বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৬

বাংলাদেশের চোখে আল্লামা ইকবাল

  • কাজী ছাব্বীর
  • ২০২৬-০৪-২২ ১৬:৩৯:৫২

আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল তাঁর সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে বিশ্বব্যাপী সকল মুসলমানদের একটি সাধারন ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও ইসলামি সংস্কৃতির পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শান্তিপূর্ণ। ইসলামি বিপ্লবের আহবান করেছিলেন। যা ভৌগলিক বা জাতিগত সীমাবদ্ধতা নয় ইসলমি রাষ্ট্র ব্যবস্থার অধীনে সকল মুসলমানদের একীভূত করা । যাতে মুসলিম প্রধান দেশগুলোর উপর পাশ্চাত্য  উপনিবেশবাদ বা সাম্রার্জ্যবাদী প্রভাব কার্যকরী ভাবে প্রতিহাত করা যায়। বর্তমানে ফিলিস্তিনি, পাকিস্তান ও ইরানের, পরিস্থিতি দেখে আল্লামা ইকবালের মুসলিম ঐক্যের আহবানের গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করছে মুসলিম দেশগুলো। ঊনবিংশ শতাব্দীতে ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তির যাতাকলে একাধিক মুসলিম দেশ পতিত হলে এর প্রতিক্রিয়ায় প্যান-ইসলামি চিন্তাধারার জাগরণ ঘটে। এই মতাদর্শের অন্যতম রূপকার হিসেবে খ্যাত হলেন সৈয়দ জামাল উদ্দিন আফগানী। এক কথায় বলা য়ায় যে প্যান-ইসলামীজম হলো মুসলিম বিশ্বের ঐক্য এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার পুনরজাগরণের লক্ষে একটি আদর্শিক আন্দোলন। আল্লামা ইকবাল  তার সাহিত্যকর্মে প্যান-ইসলামিজমকে প্রসারিত করে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ব্যাপক ব্যাপ্তী ঘটিয়েছিলেন। তিনি সুফিবাদী মতাদর্শের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা-ভক্তির জায়গা থেকেই প্যান-ইসলামিজমের বা মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যের আহবান জানিয়েছিলেন। আল্লামা ইকবাল তার সাহিত্য ও সংস্কৃতি কর্মে তার স্বকীয় শব্দ শৈলীতে কালজয়ী রচনা সৃষ্টির মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী চেতনাকে সাহিত্যশিল্পে রূপায়িত করেছিলেন। তার  শিল্প শৈলীতে সাম্যবাদ এবং মানুষের অধিকারে কথা বলিষ্ঠ ভাবে উচ্চারিত হয়েছিল। আল্লামা ইকবালের সাহিত্যকর্ম ছিল ন্যায্য অধিকারে কথা, মুসলিম ঐক্যের আহবান এবং রাজনৈতিক আন্দোলনের অনুপ্ররণা। অন্যান্য কবি সাহিত্যিকদের ইসলামের জাগরণী আহবান থাকলেও আমার মতে আল্লামা ইকবালই প্যা-ইসলামিজমের অন্যতম ধারক ছিলেন।
তিনি বিশ্বাস করতেন, ভৌগোলিক জাতীয়তাবাদের ঊর্ধ্বে উঠে ইসলামি ভ্রাতৃত্ববোধের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ ঐক্যবদ্ধ হলে আধুনিক বিশ্বে হারানো গৌরব ও শক্তি পুনরুদ্ধার করা সম্বব। ইকবাল পশ্চিমা ধাঁচের ভৌগোলিক জাতীয়তাবাদ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, কারণ এটি মুসলিম উম্মাহকে বিভক্ত করে। পান-ইসলামিজম বা উম্মাহর ঐক্য বলতে  তিনি মনে করতেন, ভৌগোলিক সীমা কেবল প্রশাসনিক সুবিধার জন্য, কিন্তু আত্মিকভাবে মুসলিমরা এক জাতি। "রিপাবলিক অফ নেশনস" বা প্রজাতন্ত্রের পরিবার। তিনি মুসলিম দেশগুলোকে পৃথক স্বাধীন সত্তা বজায় রেখেও একটি 'লিগ অফ নেশনস' বা 'ফ্যামিলি অফ রিপাবলিকস' হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। সাংস্কৃতিক ও আধ্যাতিক ঐক্য  বলতে তিনি মুসলমানদের স্বীয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ভিত্তিতে পুনর্জাগরণের ডাক দিয়েছিলেন, যা 'খুদি' বা আত্মসচেতনতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি মুসলিম দেশগুলোকে তাদের আইন, শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে ইসলামি আদর্শের আলোকে নতুনভাবে সাজানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। ইকবালের এই দর্শন পরবর্তীকালে মুসলিম বিশ্বকে, বিশেষ করে পাকিস্তান আন্দোলনের মাধ্যমে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় গভীর অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল। ইকবালের মতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ভূমিতে মুসলমানদের ঐক্যে একটি সম্প্রদায় তৈরি করা। আল্লামা ইকবাল আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে ধর্মনিরপেক্ষতা শুধুমাত্র ইসলাম এবং মুসলিম সমাজের আধ্যাত্মিক ভিত্তিকেই দুর্বল করবে না। ভারতের হিন্দু -সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী মুসলিম ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং রাজনীতিতে গাদাগাদী অবস্থা হতে পাড়ে।
বাংলাদেশের মাহন স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (বীরউত্তম)আল্লামা ইকবালকে একজন মহান মুসলিম চিন্তাবিদ ও দার্শনিক হিসেবে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন। তিনি বাংলাদেশের ইসলামি ও সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণে আল্লামা ইকবালের মতাদর্শ ও কবিতার দর্শনকে প্রাসঙ্গিক মনে করতেন, যা বাংলাদেশে ইসলামি মূল্যবোধ পুনঃস্থাপনে তাঁর গৃহীত নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। যার কাব্যিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দর্শন মুসলিম উম্মাহকে অনুপ্রাণিত করবে। তিনি আল্লামা ইকবালের মতবাদকে বাংলাদেশে ইসলামী রেনেসাঁ বা নবজাগরণ এবং ইসলামিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণের উৎস হিসেবে মনে করতেন। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে ইসলামী সাহিত্য ও দর্শনের চর্চায় আল্লামা ইকবালের কবিতা ও দর্শনকে উৎসাহিত করতেন। জিয়াউর রহমান সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত ইসলামি সাংস্কৃতিক নীতিমালায় আল্লামা ইকবালকে বিশ্বখ্যাত মুসলিম কবি ও দার্শনিক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।
মানবতাবাদের অমর কবি আল্লামা মুহাম্মদ ইকবালকে বাংলাদেশের আলেম ও বুদ্ধিজীবী সমাজ মূলত: মুসলিম উম্মাহর জাগরণী কবি, দার্শনিক এবং দূরদর্শী চিন্তাবিদ হিসেবে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে দেখেন। তাঁর কবিতা ও দর্শনে ইসলামের বিশ্বজনীন চেতনা, আত্মশক্তির জাগরণ (খুদি) এবং কর্মমুখী জীবন দর্শনের প্রশংসা করা হয়। আল্লামা ইকবাল কেবল কবি নন, তিনি মুসলিম জাতির ঘুমন্ত আত্মাকে জাগিয়ে তোলার দার্শনিক (শায়ের-ই-মশরিক) তাঁর দর্শন 'কুরআন'ভিত্তিক কর্মক্ষমতার উপর জোর দেয়। তাঁর বিখ্যাত দর্শন 'খুদি' (আত্মসত্তা) মুসলমানদের নিজের শক্তি চিনে বিশ্ব জয়ের প্রেরণা দেয়। দ্বিজাতিতত্ত্বের প্রবক্তা আল্লামা ইকবাল উপমহাদেশের মুসলমানদের জন্য স্বাধীন আবাসভূমি (পাকিস্তান)-এর তাত্ত্বিক রূপকার হিসেবে ইকবালকে বাংলাদেশের ইসলামপন্থী আলেমগণ অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। সর্বস্তরের মানুষ আল্লামা ইকবালকে একজন মহান দার্শনিক এবং উর্দু-ফারসি সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে বাংলাদেশের হিন্দু, খ্রিস্টান এবং মুসলমান—সবাই শ্রদ্ধা করেন। তার লেখা কালজয়ী গান ‘সারে জাহাঁ সে আচ্ছা হিন্দুস্থান হামারা’র জন্য তিনি অখণ্ড ভারতের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
আল্লামা ইকবাল সম্পর্কে বাংলাদেশের নারীদের বিশেষ করে যারা ইসলামি সংস্কৃতি ও দর্শন চর্চা করেন, তাদের অভিমত মূলত ইতিবাচক। তারা ইকবালকে মুসলিম নারীর মর্যাদা, চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং মা ফাতেমা (রা.)-এর আদর্শ অনুসরণের প্রবর্তক হিসেবে গণ্য করেন। আল্লামা ইকবাল নারীকে 'উন্নত প্রেরণার উৎস' হিসেবে দেখতেন। আল্লামা ইকবাল নারীদের মা ফাতেমা (রা.)-এর জীবন অনুসরণ করে হোসাইনের মতো সন্তান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিষষ করে এ কারণেই বাংলাদেশে অনেক নারী শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। নারীদের আত্মার বিকাশ ও সম্মানিত সত্তা হিসেবে তিনি কাব্যিক উপস্থাপনা নারীদের আকৃষ্ট করে।আল্লামা ইকবালের দর্শনে নারী-পুরুষ পরস্পর দ্বন্দ্বের বদলে ত্যাগের মাধ্যমে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে—এই ধারণাটি অনেক নারী সমর্থন করেন। আধুনিক মুসলিম নারী: ইকবালের দৃষ্টিতে নারীরা কেবল গৃহমুখী নয়, বরং সমাজ ও জাতির দিনবদলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে—এই চেতনার জন্য তিনি প্রশংসিত। সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশে ইসলামি মূল্যবোধ ধারণকারী নারীদের কাছে ইকবাল নারীর ব্যক্তিত্ব বিকাশের একজন দার্শনিক ও পথপ্রদর্শক হিসেবে প্রশংসিত।
আল্লামা ইকবালকে বাংলাদেশের কবি ও সাহিত্যিকরা আধুনিক যুগের সর্বোত্তম মুসলিম দার্শনিক, নবজাগরণের কবি এবং আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক হিসেবে শ্রদ্ধা করেন। তারা তাঁকে উপমহাদেশের মুসলিমদের স্বতন্ত্র আত্মপরিচয় ও স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা এবং মানবাত্মার জাগরণ সৃষ্টিকারী শিল্পী হিসেবে মূল্যায়ন করেন। বাংলাদেশের কবি সাহিতিক দের মধ্যে আল্লামা ইকবাল কেবল উর্দু-ফারসি সাহিত্যের কবি নন, বরং তিনি মুসলমানদের সামনে ইসলামের গতিশীল ও আত্মবিশ্বাসী রূপ তুলে ধরেছিলেন। বিদ্রোহ করি নজরুলসহ তৎকালীন বাঙালি মুসলিম লেখকরা তাঁর দর্শনে অনুপ্রাণিত ছিলেন। ইকবাল তার কবিতার মাধ্যমে মুসলমানদের সুপ্ত প্রতিভাকে জাগ্রত করার কথা বলেছেন। তাঁর 'খুদী' বা আত্মসত্তার দর্শন বাঙালির আত্মজাগরণের হাতিয়ার হিসেবে গণ্য করা হয়। আল্লামা ইকবাল পশ্চিমা বুর্জোয়া সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ ও বস্তুবাদ প্রত্যাখ্যান করে ইসলামের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক পুনরুত্থানের ডাক দিয়েছিলেন। যিনি স্বাধীন চিন্তার ও স্বপ্নের বাস্তব রূপকার। সংক্ষেপে, বাংলাদেশের সাহিত্যাঙ্গনে আল্লামা ইকবাল এক দ্রোহী ও চেতনাবাদী কবি হিসেবে সমাদৃত। যার চিন্তাধারা মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও নবজাগরণের প্রতীক।
আল্লামা ইকবালের বাংলাদেশে জনপ্রিয়তার কারণ হলো তিনি ইসলামি পুনর্জাগরণ, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং আত্মশক্তিতে বলীয়ান হওয়ার মন্ত্র নিয়ে কাব্য ও দর্শন রচনা করেছিলেন। তার প্রতিটি লেখনিতে মুসলিম জাতির মুক্তি। মুসলিম ঐক্য এবং ইসলাম ধর্ম ভিত্তিক জাতীয়তাবাদের জাগরণের মহৎ আহবান ছিল। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে যখন মুসলিম বিশ্ব হতাশায় নিমগ্ন ছিল, তখন ইকবাল তাঁর কবিতার মাধ্যমে মুসলমানদের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং নতুন পথের দিশা দেখাতে নিরলস কাজ করেছেন। যা বাংলাদেশের মতো মুসলিম প্রধান দেশে গভীর প্রভাব ফেলে। ইকবাল ছিলেন একাধারে কবি, দার্শনিক, আইনজীবী এবং রাজনীতিবিদ। ফার্সি ও উর্দু সাহিত্যে তাঁর অবদান অতুলনীয়, যা বাংলাদেশের সাহিত্যপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। তাঁর কবিতা ও দর্শন তরুণ প্রজন্মকে জাগরণ, সাহস এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির দিকে উৎসাহিত করে। আল্লামা ইকবাল শুধু পাকিস্তানের জাতীয় কবি বা ভারতের কবি নন, বরং তিনি ইসলামি চিন্তাধারার একজন কালজয়ী দার্শনিক হিসেবে বাংলাদেশে সমধিক পরিচিত।
আমার মতে আল্লামা ইকবাল একজন ইসলাম ধর্মীয় মহা-জ্ঞানসাধক কবি ও সাহিত্যিকই ছিলেন না। বরং একজন রাজনীতিবীদ হিসেবে ইসলাম এবং আধুনিক চিন্তাচেতনার সমন্বয় সাধনের মাধ্যেমে  মুসলিমদের আত্মজাগরণ ও কর্ম তৎপরতায় মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলেন। তাওহীদের ভিত্তিতে একটি উন্নয়নকামী ইসলামি সমাজ ব্যবস্থা কয়েমই ছিল তার স্বপ্ন। তার ভিবিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণে প্রতিমান হয় যে। মাওলানা জালাল উদ্দীন রুমি(রহঃ)-এর সুফীবাদ দর্শনে প্রভাবিত হয়েই তিনি ইসলামি আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক পূনজাগরণে আহবান করেছিলেন বিশ্ব মুসলিম জাতিকে। তার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল। যে কোরআন এবং সুন্নাহর আলোকে আধুনিক যুগের চ্যালেন্জ মোকাবেলা করা সম্ভব। তাই তিনি পবিত্র ধর্ম ইসলামকে ‘কর্মবাদ’ হিসেবে তার বিভিন্ন রচনায় মুসলিম জাতির কাছে তুলে ধরেছিলেন। আল্লামা ইকবাল আরও বিশ্বাস করতেন যে মহান রবের প্রতি সম্পুর্ন আস্থা এবং বিশ্বাস মানুষকে শুধুমাত্র আধ্যাত্মিক ভাবেই নয়। বরং সামাজিক ভাবেও একত্রিত করে আগ্রাসীদের দাসত্ব থেকে মানুষের মুক্তি পাওয়া সম্ভব। উপমহাদেশের মুসলিমদের জন্য তিনি আলাদা ভাবে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের স্বপ্ন দেখতেন।
পরিশেষে আমি বলতে চাই তার কর্মময় জীবন বিশ্লেষণ করলে স্পষ্টভাবে মূল্যায়ন করা যায় যে। তাঁর চিন্তা দর্শন ছিলো ভারতের মুসলমানদের জন্য স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করা। তার এই চিন্তাই পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টিতে  ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিল।  সাধনায় ও লক্ষ্যে ইসলামের মূলনীতির উপর ইকবালের ছিল প্রগাঢ় বিশ্বাস, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা আরাধনা, জীবন-মরণ সবই সর্বশক্তিমানের নিকট সমর্পিত। শরিয়ত, তরিকত ও মারেফতের কার্যক্রমের  সাহায্যে মানুষ পরিপূর্ণ মানুষ পর্যায়ে উন্নীত হতে পারে, এ ছিল তার ধর্মীয় বিশ্বাস। তার  মূল লক্ষ্য ছিলো  কোরআনের দিকে ফিরে যাওয়ার  ইঙ্গিত। তার নবীপ্রেম ইসলামি জীবন ব্যবস্থার প্রতি অদম্য প্রেরণা সৃষ্টি করে। আল্লামা ইকবাল মিল্লাতে মুসলিমের অমূল্য সম্পদ ছিলেন।  উপমহাদেশের মুসলমানদেরকে  তার কবিতা  মন্ত্রকের মতো  জাগ্রত করেন, তার চিন্তাধারা তাদের সিরাতুল  মুস্তাকিম প্রদর্শন করে। শেষ জীবনের অসুস্থ শয্যায় শুয়ে তিনি বুঝতে পারেন শ্রিঘ্রই জাতিয়তাবাদের নামে বিশ্বব্যাপি এক রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষ দেখা দিবে। তার "ইবলিশ কি মজলিশ ই শুরা" কাব্যে দ্বিতিয় মহাযুদ্ধের ইংগিত দেন তিনি। ১৯৩৫ সালে তার "বাল-ই-জিব্রিল" গ্রন্থে তিনি সাম্যবাদি ও মানবতাবাদি সেই বিপ্লবী কবিতাটি প্রকাশ করেন। আল্লামা ইকবালের লালিত স্বপ্ন ও কর্ম ছিল ইসলামের সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ এবং আধুনিকতার সমন্বয়ে বাস্তবতার নিরিখে ইসলাম সম্পূক্ত একটি সমাজ ব্যবস্থা। যা বিশ্ব মুসলিমদের হতাসা থেকে মুক্ত করে এনে জ্ঞান ও সঠিক কর্ম এবং উন্নতির পথে মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তাঁর কবিতা ও সাহিত্য কর্ম এবং রাজনীতিতে সর্বক্ষেত্রেই ইসলামের উপস্থিতি ছিল লক্ষনীয় ভাবে। তাই তখনকার সময়ে আল্লামা ইকবালকে ইসলামী জাগরণের চিন্তাবিদ হিসেবে আখ্যায়িত করতেন। আল্লমা ইকবালের রচিত বিভিন্ন লেখা ও চিন্তাধার থেকে উজ্জীবিত হয়ে তাঁর দর্শননে প্রভাবিত হয়ে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক আন্দোলন হয়েছে।  ভিন্ন মতবাদ ও দেখা দিয়েছে। সেই আলোকে মুসলমানদের মনের গভীরে জীবন সম্পর্কীয় স্বকীয় জ্ঞনের মধ্যমে বিভিন্ন রকমের ভাবনা তৈরীর মাধ্যমে  সংস্কার ও স্বাধীনতা এসেছে। বিংশ শতাদ্ধীর দার্শনিক, কবি , মহা জ্ঞানসাধক, ইসলামী জাগরণের প্রতীক ও রাজনীতিবিদ। আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল ১৮৭৭ সালে ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশ যা বর্তমানে পাকিস্তানের শিয়ালকোটে জন্ম গ্রহন করেন এবং ১৯৩৮ সালে লাহোরে মৃত্যুবরন করেন। মহান আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন-আমিন।

লেখক:
কবি, কলামিস্ট ও
চেয়ারম্যান, ন্যাশনাল কংগ্রেস বাংলাদেশ- (এনসিবি), ঢাকা,বাংলাদেশ।


এ জাতীয় আরো খবর