বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে সরাসরি “ভুল ও বিভ্রান্তিকর” আখ্যা দিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস। তিনি বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় গেব্রেয়েসুস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হু ছাড়ার পেছনে যে কারণগুলো তুলে ধরেছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার মতে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দুর্বল হলে ভবিষ্যৎ মহামারি ও স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
তিনি জানান, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই যুক্তরাষ্ট্র হু-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ছিল এবং সংস্থাটির বহু সাফল্যের পেছনে দেশটির ভূমিকা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, হু সব সময়ই সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে নিরপেক্ষভাবে কাজ করে এসেছে।
হু প্রধান আশা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র আবার সংস্থাটিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হবে। ততদিন পর্যন্ত হু তার সাংবিধানিক দায়িত্ব অনুযায়ী সব দেশের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে, যাতে স্বাস্থ্য সেবা সবার জন্য একটি মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে নিশ্চিত করা যায়।
এদিকে কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় ব্যর্থতার যে অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র তুলেছে, তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। হু বলছে, মহামারির শুরু থেকেই তারা তথ্য আদান-প্রদানে স্বচ্ছতা বজায় রেখেছে এবং কোনো দেশ বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক স্বার্থে কাজ করেনি।
আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী এক বছরের নোটিশ শেষে গত ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে হু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ৭৮ বছরের সদস্যপদের অবসান ঘটেছে।
কী-ওয়ার্ডসঃহু যুক্তরাষ্ট্র,বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা,গেব্রেয়েসুস বক্তব্য