সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান স্মরণে কবর জিয়ারত,প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উপহারসামগ্রী হস্তান্ত

  • গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের,
  • ২০২৬-০৭-২৮ ২৩:২০:১০

মহেশখালী (কক্সবাজার)
জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় শহীদ তানবীর ছিদ্দিকীর কবর জিয়ারত, দোয়া-মোনাজাত এবং তাঁর পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে এক আবেগঘন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল শহীদের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা, তাঁর পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা।
কর্মসূচির শুরুতেই শহীদ তানবীর ছিদ্দিকীর কবর জিয়ারত করা হয়। পরে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। উপস্থিত সবাই মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন, যেন তিনি শহীদকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং তাঁর পরিবারকে শোক সহ্য করার শক্তি দান করেন।
এরপর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের পক্ষ থেকে প্রেরিত উপহারসামগ্রী শহীদ তানবীর ছিদ্দিকীর পিতা জনাব বাদশা মিয়ার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়। উপহারসামগ্রী হস্তান্তরের সময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়; বরং এটি রাষ্ট্র, সমাজ ও জাতির নৈতিক দায়িত্ব।
তারা বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, এটি ছিল মানুষের ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। এই আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বক্তারা আরও বলেন, একটি জাতি তখনই এগিয়ে যেতে পারে, যখন সে তার ইতিহাস, সংগ্রাম এবং শহীদদের অবদানকে সম্মান করতে জানে। শহীদ পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া, তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মূল্যায়ন করা সময়ের দাবি।
উপহার গ্রহণকালে শহীদ তানবীর ছিদ্দিকীর পিতা বাদশা মিয়া আবেগাপ্লুত হয়ে উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, একজন সন্তানের শূন্যতা কোনো কিছুর বিনিময়ে পূরণ হওয়ার নয়। তবে তাঁর স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং খোঁজখবর নেওয়ার এই উদ্যোগ তাঁদের মানসিক শক্তি জোগায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, সমাজসেবী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সাধারণ জনগণ বলেন, শহীদদের রক্তের ঋণ কখনো শোধ হওয়ার নয়। তাঁদের আত্মত্যাগের চেতনা ধারণ করেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন ইতিহাস বিকৃতির শিকার না হয় এবং গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে সংরক্ষিত হয়।
বক্তারা আরও বলেন, জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দিতে স্মরণসভা, কবর জিয়ারত, আলোচনা, গবেষণা এবং শহীদ পরিবারের কল্যাণমূলক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন শহীদদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শিত হবে, অন্যদিকে তরুণ সমাজ দেশপ্রেম, মানবিকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হবে।
কর্মসূচির শেষ পর্বে উপস্থিত সবাই শহীদ তানবীর ছিদ্দিকীসহ জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁদের আদর্শ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তরের মানুষের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানানো হয়।
জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ধারণ করে আয়োজিত এই কর্মসূচি শুধু একজন শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি ছিল আত্মত্যাগ, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি জাতির দায়বদ্ধতার একটি প্রতীকী প্রকাশ।

 


এ জাতীয় আরো খবর