বরিশালের গৌরনদীতে টরকী বন্দর ভিক্টরি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আনসার উদ্দিনের বিরুদ্ধে স্কুলের সরকারি ভবন ভাড়া দিয়ে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ক্রেতা কাজী আল-আমিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জমি ক্রয়ের কাগজপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ এসএ পর্চার মালিক স্বপন দত্ত গংদের থেকে কাজী আল-আমিন ১৪ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। ভূমি অফিস থেকে যাবতীয় নামজারি ও কর পরিশোধ করে তিনি জমির মালিকানা লাভ করেন। দাতা স্বপন দত্তের পুত্র পঙ্কজ দত্ত জানান, "স্কুলের সীমানার বাইরে আমাদের মালিকানা জমিতে আনসার উদ্দিন মাস্টার প্রাইভেট পড়ানোর জন্য মৌখিক অনুমতি নিয়ে থাকতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু জমি বিক্রির পর তাকে বারবার সরে যেতে বলা হলেও তিনি এখন আর দখল ছাড়তে চাইছেন না।
এদিকে জবরদখলের অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মোঃ আনসার উদ্দিন বলেন, "আমি এখানে দির্ঘদিন ধরে বসবাস করছি। জমিটি নিয়ে মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে বলে আমি জানি। আমি নিয়ম মেনেই এখানে আছি এবং কারো জায়গা অবৈধভাবে দখল করিনি। লোকমুখে শোনা যাচ্ছে, তিনি জমিটির ডিক্রি বা নিলাম সংক্রান্ত নথিপত্র তৈরির চেষ্টা করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের সীমানার ভেতরে সরকারি অর্থে নির্মিত একটি দালান কক্ষ ভাড়া দিয়ে রেখেছেন প্রধান শিক্ষক। সেই সরকারি ঘরে না থেকে তিনি ব্যক্তি মালিকানাধীন ওই জমিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন এবং নিয়মিত টিউশনি করাচ্ছেন। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলেও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইব্রাহীম বলেন, "কাজী আল-আমিনের কাছ থেকে আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে এসিল্যান্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষকে ডাকা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্ত ও কাগজপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রধান শিক্ষক যে জমিটিতে অবস্থান করছেন তা বিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে এবং অভিযোগকারীর মালিকানাধীন।
তিনি আরও বলেন আমরা স্কুল শিক্ষককে মৌখিকভাবে ওই জায়গাটি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছি।"তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি জায়গা না ছাড়লে এবং আইন অমান্য করলে প্রশাসনিকভাবে যথাযথ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।