সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬

এ স এ ম আ জা দ হো সে ন

  • মানবাধিকার: মানুষের পাশে মানুষের অধিকার
  • ২০২৬-০৩-১৪ ১৪:৪০:১৩

এই পৃথিবীটা কারও একার নয়,
নয় কোনো শক্তির একচ্ছত্র সাম্রাজ্য,
এটা মানুষের-
শ্বাস নেওয়া প্রতিটি বুকের,
স্বপ্ন দেখা প্রতিটি চোখের।

মানবাধিকার মানে
কেবল সংবিধানের পাতায় লেখা শব্দ নয়,
এটা এক শিশুর হাসি
যে ক্ষুধার কাছে পরাজিত হতে চায় না।

মানবাধিকার মানে
এক শ্রমিকের ঘামে ভেজা জামা
যে চায় তার পরিশ্রমের ন্যায্য দাম,
মানবাধিকার মানে
এক কৃষকের মাঠে জন্ম নেওয়া ধান
যে চায় তার ফসলের সম্মান।

কিন্তু পৃথিবী এখনো প্রশ্নে ভরা-
কেনো এখনো কারও কণ্ঠ রুদ্ধ হয়?
কেনো এখনো কোনো শহরের গলিতে
অন্যায়ের ছায়া লুকিয়ে থাকে?

কেউ ক্ষমতার উঁচু প্রাচীরে দাঁড়িয়ে বলে-
সব ঠিক আছে, সব শান্ত।
কিন্তু মাটির কাছে দাঁড়ালে শোনা যায়
অগণিত মানুষের নীরব আর্তনাদ।

মানবাধিকার মানে
ভয়ের মধ্যে বেঁচে থাকা নয়,
মানবাধিকার মানে
মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস।

যে মেয়ে রাস্তায় হাঁটে
সে যেন নিরাপত্তাহীন চোখের শিকার না হয়,
যে ছেলে প্রতিবাদ করে
সে যেন কারাগারের অন্ধকারে হারিয়ে না যায়।

মানবাধিকার মানে
কোনো ধর্মের কারণে ঘৃণা নয়,
কোনো ভাষার কারণে অবহেলা নয়,
কোনো মতের কারণে শত্রুতা নয়।

মানুষের ভেতর মানুষকে চিনে নেওয়া-
এটাই তো সবচেয়ে বড় সভ্যতা।

একদিন পৃথিবী বদলাবে-
যখন আইন শুধু বইয়ে থাকবে না,
ন্যায়বিচার শুধু বক্তৃতায় থাকবে না,
আর ক্ষমতা মানুষের ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে না।

সেদিন মানবাধিকার
কোনো আন্দোলনের স্লোগান হবে না,
হবে প্রতিটি দিনের স্বাভাবিক শ্বাস।

তখন কোনো শিশু কাঁদবে না ক্ষুধায়,
কোনো শ্রমিক মরবে না অবহেলায়,
কোনো সত্য চাপা পড়বে না ভয়েতে।

মানবাধিকার তখন হবে
মানুষের সবচেয়ে সহজ পরিচয়-

আমি মানুষ,
তাই আমার অধিকার আছে
বাঁচার, বলার, স্বপ্ন দেখার।

আর এই পৃথিবী
তখন সত্যিই হয়ে উঠবে
মানুষের পৃথিবী।


এ জাতীয় আরো খবর