মঙ্গলবার, জুন ২, ২০২৬

ইসলামী ব্যাংকের বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রত্যাবর্তনের আশঙ্কায় কিশোরগঞ্জে গ্রাহকদের মানববন্ধন

  • ফারুকুজ্জামান,কিশোরগঞ্জ :
  • ২০২৬-০৬-০২ ১৯:৫৮:১১

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের নিয়োগ বাতিল এবং ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবিতে কিশোরগঞ্জে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ব্যাংকের গ্রাহকরা। একই সঙ্গে ব্যাংকটির স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব নিশ্চিত করার দাবিও জানান তারা।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ১১টায় কিশোরগঞ্জ শহরের বড়বাজার এলাকায় ইসলামী ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখা কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা’।
কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গ্রাহক, স্থানীয় ব্যবসায়ী, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক একসময় দেশের ব্যাংকিং খাতের অন্যতম সফল ও আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল। শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাংকটির সুনাম ও গ্রহণযোগ্যতা ছিল উল্লেখযোগ্য। কিন্তু বিগত সরকারের সময় এস আলম গ্রুপের প্রভাব বিস্তার, ব্যাপক অনিয়ম, ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগে ব্যাংকটি গভীর সংকটে পড়ে। এর ফলে গ্রাহকদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয় এবং ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রমও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।
ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যসচিব আরাফাত হোসেন, সদস্য মোঃ সিরাজুল ইসলাম, ইমতিয়াজ উদ্দিন, হাফেজ হেলাল উদ্দিন, শরিফুল ইসলাম, আলী আকবর প্রমুখ বক্তব্য  রাখেন। 
বক্তারা দাবি করেন, দীর্ঘ সংকট কাটিয়ে বর্তমানে গ্রাহক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইসলামী ব্যাংক আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতিতে অতীতে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনার উদ্যোগ ব্যাংকটির ভবিষ্যৎকে আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
তারা অভিযোগ করেন, ব্যাংক খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে খুরশিদ আলমকে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রাখার উদ্যোগে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে গ্রাহকদের আমানত, ব্যাংকের সুশাসন এবং সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, ইসলামী ব্যাংককে রক্ষা এবং গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যে তাদের এ আন্দোলন শুরু হয়েছে। খুরশিদ আলমকে অপসারণ এবং ব্যাংকে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে বলেও তারা জানান। একই সঙ্গে দেশের সব অঞ্চলের ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের এ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশের আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের উদ্বেগ, প্রত্যাশা এবং ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। ইসলামী ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা এবং একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
তারা আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে গ্রাহকদের মধ্যে যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে, তা দ্রুত নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। দেশের লাখো গ্রাহকের আমানত ও স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি ব্যাংকটির সুনাম ও বিশ্বাসযোগ্যতা অক্ষুণ্ন রাখতে দায়িত্বশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্ব নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ইসলামী ব্যাংক শুধু একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা একটি বৃহৎ ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান। তাই ব্যাংকটির স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের প্রতি তারা জোরালো আহ্বান জানান।

 


এ জাতীয় আরো খবর