চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী রাধানগর ইউনিয়নে ভারত থেকে ধেয়ে আসা ঢলের পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে শত শত বিঘা জমির পাকা ইরি-বোরো ধান। এর সাখে যুক্ত হয়েছে অব্যহত বৃষ্টির পানি। সব মিলিয়ে নাজুক অবস্থা কৃষকের। বড়জোর দুসপ্তাহ সময় পেলেই যেখানে কৃষকরা নির্বিঘেœ ধান কেটে ঘরে তুলতে পারতেন সেখানে আচমকা ঢলের পানির কারণে ধান ডুবে এখন চরম নাজেহাল তাঁরা। এর সাথে রয়েছে ধান কাটা শ্রমিক সংকট। ধানেরও নায্য মূল্য নেই। এ অবস্থায় নিশ্চিত ক্ষতির মূখে কৃষক।
স্থানীয় জনপ্রকিনিধি,কৃষি বিভাগ ও প্রশাসন সূত্র জানায়, গত রোববার(৩মে) পূণর্ভবা নদীর দিয়ে পাশের নওগাঁ জেলার সাপাহার ও পোড়শা উপজেলা হয়ে ঢলের পানি প্রবেশ শুরু করে রাধানগর ইউনিয়নে। সেই পানির প্রবাহ বেড়ে পূণর্ভবার একটি উপনদী দিয়ে ইউনিয়নের বিল কুজাইন সহ আশপাশর নীচু এলাকা ও বিলগু্েযলাতে ঢুকে পড়ে। এতে নিমজ্জিত হতে শুরু করে বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত। কৃষকরা সূযোগই পান নি পাকা ধান কাটার। এখন তাঁরা নৌকা নিয়ে পনিতে ডুবে ডুবে ধান কাটছেন। ভোগান্তির শেষ নেই। ক্ষতি হচ্ছে ধানেরও।
কৃষকরা বলছেন, প্রতিবছর নিয়মিত না হলেও ২/১ বছর পনরপই এই সমস্যায় পড়ছেন তাঁরা। তবে ও্ই নি¤œাঞ্চলে চলাচলের জন্য যদি বিল কুজাইন সড়কের উপর একটি সেতু করে দেয়া হয় তবে দ্রুত ধান কেটে তারা সহজেই বাড়ি আনতে পারতেন। পরিবহন সংকট হত না। এখন দীর্ঘদিনের ব্রীজের দাবির সাথে যুক্ত হয়েছে ওই উপনদী খনন করে দুপাশ বাঁধাইয়ের দাবি। নদীর দুপাশে বাঁধ দেয়া হলে পানি আর দুপাশের বিল ও নীচু এলাকায় প্রবেশ করতে পারবে না।
রাধানগর ইউপি চেয়ারম্যান মতিউর রহমান বলেন, ঢলের পানি প্রবেশ করেছে হাজার হাজার বিঘা জমিতে। জলাবদ্ধ হয়ে কৃষকরা বসে আছেন পাকা ধান নিয়ে। তবে ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ডের বিল কুজাইন ও আশপাশের নীচু এলাকায় ক্ষতি সবথেকে বেশী।তবে পানি প্রবেশ করেছে ৯ নং ওয়ার্ড পর্যন্ত। সমস্যা হল নীচু এলাকার ধান কেটে পরিবহন করে ঘরে তোলার জন্য ওই এলাকায় সড়ক নেই। নতুন সড়ক নির্মাণ করতে হবে। কুজাইন বিল এলাকায় যে সড়ক রয়েছে তা আরও দীর্ঘ করতে হবে। কুজাইন ব্রীজের সাথে সাথে বিভীষণ ও লালামাটিয়া এলাকা পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ করে অন্তত: দুটি কালভার্ট বা স্লুইস গেট নির্মাণ করতে হবে।
গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি অফিসার সাকলাইন হোসেন বলেন, ওই এলাকায় ২ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। বিল কুজাইন এলাকায় সম্পূূর্ণ ডুবে গেছে অন্তত: সাড়ে ৪শ বিঘা জমির ধান। কৃষকরা প্রাণান্ত চেষ্টা করে এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধেক ধান কেটেছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদেও কথা উর্ধতণ কর্তৃপক্ষকে জাননো হয়েছে। তাঁদের জন্য যাতে কিছু করা যায় সে চেষ্টা চলছে।
গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) জাকির মুন্সি বলেন, ওই এলাকার ধান কেটে পরিবহনের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষীত সেতু নির্মাণ প্রক্রিয়াধীণ। চলমসান খাল কাটা কর্মসূচীর অধীনে যদি নদী পূণ:খন করে দুপাশে বাঁধ দেয়া যায় তবে পানি আর বিলগুলোতে ঢুকতে পারবে না। তাহলে ঢলের পানির প্রায় নিয়মিত বিলে ঢুকে ক্ষতি করার সম্ভবানা থাকবে না। ফলে নদী খননেরও চেষ্টা করা হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড ( পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশরী এস,এম আহসান হাবিব বলেন, ওই এলাকার ঢলের পানি প্রবেশ এবং জলাবদ্ধতা সমস্যা সর্ম্পকে তাঁরা অবগত। সম্প্রতি ওই এলাকার সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান এলাকা পরিদর্শন করে একটি ডিও লেটার দিয়েছেন। যা বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) পাওয়া গেছে । এখন পূণর্ভবার ওই উপনদী চলমান খাল খনন কর্মসূচীতে ঢোকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া ওই পুরো এলাকা নিয়ে তাঁরা বড় পরিসরে স্থায়ী কি করা যায় সেটি নিয়ে কাজ করা যাচ্ছেন। কোথাও যদি রেগুলেটর বা স্লুইস গেট নির্মাণ করা লাগে তবে তা করা হবে।