শহরটা প্রতিদিন ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে
নিয়ন আলোয় ঢেকে রাখে তার ভাঙা মুখ,
মানুষগুলো হাঁটে-
কিন্তু কেউ কোথাও পৌঁছায় না।
আমার ভেতরেও জমে ওঠে
অদৃশ্য নোটিফিকেশন-
অসমাপ্ত কথা, অপ্রকাশিত ক্ষোভ,
অসংখ্য না বলা ভালোবাসা
ড্রাফটে পড়ে থাকে দিনের পর দিন।
একসময় মনে হয়-
জীবনটা যেন একটা ভারী সফটওয়্যার,
বারবার হ্যাং করে যায়
অপ্রয়োজনীয় স্মৃতির চাপে।
তখনই খুঁজি আমি
একটা অদেখা,অচেনা
রিসেট বাটন।
যেটা চাপ দিলে
মুছে যাবে না সবকিছু,
কিন্তু হালকা হয়ে যাবে ভেতরটা-
দুঃখগুলো আর তেমন ভারী লাগবে না,
ভুলগুলো আর তেমন অপরাধ মনে হবে না।
আমরা কেউই পুরোপুরি ভাঙতে চাই না,
শুধু একটু নতুন করে শুরু করতে চাই-
যেন সকালের রোদে
পুরনো অন্ধকারটা একটু ফিকে হয়ে যায়।
এই শহরে প্রতিদিন
হাজার মানুষ রিসেট খোঁজে-
কেউ নামাজে,
কেউ এক কাপ চায়ে,
কেউ প্রিয় মানুষের কণ্ঠে,
কেউ নিঃশব্দ কান্নায়।
কেউ কেউ আবার
সবকিছু ঠিক আছে ভেবে
নিজেকেই প্রতারণা করে,
কিন্তু গভীর রাতে
মনটা জানে-
সব ঠিক নেই।
রিসেট মানে ভুলে যাওয়া নয়,
রিসেট মানে আবার সাহস করা-
ভেঙে পড়ার পরও উঠে দাঁড়ানো,
হারিয়ে যাওয়ার পরও পথ খোঁজা।
একটা সময় আসে
যখন নিজেকেই বলতে হয়-
থামো, এবার নতুন করে শুরু করো।
তখন আঙুল বাড়িয়ে দেই
অদৃশ্য এক বাটনের দিকে-
কোনো শব্দ হয় না,
কোনো আলো জ্বলে না,
তবু ভেতরে ভেতরে
কিছু একটা বদলে যায়।
শ্বাসটা একটু স্বাভাবিক হয়,
আকাশটা একটু নীল লাগে,
আর জীবনটা-
একটু হলেও নিজের মনে হয়।
হয়তো এটাই রিসেট-
নতুন কোনো পৃথিবী নয়,
পুরনো পৃথিবীকেই
নতুন চোখে দেখা।
আর সেই দেখার মাঝেই
লুকিয়ে থাকে
বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় আপডেট।