মানুষের কন্ঠে যে ধ্বনি উচ্চারিত হয় তা সকল অশুচিতার;
অশুভশক্তির বিরুদ্ধ কন্ঠস্বর শোনা যায়।
মানুষের কণ্ঠে ভাসে শুধুই বেদনাক্রান্ত মানুষের ব্যথা;
উঠে আসে পোড়খাওয়া জীবন-জমিনে একমুঠো অন্ন
আর নির্ভয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন নিয়ে বাঁচা জীবনের গল্প।
ধ্বনিস্বর ক্রমাগত শাসনে বাঁকবদল হলেও কল্যাণপথ বিশ্বাস-ঘাতকতা করে না;
পরাজিত মানুষ নিয়মিত প্রতারিত জেনেও শোষিত সময়ের মুন্ডু চেপে ঠিকই সে; একসময় কল্যাণনগরের চাড্ডায় ঢুকে পড়ে---ঢুকে দেখে ব্যর্থ সময়ের ইতিহাস এবং নিষ্ফল ধারাপাতে দেনার ঘাওয়ের সুদ-হিসাব কেমন করে নাগরিক সন্ধ্যা জমিয়ে তোলে ..!
দূরে একদল লালরঙা নাবালকেরা হাটুজল-কাদা মাড়িয়ে ছুটে আসতে থাকে---একসময় তারা ছড়িয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ সবুজে; পরাজিত মানুষেরা প্রশ্রয় খোঁজে তাদের ভেতর---তারা আশ্রয় পায়, তাদের কণ্ঠধ্বনির রঙ বদলে হলুদে, লালে, সবুজে মিশে মিশে যায়..!
তাদের কণ্ঠে কেবলি শোনা যায়; কল্যাণ হোক-মঙ্গল হোকঃ এইধ্বনি বারেবার ভেসে আসে।
তারা শুধু বলতে থাকে; যুদ্ধ নয়, বেড়ি নয়, আধিপত্য নয়, খুন, ধর্ষণও নয়! নয় আর কোন মানুষের অকল্যাণ।
দেশহীন মানুষের ভাষা, যন্ত্রহীন প্রেমিকের আশা; মানুষের কন্ঠে মিলিত করতে চায়।
মিলিত মানুষে মানুষ হয়ে ওঠার গল্পস্বর শোনা যায়---এই সুর, এই স্বর ধ্রুবধ্বনি হয়ে মানুষের কণ্ঠ আসে; মানুষেরা জয়গান গায়, জয়যাত্রাপথে মানুষের মিছিল যায়..!
মানুষই বারবার মানবমঙ্গলে ফিরে ফিরে আসে---তারা দেখতে পায়; আঁচলখানি পেতে বসে আছে আমাদেরই আশা, আমাদেরই আকাঙ্ক্ষা আর স্বপ্ন..!