রবিবার, মে ৩১, ২০২৬

ক্ষমতার চেয়েও ঐক্য বড়-বিএনপি এলে সহযোগিতার বার্তা দিলেন এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০২-০৪ ১৮:৫২:০৪
ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতায় গেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জোট সরকার গঠনে আশাবাদী হলেও, ভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতায় এলে এনসিপির অবস্থান কী হবে-তা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'দ্য উইক'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাহিদ ইসলাম বলেন, জনগণের ম্যান্ডেটের মাধ্যমে যেকোনো সরকার গঠিত হলে এনসিপি তা মেনে নেবে। তার ভাষায়, 'সংস্কার গণভোটে পাস হলে এবং সরকার তা বাস্তবায়নে আন্তরিক হলে আমরা দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে সহযোগিতা করব। কে ক্ষমতায় আছে, তার চেয়ে জাতীয় ঐক্য আমাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।'
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের জন্য রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করা জরুরি। এই প্রক্রিয়ায় গণভোটকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।
জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোট নিয়ে নাহিদ ইসলাম ব্যাখ্যা করে বলেন, এটি মূলত আসনভিত্তিক নির্বাচনি সমঝোতা। তবে কিছু মৌলিক বিষয়ে দুই দলের মধ্যে মিল রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিপ্লব-পরবর্তী কাঠামোগত সংস্কার। এ লক্ষ্যে একটি ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং সেই সংস্কার প্রস্তাব জনগণের অনুমোদনের জন্য গণভোটে তোলা হচ্ছে। এনসিপি এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সক্রিয়ভাবে প্রচার চালাচ্ছে।
দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে জোটের আরেকটি প্রধান অভিন্ন লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আধিপত্যবাদী প্রভাবের বিরোধিতাকে এনসিপির রাজনৈতিক দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম।
জামায়াত-এনসিপি জোটের নির্বাচনি সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, জোটের অংশ হিসেবে এনসিপি প্রায় ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। নতুন দল হওয়ায় আসনসংখ্যা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো পূর্বাভাস দিতে না পারলেও তিনি আশাবাদী যে নির্বাচন হবে প্রতিযোগিতামূলক এবং জোট ভালো ফল করবে।
সরকার পরিচালনায় অভিজ্ঞতার প্রশ্নে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এখন নতুন ও তরুণ নেতৃত্ব দেখতে চায়। তার মতে, তথাকথিত অভিজ্ঞ রাজনৈতিক দলগুলো অতীতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। 'মানুষ এবার ভিন্ন কিছু চায়, নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি চায়'-বলেন তিনি।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। ‘একদিনে দুই ভোট’কে কেন্দ্র করে সরকার ও নির্বাচন কমিশন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। একই সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করতে প্রচার জোরদার করেছে।


এ জাতীয় আরো খবর