত্রা-কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই যাত্রাই প্রতিবছর শত শত মানুষের জীবনের শেষ যাত্রায় পরিণত হচ্ছে।
সাম্প্রতিক ঈদুল আজহার সময় বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহ চিত্র আবারও সামনে এসেছে। বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী—
ঈদযাত্রা চলাকালীন ৪০০-এর বেশি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন
হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন
শত শত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঈদকালীন সময়ে
এই সংখ্যা শুধু পরিসংখ্যান নয়—প্রতিটি সংখ্যা একটি ভেঙে যাওয়া পরিবার ও অপূরণীয় ক্ষতির গল্প।
সমস্যার মূল কারণঃ
ঈদ মৌসুমে সড়ক দুর্ঘটনার এই ভয়াবহ বৃদ্ধি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর পেছনে রয়েছে—
বেপরোয়া গতি ও ট্রাফিক আইন অমান্য
ফিটনেসবিহীন ও অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার উচ্চ হার
চালকের ক্লান্তি ও দুর্বল ব্যবস্থাপনা
দুর্বল নজরদারি ও আইন প্রয়োগ
সড়ক ব্যবস্থায় কাঠামোগত ঝুঁকি
এটি স্পষ্ট করে—আমাদের বর্তমান সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করছে না।
এটি শুধু দুর্ঘটনা নয়—একটি সিস্টেম ব্যর্থতা
এই প্রাণহানিকে কেবল “দুর্ঘটনা” বলা যায় না। এটি একটি সিস্টেম ব্যর্থতা, যেখানে সড়ক অবকাঠামো, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, আইন প্রয়োগ এবং মানব আচরণ ব্যবস্থাপনা—সব ক্ষেত্রেই ঘাটতি রয়েছে।
বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য Safe System Approach অনুযায়ী, মানুষের ভুল হবে—কিন্তু সিস্টেম এমন হতে হবে যাতে সেই ভুল প্রাণঘাতী না হয়।
দাবি: এখনই প্রয়োজন নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইন
এই বাস্তবতায় আর সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। এখনই প্রয়োজন—
অবিলম্বে একটি Comprehensive Road Safety Law (নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইন) প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন
Safe System Approach ভিত্তিক জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাঠামো চালু করা
শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক আইন প্রয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা
ঈদকালীন বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি জোরদার করা
মোটরসাইকেল নিরাপত্তা ও হেলমেট ব্যবহারে কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা
ফিটনেসবিহীন যানবাহন সম্পূর্ণভাবে রাস্তায় চলাচল বন্ধ করা
শেষ কথা
ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন প্রতিটি মানুষ নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবে।
৪০০-এর বেশি মৃত্যুর পর এটি আর কেবল পরিসংখ্যান নয়—এটি একটি জাতীয় জরুরি সতর্কবার্তা।
এখনই দরকার নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইন—আর কোনো বিলম্ব নয়, আর কোনো প্রাণহানি নয়।
লেখক.প্রোগ্রাম অফিসার
ব্র্যাক সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচি