আন্তরিক অভিনন্দন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)কে।১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। যে কোন দেশের নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিনের একটা বিশেষ পরিকল্পণা থাকে।বিএনপিরও নিশ্চয় আছে।১৪ ফেব্রুয়ারী এক সংবাদ সম্মেলনে দেশী বিদেশী সাংবাদিকদের সামনে দলটির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান তাদের পরিকল্পণার কিছু কিছু উল্লেখ করেছেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন।
তবে বিশ্বাস পুনর্গঠন, অর্থনীতি স্থিতিশীল করা এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে আস্থা ফিরিয়ে আনাই বিএনপির প্রথম ১০০ দিনের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিৎ বলে মনে করি।এ লক্ষ্যে ৩ ধাপে ১০০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা কেমন হবে সেটা সাজানো যেতে পারে-
১ম ধাপ:
প্রথম ৩০ দিন-'বিশ্বাস পুনর্গঠন ও স্থিতিশীলতা'
১. জাতীয় ঐকমত্য সংলাপ
-সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতীয় সংলাপ।
-রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধে সর্বদলীয় নীতিমালা।
২. অর্থনীতির জরুরি স্থিতিশীলতা প্যাকেজ
-দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বিশেষ টাস্কফোর্স।
-বাজার মনিটরিং জোরদার ও সিন্ডিকেট বিরোধী অভিযান।
-রিজার্ভ ও ডলার সংকট মোকাবিলায় দ্রুত নীতি সমন্বয়।
৩. প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিতকরণ
-জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনে নিরপেক্ষতার বার্তা।
-মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন কমিশন।
৪. গণমাধ্যম ও ডিজিটাল স্বাধীনতা
-বিতর্কিত ধারাগুলো পর্যালোচনায় বিশেষ কমিটি।
-সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নীতিমালা।
২য় ধাপ:
৩১-৬০ দিন-'সংস্কার ও জবাবদিহি'
৫. নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার রূপরেখা
-নির্বাচন কমিশনের কাঠামোগত সংস্কার প্রস্তাব।
-সংসদে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ ব্যবস্থার আলোচনা।
৬. দুর্নীতি দমন জোরদার
-উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতির তালিকা প্রকাশ।
-সরকারি ক্রয়ে ই-টেন্ডার বাধ্যতামূলক।
৭. ব্যাংক ও আর্থিক খাত সংস্কার
-খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার টাস্কফোর্স।
-ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত।
৮. কর্মসংস্থান কর্মসূচি
-যুব উদ্যোক্তা তহবিল চালু।
-আইটি ও রপ্তানিমুখী খাতে কর প্রণোদনা।
৩য় ধাপ:
৬১-১০০ দিন-'দৃশ্যমান পরিবর্তন'
৯. সামাজিক সুরক্ষা ও জনকল্যাণ
-নিম্নআয়ের মানুষের জন্য খাদ্য ও ভর্তুকি পুনর্বিন্যাস।
-স্বাস্থ্যখাতে জেলা পর্যায়ে বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প।
১০. স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ
-ইউনিয়ন ও পৌরসভায় সরাসরি বরাদ্দ বৃদ্ধি।
-স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক জবাবদিহি ব্যবস্থা।
১১. শিক্ষা ও প্রযুক্তি
-কারিগরি শিক্ষায় দ্রুত ভর্তি বৃদ্ধি।
-সরকারি সেবা ডিজিটালাইজেশনের রোডম্যাপ।
১২. বৈদেশিক সম্পর্ক পুনর্গঠন
-প্রতিবেশী দেশ ও প্রধান উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সংলাপ।
-প্রবাসী আয়ের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ।
১০০ দিনের মাপকাঠি
-দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীলতার দৃশ্যমান অগ্রগতি
-প্রশাসনে নিরপেক্ষতার বার্তা প্রতিষ্ঠা
-অন্তত ৩টি বড় সংস্কার বিল সংসদে উত্থাপন
-ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ আদায়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ
-রাজনৈতিক সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস
উপসংহারঃ
প্রথম ১০০ দিন হবে প্রতিশ্রুতির নয়, আস্থার পরীক্ষা। যদি সরকার দ্রুত ও দৃশ্যমান পরিবর্তনের বার্তা দিতে পারে-বিশেষ করে অর্থনীতি, আইন-শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে-তাহলে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের ভিত্তি মজবুত হবে।
লেখকঃ কলামিস্ট,সোস্যাল এক্টিভিস্ট।