শনিবার, মে ৩০, ২০২৬

কান্নার আড়ালে ষড়যন্ত্র, স্বামীর খুনে বাদীই এবার আসামি

  • কক্সবাজার প্রতিনিধি:
  • ২০২৬-০১-২৪ ২০:১৭:১৭
ছবি: সংগৃহীত।

কক্সবাজারের পেকুয়ায় আলোচিত জসিম উদ্দিন হত্যাকাণ্ডে নাটকীয় মোড় এসেছে। স্বামীর হত্যার ঘটনায় যিনি কাঁদতে কাঁদতে মামলা করেছিলেন, সেই স্ত্রী সেলিনা আক্তারকেই এবার প্রধান আসামি হিসেবে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, পরকীয়ার সম্পর্ক আড়াল করতেই পুরো হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কক্সবাজার শহরের পিটি স্কুল এলাকা থেকে সেলিনা আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, দীর্ঘ তদন্তে তার দেওয়া বয়ান, ঘটনাস্থলের আলামত এবং প্রযুক্তিগত তথ্যের মধ্যে গুরুতর অসংগতি ধরা পড়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১০ আগস্ট রাতে পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের জারুলবুনিয়া সেগুন বাগিচা এলাকায় নিজ ঘরে খুন হন জসিম উদ্দিন। পরদিন সকালে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল।
ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী সেলিনা আক্তার পেকুয়া থানায় মামলা করেন। সেখানে তিনি প্রতিবেশীদের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের কথা উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, রাতে কয়েকজন ব্যক্তি ঘরে ঢুকে তার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করে। তিনি নিজে পাশের ঘরে লুকিয়ে প্রাণে বেঁচে যান বলেও দাবি করেন।
তবে তদন্তের শুরু থেকেই পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয়। ঘরের দরজা-জানালায় জোরপূর্বক প্রবেশের কোনো চিহ্ন না পাওয়া, সময় ও ঘটনার বর্ণনায় গরমিল এবং আলামতের সঙ্গে বয়ানের অসামঞ্জস্য তদন্তকে ভিন্ন দিকে নেয়।
পরবর্তীতে মোবাইল ফোনের কললিস্ট, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং স্থানীয়দের গোপন তথ্য বিশ্লেষণে পুলিশ জানতে পারে, সেলিনা আক্তারের সঙ্গে একই এলাকার আব্দুর রাজ্জাক নামে এক ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। পুলিশের ধারণা, ঘটনার রাতে জসিম উদ্দিন ওই সম্পর্কের বিষয়টি জানতে বা আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন। এরপরই তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুনয়ন বড়ুয়া জানান, প্রাথমিক মামলার তথ্যের সঙ্গে বাস্তব আলামতের মিল না থাকায় বিকল্প সব দিক খতিয়ে দেখা হয়। এতে প্রথম মামলাটি যে বিভ্রান্তিমূলক ছিল, তা স্পষ্ট হয়।
ঘটনার প্রায় এক মাস পর নিহতের বাবা মো. নুর আহমদ নতুন করে হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় সেলিনা আক্তারকে প্রধান আসামি এবং তার কথিত পরকীয়া সঙ্গী আব্দুর রাজ্জাকসহ আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়।
পেকুয়া থানার ওসি খাইরুল আলম জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কীওয়ার্ডসঃজসিম উদ্দিন হত্যা,পেকুয়া কক্সবাজার,স্ত্রী প্রধান আসামি


এ জাতীয় আরো খবর