খালা জিজ্ঞেস করে-
রূপা, তোমার বিয়ে কবে?
রূপা হাসে, শান্ত স্বরে-
“আমি আমার জীবন নিয়ে খুব সন্তুষ্ট,
বিয়ের সিদ্ধান্তটা
আমি নিজের সময়েই নেব।”
মামা বলে-
এত বয়স হলো, একা থাকতে ভালো লাগে?
রূপা জানালার দিকে তাকিয়ে--
“সব মানুষের সুখের সংজ্ঞা এক রকম হয় না,
আমারটা একটু আলাদা।”
পাশের বাসার আন্টি খোঁচা দেয়--
বিয়ের খাওয়াটা কবে খাবো বলো?
রূপা মৃদু হেসে--
“বিয়ের খাওয়া তো রোজই খাচ্ছি,
নিজের হাতে রান্না করে।”
কলিগ চা খেতে খেতে বলে--
অসুস্থ হলে, কষ্ট পেলে
দেখবে কে, ভাবো কখনো?
রূপা চায়ের কাপ নামিয়ে--
“আমি এখন যে জীবনটা বেছে নিয়েছি,
তাতেই আমি শান্তিতে আছি।”
বান্ধবী ফিসফিস করে--
কিন্তু সমাজ কী বলবে?
রূপা সোজা চোখে--
“আমি কারো উপর নির্ভর না করে
নিজের জীবন গুছাতে পেরেছি,
এটাই আমার কাছে সফলতা।”
দূরের আত্মীয় দীর্ঘশ্বাস ফেলে--
তুমি কি বিয়ে একদমই করবে না?
রূপা একটু থেমে--
“এই বিষয়টা আমি ব্যক্তিগত রাখতে চাই,
বারবার আলোচনা করতে স্বচ্ছন্দ নই।”
কেউ আবার সহানুভূতির ভান করে--
তোমার জন্য খারাপ লাগে!
রূপা এবার স্পষ্ট--
“বিয়ে না করাটা আমার সিদ্ধান্ত,
দুর্ভাগ্য নয়।”
অথচ এত বছরে কেউ একদিনও বলেনি “রূপা, তোমার জন্য
একটা ভালো মানুষ খুঁজে এনেছি,
দেখো, পছন্দ হলে ভেবো।”
কেউ শুধু জিজ্ঞেস করেছে--
কবে বিয়ে, কেনো করছো না,
আর কতদিন একা থাকবে,
কিন্তু কেউ একবারও বলেনি--
রূপা, তুমি আসলে কী চাও?
এখন চারপাশে অনেক কণ্ঠ,
কিন্তু রূপার ভেতরে একটাই শব্দ--শান্তি।
যেখানে জীবন মানে শুধু
একটা সামাজিক টিকচিহ্ন,
সেখানে রূপা দেখায়--
জীবন মানে দায়িত্ব নেওয়া,
নিজেকে সামলানো,
আর নিজের সিদ্ধান্তে দাঁড়াতে পারা।
সমাজ,
তুমি যাকে অসম্পূর্ণ ভাবো
সে আসলে পূর্ণই আছে।
অসম্পূর্ণ তুমি--
কারণ তুমি সারাজীবন প্রশ্ন করেছ,
কিন্তু কোনোদিন
একটা সমাধান হয়ে ওঠোনি।