বুধবার, জুলাই ২৯, ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় পেলেন ইরানি নারী ফুটবল দলের আরও দুই সদস্য

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • ২০২৬-০৩-১১ ১১:৫৬:৩৯
ছবি: সংগৃহীত।

ইরানি নারী ফুটবল দলের আরও দুই সদস্য অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক। একজন খেলোয়াড় ও একজন সাপোর্ট স্টাফ সদস্য দেশে না ফিরে অস্ট্রেলিয়াতেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মঙ্গলবার রাতে দলটি অস্ট্রেলিয়া ছাড়ার আগেই তারা আশ্রয়ের আবেদন করেন। সিডনি বিমানবন্দরে নিরাপত্তা চেকপয়েন্ট পার হওয়ার সময় অস্ট্রেলীয় কর্মকর্তারা দোভাষীদের সহায়তায় ইরানি তত্ত্বাবধায়কদের অনুপস্থিতিতে প্রতিটি নারী সদস্যকে আলাদাভাবে ডেকে আশ্রয়ের সুযোগ দেন।
টনি বার্ক বলেন, তাদের কোনো ধরনের চাপ দেওয়া হয়নি এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। দলের একজন সদস্য সিডনি থেকে রওনা হওয়া ফ্লাইটে ওঠা বিলম্বিত করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরে নিজেই অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এই দুজনকে নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট সাতজন সদস্য অস্ট্রেলিয়ায় অস্থায়ী মানবিক ভিসা পেয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন জানিয়েছে, এই ভিসার মেয়াদ ১২ মাস এবং এটি ভবিষ্যতে স্থায়ী বসবাসের পথও খুলে দিতে পারে।
দলটির বাস গোল্ড কোস্ট-এর হোটেল থেকে সিডনি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সময় ইরানি-অস্ট্রেলীয়দের একটি বিক্ষোভও হয়। বিক্ষোভকারীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, দেশে ফিরলে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দলটিকে বিশ্বাসঘাতক বলে আখ্যা দেয়, কারণ তারা এশিয়ান কাপের প্রথম ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীত গায়নি। যদিও পরবর্তী ম্যাচগুলোতে দলটি সংগীত পরিবেশন করে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে দলের বাকি সদস্যদের দেশে ফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি-এর বরাতে দেশটির প্রধান কৌঁসুলির দপ্তর জানিয়েছে, খেলোয়াড়দের শান্তি ও আস্থার সঙ্গে মাতৃভূমিতে ফিরে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ইরানের নারী ফুটবল দলের জন্য দেশটির দরজা উন্মুক্ত রয়েছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সময়ই অস্ট্রেলিয়ায় এই টুর্নামেন্ট চলছিল। যুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বহু কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে একই সময়ে অস্ট্রেলিয়া সরকার একটি নতুন আইন আনার উদ্যোগ নিয়েছে, যার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপ্রবণ কিছু দেশের নাগরিকদের প্রবেশ সাময়িকভাবে সীমিত করার প্রস্তাব রয়েছে। এই আইনের সমালোচনা করেছে অস্ট্রেলিয়ান গ্রিনস পার্টি। দলটির সিনেটর ডেভিড শুব্রিজ দাবি করেছেন, প্রস্তাবিত আইনটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যের নাগরিকদের অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নেওয়া কঠিন করে তুলতে পারে।

কী-ওয়ার্ড:ইরানি নারী ফুটবল,অস্ট্রেলিয়া আশ্রয়,মানবিক ভিসা


এ জাতীয় আরো খবর